দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট আগামী ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। জাতীয় সংসদে বিরোধী দল বা ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে প্রার্থী ঘোষণা হওয়ায় এবার রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে মনোনয়নপত্র জমা, যাচাই-বাছাই ও প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্তভাবে নির্বাচনে কতজন প্রার্থী থাকছেন, তা নিশ্চিত নয়।
রোববার (০৯ আগস্ট) দুপুরে জোটের বৈঠক শেষে ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হিসেবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নাম ঘোষণা করা হয়। জোটের অন্যতম শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এ ঘোষণা দেন।
অন্যদিকে, রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দেওয়ার জন্য দুটি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছে সরকারদলীয় বিএনপি। রোববার সকালে নির্বাচন কমিশন ভবন থেকে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবীর রিজভী মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। তবে দলের পক্ষ থেকে কয়েকজনের নাম আলোচনায় থাকলেও এখনো চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়নি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্রপতি প্রার্থী চূড়ান্ত করবেন বলে জানা গেছে।
সরকারি দল ও বিরোধী জোটের প্রার্থিতা চূড়ান্ত হলে ২০ আগস্ট সংসদ সদস্যদের ভোটে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ‘নির্বাচনী কর্তা’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কেবল একবার রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ভোট হয়েছিল। ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠনের পর সংসদ সদস্যদের ভোটে আবদুর রহমান বিশ্বাস রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থী বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী। এরপর অনুষ্ঠিত সব রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেই প্রার্থী একজন থাকায় তারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
এবারও বিএনপির সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির সমর্থন ছাড়া অন্য কোনো প্রার্থীর জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
এর আগে বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গত ২৪ জুলাই পদত্যাগ করেন। তার পদত্যাগের পর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একজন প্রার্থী থাকলে এবং যাচাই-বাছাই শেষে তার মনোনয়নপত্র বৈধ হলে নির্বাচন কমিশন তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করবে। একাধিক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ হলে তাদের মধ্যে ভোট অনুষ্ঠিত হবে।
সংসদ অধিবেশন না থাকলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী স্পিকার সাত দিন আগে সংসদের বৈঠক আহ্বান করতে পারেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপলক্ষে জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকা হবে বলে জানিয়েছেন সরকারি দলের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অধিবেশনটি স্বল্পমেয়াদি হবে।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১৩ আগস্ট রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৮ আগস্ট।
একজন প্রার্থী একাধিক মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন। যাচাই-বাছাই শেষে একটি মনোনয়নপত্র বৈধ হিসেবে চূড়ান্ত হবে। একাধিক বৈধ প্রার্থী থাকলে আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।