মনিরুল ইসলাম: ফারাক্কা বাঁধের কারণে সৃষ্ট পানিসংকট মোকাবিলায় সরকার পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ।
বুধবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স (বিটিএস) এবং অক্সফাম ইন বাংলাদেশের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘ন্যাশনাল-লেভেল কমিউনিটি বেইজড অর্গানাইজেশন (সিবিও) সামিট-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
বিটিএসের নির্বাহী পরিচালক রোকসানা সুলতানার সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ড. সাইমুম পারভেজ বলেন, “আমরা একটি ব্যারেজ নির্মাণ করব, যেখানে পানি সংরক্ষণ করা হবে। এর মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুমে খাল ও অন্যান্য জলাশয়ে পানির সুষ্ঠু প্রবাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার এই উদ্যোগ জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রতিবেশ পুনরুদ্ধারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
তিনি বলেন, ফারাক্কা বাঁধসহ বিভিন্ন কারণে বাংলাদেশ তার ন্যায্য হিস্যার পানি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ফলে শুষ্ক মৌসুমে নদী, খাল ও জলাশয়ের পানিপ্রবাহ কমে যাচ্ছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে কৃষি, জীববৈচিত্র্য এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবিকায়। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
পরিবেশ ও জলবায়ু ইস্যুকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এবারের জাতীয় নির্বাচনে পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু অভিযোজনকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, যা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
ড. সাইমুম পারভেজ জানান, সরকার পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর অঙ্গীকার করেছে। পাশাপাশি ইকোসিস্টেম পুনরুদ্ধারের অংশ হিসেবে খাল পুনঃখনন, কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধির পরিকল্পনাও রয়েছে।
জলবায়ু অর্থায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে খুব সামান্য অবদান রাখলেও জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগীদের মধ্যে অন্যতম। তাই জলবায়ু অর্থায়ন ঋণভিত্তিক নয়, অনুদানভিত্তিক হওয়া উচিত। জলবায়ু সংকটের জন্য দায়ী দেশগুলোকেই এ দায়িত্ব নিতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু অভিযোজন কার্যক্রমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে নারী ও তরুণদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন ও জলবায়ু ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
সামিটে বক্তব্য দেন অক্সফাম ইন বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর মাহমুদ সুলতানা। তিনি বলেন, জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও যুবসমাজের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং তাদের নেতৃত্বকে আরও শক্তিশালী করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
দুই দিনব্যাপী এই সামিটে জলবায়ু ন্যায়বিচার, জলবায়ু সহনশীলতা, জেন্ডার সমতা এবং প্রতিবেশ পুনরুদ্ধারে কমিউনিটি-ভিত্তিক সংগঠন (সিবিও) ও যুব সংগঠনগুলোর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হবে। এতে নীতিনির্ধারক, উন্নয়নকর্মী, গবেষক, তরুণ নেতা এবং সিবিও প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।
অনুষ্ঠানে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন এবং টেকসই পরিবেশ গঠনে স্থানীয় পর্যায়ের অভিজ্ঞতা, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।