শিরোনাম

প্রকাশিত : ০৯ জুলাই, ২০২৬, ০২:২৭ দুপুর
আপডেট : ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : মনিরুল ইসলাম

নদী বাঁচাতে না পারলে খাদ্য নিরাপত্তা রক্ষা সম্ভব নয়, সবুজ বাংলাদেশ গড়তে মেগা পরিকল্পনার কথা জানালেন প্রধানমন্ত্রী

মনিরুল ইসলাম: ‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা-২০২৬ এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬-এর উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এ দুই আয়োজনের উদ্বোধন করেন তিনি।

এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার যে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও নদী খনন করছে তা কৃষকদের সুবিধা দেয়ার পাশপাশি পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখবে। সরকারের নেয়া উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে পারলে নিরাপদ সুবজ বাংলাদেশ সম্ভব বলে জানান তিনি। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা আগে যতোটা সবুজ ছিলো এখন আর নাই।  প্রতিটি পরিবার গাছ রোপন করলে সবুজায়নের সামাজিক আন্দোলন রূপ লাভ করবে। সবুজায়নে সামাজিক আন্দোলনের পাশাপাশি সরকারের নেয়া উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে পারলে নিরাপদ সুবজ বাংলাদেশ সম্ভব। 

প্রধানমন্ত্রী জানান, ৫ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। কোন মাটিতে, কোন আবহাওয়ায়, কোন গাছ হবে তার দিকে লক্ষ রেখেই গাছ রোপন করতে হবে। দেশীয় গাছ রোপনের উৎসাহিত করতে হবে। বৃক্ষ রোপন বা বনায়ন শেষ কথা নয়, এটা পশু পাখির আহারের যোগান দিতে পারে কিনা সেটিও বিবেচনায় রাখতে হবে। মাদার ট্রি যাতে রক্ষা পায় এবং কেটে না ফেলা হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। সরকার পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে বন উজার, বন্য  প্রাণী রক্ষায় সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। পশুপাখি কীট-পতঙ্গ রক্ষা করতে হবে। শিশুদেরকেও এ বিষয়ে শিক্ষা দিতে হবে। নদীগুলো বাঁচাতে না পারলে কৃষি খাদ্য নিরাপত্তা কোনটাই রক্ষা করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। 

advertisement

পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি শুরু হয়। পরে অন্যান্য ধর্মগ্রন্থ থেকেও পাঠ করা হয়। এরপর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন খাতে বর্তমান সরকারের সাফল্য নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পরিবেশ পদক-২০২৫, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জাতীয় পুরস্কার-২০২৬ এবং বৃক্ষরোপণে জাতীয় পুরস্কার-২০২৫ প্রদান করেন। এছাড়া সামাজিক বনায়নের উপকারভোগীদের মধ্যে লভ্যাংশের চেক বিতরণ করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ুবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম।

অনুষ্ঠান শেষে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র প্রাঙ্গণে প্রধানমন্ত্রী একটি করে জলপাই, জারুল ও নিম গাছের চারা রোপণ করেন। পরে তিনি পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে আয়োজিত জাতীয় বৃক্ষমেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।

পরিবেশ সংরক্ষণ, বন সম্প্রসারণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর লক্ষ্যে এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। রাজধানীতে পরিবেশ মেলা ও মাসব্যাপী জাতীয় বৃক্ষমেলার পাশাপাশি সাতটি বিভাগীয় শহরে ১৫ দিনব্যাপী, ৫৬টি জেলা সদরে সাত দিনব্যাপী এবং ২৯টি উপজেলায় তিন দিনব্যাপী বৃক্ষমেলার আয়োজন করা হচ্ছে। ঢাকার জাতীয় বৃক্ষমেলায় অংশ নিয়েছে ১২০টি স্টল। 

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে একটি বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে। 

এ কর্মসূচির আওতায় জিআইএস, রিমোট সেন্সিং, ন্যাশনাল ট্রি ডাটাবেজ এবং ড্রোন প্রযুক্তির মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে বনায়ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হবে। এর মাধ্যমে প্রায় সাড়ে তিন লাখ নতুন সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ১০ হাজার নতুন নার্সারি উদ্যোক্তা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

  • সর্বশেষ