মনিরুল ইসলাম: দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন—এ প্রশ্নে এখন জোর আলোচনা চলছে। ক্ষমতাসীন দল ও জোটের ভেতরে-বাইরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন রাজনৈতিক নেতারা।
সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, রাষ্ট্রপতি পদে কে আসবেন তা চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে। তিনি ইঙ্গিত দেন, বিষয়টি নিয়ে দলের ভেতরে আলোচনা চলছে এবং খুব শিগগিরই একটি গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হবে।
আলোচনায় যেসব নাম
রাজনৈতিক মহলে সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে কয়েকজনের নাম ঘুরে বেড়াচ্ছে। এর মধ্যে সাবেক কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত ব্যক্তিত্ব আইরিন খানের নামও আলোচনায় উঠে এসেছে। তার অভিজ্ঞতা, আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা এবং মানবাধিকার বিষয়ে কাজের কারণে তাকে একটি ‘সমঝোতার প্রার্থী’ হিসেবে দেখছেন অনেক বিশ্লেষক।
এছাড়া দলীয় রাজনীতির ভেতর থেকেও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম শোনা যাচ্ছে, যদিও সেগুলো এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ পায়নি। তবপ আলোচনায় রয়েছেন হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিত্রুম, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. মঈন খান, বেগম সেলিমা রহমান।
মির্জা ফখরুলকে সেরা রাস্ট্রপতি হিসেবে উল্লেখ করে পোষ্ট দিয়েন সমালোচিত- আলোচিত সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। এছাড়া মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে সাফাই গেয়ে আরেক পোষ্ট দেন শফিকুল আলম।
রাষ্ট্রপতি পদেরই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
শুক্রবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
এদিকে, সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, রাজনৈতিক ভারসাম্য, গ্রহণযোগ্যতা এবং আন্তর্জাতিক ইমেজ—এই তিন বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েই প্রার্থী বাছাই করা হতে পারে।
সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের সমর্থনেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ফলে দলীয় সিদ্ধান্তই এখানে মুখ্য ভূমিকা রাখবে। জানা গেছে, স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে এবং সেখান থেকেই একটি বা একাধিক নাম চূড়ান্ত করা হতে পারে।
আজ শনিবার আইনমন্ত্রী মো আসাদুজ্জামান এক অনুষ্ঠানে বলেন, সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে রাস্ট্রপতি নির্বাচন হবে। সংবিধানের ১২৩ (২) অনুচ্ছেদ অনুসারে, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। আগামী ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত আমাদের হাতে সময় আছে।