শিরোনাম
◈ ‘ভারত যা চাইবে তাই পাবে’: মোদিকে নিয়ে ট্রাম্পের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা ◈ কারখানা প্রস্তুত, নেই গ্যাস: ঋণের চাপে দিশেহারা শিল্প উদ্যোক্তারা, থমকে গেছে হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ ◈ পুঁজিবাজারে নতুন বড় কোম্পানি: বিআরবি ক্যাবলের আইপিওর প্রস্তুতি শুরু ◈ বাংলাদেশে ধর্ষণ ও হত্যার আলোচিত ছয়টি মামলা কী অবস্থায় আছে?  ◈ কোরবানির পরবর্তী সাতদিন ঢাকার বাইরে থেকে চামড়া ঢাকায় প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে ◈ ট্রাম্পের 'পাগলামি' ও বিশ্বরাজনীতিতে আমেরিকার একাকীত্ব  ◈ কুয়েতে ২৪০ টন খাদ্য সহায়তা দিচ্ছে বাংলাদেশ ◈ চিনিযুক্ত পণ্যে কর কমানোর ভাবনা, স্বয়ংক্রিয় ট্যাক্স রিফান্ড চালুর পরিকল্পনা এনবিআরের ◈ ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে রডবোঝাই ট্রাক খাদে উল্টে নিহত ১৫ ◈ ঈদে জাতীয় ঈদগাহে থাকছেন তারেক রহমান, নিজ নিজ এলাকায় নামাজ পড়বেন মন্ত্রীরা

প্রকাশিত : ২৪ মে, ২০২৬, ০২:১৭ রাত
আপডেট : ২৫ মে, ২০২৬, ০১:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

রাজধানীর পশুর হাট ইজারায় নতুন রেকর্ড, সবচেয়ে ব্যয়বহুল দিয়াবাড়ি হাট

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের ১৬টি পশুর হাটের ইজারা সম্পন্ন হয়েছে। ক্ষমতার পালাবদলের পর সম্পূর্ণ উন্মুক্ত প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে এবার রেকর্ড দামে হাটগুলো ইজারা দেওয়া হয়েছে।

এতে দুই সিটি কর্পোরেশনের রাজস্ব আদায় হয়েছে প্রায় ৪৮ কোটি টাকা, যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
চলতি বছর রাজধানীতে দুই সিটির অধীনে মোট ২৬টি অস্থায়ী পশুর হাট বসছে।

এর মধ্যে ১০টি হাটের জন্য দরপত্র না পাওয়ায় ইজারা সম্পন্ন হয়নি। সেগুলোর বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
এদিকে ইজারা পাওয়া ব্যক্তিরা বলছেন, দীর্ঘদিন পর তারা ‘স্বাভাবিকভাবে’ দরপত্রে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। আর সিটি কর্পোরেশন বলছে, রাজনৈতিক পরিচয় নয়, বরং সর্বোচ্চ দরই ছিল এবারের ইজারায় মূল বিবেচ্য।

গত ১৬ এপ্রিল ১১টি হাট ইজারার জন্য বিজ্ঞপ্তি দেয় ডিএসসিসি। এরপর ১৪ মে পর্যন্ত ৯টি হাটের ইজারায় সর্বোচ্চ দরদাতা মিলেছে। এর মধ্যে ৪ কোটি ১ লাখ টাকায় পোস্তগোলা শ্মশানঘাটের পশ্চিম পাশের বুড়িগঙ্গা নদীর পাড়ের খালি জায়গায় হাটের ইজারা পেয়েছেন কাজী মাহবুব মাওলা হিমেল।

৩ কোটি ১২ লাখ ৩৬ হাজার টাকায় উত্তর শাহজাহানপুর মৈত্রী সংঘ ক্লাবের খালি জায়গায় আনিসুর রহমান টিপু, ২ কোটি ১৫ লাখ টাকায় আমুলিয়া মডেল টাউনের খালি জায়গায় মো. জয়নাল আবেদীন রতন, ৪ কোটি ২০ লাখ টাকায় শিকদার মেডিকেল সংলগ্ন আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের খালি জায়গায় মেসার্স সাফি এন্টারপ্রাইজের প্রোপাইটর নাফিজ কবির, ৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকায় কাজলা ব্রিজ থেকে মাতুয়াইল মৃধাবাড়ী পানির পাম্প পর্যন্ত রাস্তায় অব্যবহৃত খালি জায়গায় কে বি ট্রেডের প্রোপাইটর মো. শামীম খান ইজারা পেয়েছেন।

৭০ লাখ টাকায় মোস্তমাঝি মোড় সংলগ্ন গ্রিন বনশ্রী হাউজিংয়ের খালি জায়গায় মো. গোলাম হোসেন, ১ কোটি ৪০ লাখ টাকায় ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাবের দক্ষিণ পূর্ব পাশে খালি জায়গায় মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন, ৫৩ লাখ ৯৩ হাজার ৩৩৪ টাকায় গোলাপবাগের আউটফল স্টাফ কোয়ার্টারের উত্তর পাশে খালি জায়গায় বারাকা এন্টারপ্রাইজের প্রোপাইটর আমির হোসেন, ৭৫ লাখ ১৮ হাজার টাকায় রহমতগঞ্জ ক্লাবের খালি জায়গায় রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস সোসাইটির সভাপতি টিপু সুলতান কোরবানির পশুর হাটের ইজারা পেয়েছেন।

বাকি দুই হাটের কাঙ্ক্ষিত দর ও দরপত্র পাওয়া যায়নি। এগুলো হলো– সাদেক হোসেন খোকা খেলার মাঠ সংলগ্ন খালি জায়গা ও শ্যামপুর কদমতলী ট্রাক স্ট্যান্ডের খালি জায়গায়। এসব হাটের পুনঃদরপত্র আহ্বান করা হবে নাকি খাস আদায়ের মাধ্যমে পশুর হাট বসবে, সে বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি।

ডিএসসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোবাশ্বের হাসান বলেন, এখন পর্যন্ত ৯টি হাটের ইজারা সম্পন্ন হয়েছে। বাকি দুটি হাটে কাঙ্ক্ষিত দর পাওয়া যায়নি। তাই বিধি অনুযায়ী এ দুটি হাটের বিষয়ে কী করণীয়, তা জানতে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে মতামত চাওয়া হয়েছে।

ডিএসসিসি সূত্র জানায়, এবার ১১টি স্থায়ী ও অস্থায়ী হাটের মধ্যে আটটি ইজারা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বিএনপি নেতারা অন্তত ছয়টি ও জামায়াত নেতারা একটি হাটের ইজারা পেয়েছেন। বাকি একটি পেয়েছেন অরাজনৈতিক এক ব্যবসায়ী।

শ্যামপুর থানা বিএনপির সদস্যসচিব কাজী মাহবুব মওলা হিমেল পোস্তগোলা শ্মশানঘাটের হাটের ইজারা পেয়েছেন। উত্তর শাহজাহানপুর মৈত্রী সংঘ ক্লাবের হাটের ইজারা পাওয়া আনিসুর রহমান টিপু নিজেকে অরাজনৈতিক দাবি করে বলেন, জেদ করে চড়া দামে হাট নিয়েছেন তিনি। ডেমরা থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি জয়নাল আবেদীন রতন আমুলিয়া মডেল টাউনের হাটের ইজারা পেয়েছেন।

কাজলা ব্রিজ এলাকার হাটের ইজারা পাওয়া কে বি ট্রেডের স্বত্বাধিকারী শামীম খান বলেন, ‘হাটটি মূলত জামায়াত নেতা পেয়েছেন। পরে তারা বিএনপির সঙ্গে সমঝোতা করেছেন।’

সূত্র জানায়, ওই হাটের ৩০ শতাংশ শেয়ার বিএনপি ও ৭০ শতাংশ জামায়াত নেতাকর্মীদের। গুঞ্জন রয়েছে, এর নেপথ্যে রয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য।

বনশ্রী হাউজিংয়ের ইজারা পেয়েছেন বিএনপির সাবেক কমিশনার গোলাম হোসেন। ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাব সংলগ্ন হাট পেয়েছেন মতিঝিল থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন। তিনি বলেন, জামায়াত নেতারা ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা দর দিলেও ৩ কোটি ১ লাখ টাকায় তিনি হাট পেয়েছেন।

হাজারীবাগ হাটের ইজারা পেয়েছে নাফিজ কবিরের সাফি এন্টারপ্রাইজ। অভিযোগ রয়েছে, এই হাটের নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি খালিদ মাহমুদ জ্যাকি ও বিএনপি নেতা মো. সুমন। এর নেপথ্যে একজন শীর্ষ সন্ত্রাসীর প্রভাব রয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। তাছাড়া গোলাপবাগ হাটের ইজারা পাওয়া আমির হোসেন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।

গত ৯ এপ্রিল ১২টি ও ২৮ এপ্রিল চারটি হাটের নাম উল্লেখ করে পৃথক দরপত্র আহ্বান করে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)। পরে ১ কোটি ৭৯ লাখ টাকায় মিরপুর সেকশন-৬ এর ইস্টার্ন হাউজিং সংলগ্ন খালি জায়গা ইজারা পান মেসার্স ইসলাম এন্টারপ্রাইজের প্রোপাইটর মো. সিরাজুল ইসলাম। ৩০ লাখ ১১ হাজার টাকায় মিরপুর কালশী বালুর মাঠ সংলগ্ন খালি জায়গায় রেদোয়ান রহমান, ৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকায় ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট সংলগ্ন খালি জায়গায় শিকদার এন্টারপ্রাইজের প্রোপাইটর মো. আমিনুল ইসলাম, ১২ লাখ ৫৩ হাজার টাকায় ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব হাজীপাড়ার ইকরা মাদ্রাসার পাশের খালি জায়গায় এম আসলাম, ১৪ কোটি ১৫ লাখ টাকায় উত্তরা দিয়াবাড়ির ১৬ ও ১৮ নম্বর সেক্টর সংলগ্ন বউ বাজার এলাকায় এস এফ কর্পোরেশনের স্বত্বাধিকারী মো. শেখ ফরিদ হোসেন ইজারা পেয়েছেন।

এছাড়া ২৭ লাখ টাকায় ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাঁচপকুড়া বাজার সংলগ্ন রহমান নগর আবাসিক এলাকায় রফিকুল ইসলাম সরকার, ৩ কোটি ৭ লাখ টাকায় খিলক্ষেতের মস্তুল চেকপোস্ট সংলগ্ন পশ্চিম পাড়ার খালি জায়গায় বিল্লাল হোসেন, ১ কোটি ৮০ লাখ ১০ হাজার টাকায় বনরুপা আবাসিক প্রকল্প এলাকায় আরিফিন অ্যান্ড আরা এন্টারপ্রাইজের মালিক মুহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ, ২ কোটি ৩৩ লাখ টাকায় বাড্ডার স্বদেশ প্রপার্টিজের খালি জায়গায় মুহাম্মদ তুহিনুর ইসলাম, ৫ কোটি ৭০ লাখ টাকায় বড় বেরাইদে ভাটারা থানা এলাকার খালি জায়গায় এ এম এন্টারপ্রাইজের প্রোপাইটর মো. আতাউর রহমান হাট ইজারা পেয়েছেন।

এর মধ্যে খিলক্ষেত বাজার সংলগ্ন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচের জায়গা (১ কোটি ৫১ লাখ টাকা), ২১ নম্বর ওয়ার্ডের মেরুল বাড্ডা কাঁচাবাজার সংলগ্ন খালি জায়গা (১৪ লাখ টাকা), মোহাম্মদপুরের বছিলার ৪০ ফুট রাস্তা সংলগ্ন খালি জায়গা (১ কোটি ৯৬ লাখ ২০ হাজার ৪৫৬ টাকা), ভাটারার সুতিভোলা খাল সংলগ্ন খালি জায়গা (৩ কোটি ১২ লাখ ৭৬ হাজার টাকা), ভাটুলিয়া সাহেব আলী মাদ্রাসা থেকে ১০ নম্বর সেক্টর রানাভোলা অ্যাভিনিউ সংলগ্ন উত্তরা স্লুইসগেট পর্যন্ত (৮৮ লাখ ২০ হাজার ৭৫০ টাকা টাকা), মহাখালীর টিঅ্যান্ডটি মাঠের জায়গায় (৫০ লাখ টাকা) হাট ইজারায় কাঙ্ক্ষিত দর ও দরপত্র পাওয়া যায়নি। এসব হাটে পুনঃদরপত্র চলমান রয়েছে।

ডিএনসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা জোবায়ের হোসেন বলেন, যে ১০টি হাটে সর্বোচ্চ দরদাতা পাওয়া গেছে, তাদের হাটের জায়গা বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি ছয়টি হাটে পুনঃদরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। কাঙ্ক্ষিত দর পেলে হাটগুলো ইজারা দেবে ডিএনসিসির সম্পত্তি বিভাগ।

ডিএনসিসি সূত্র জানায়, ১০টি হাটের মধ্যে রাজধানীর দিয়াবাড়ি পশুর হাট পাঁচ দিনের জন্য ১৪ কোটি টাকায় ইজারা পেয়েছেন মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শেখ ফরিদ। এবার ঢাকার সবচেয়ে ব্যয়বহুল পশুর হাট এটিই। এই সিটির বাকি হাটগুলো ইজারা পাওয়া ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এবার শুধু রাজনৈতিক পরিচয় নয়, হাট দখলে বড় ভূমিকা রেখেছে আর্থিক সক্ষমতা ও সাংগঠনিক প্রভাব। বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি ও জামায়াতের স্থানীয় নেতারা যৌথভাবে দরপত্রে অংশ নিয়েছেন বলেও জানা গেছে।

উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা হওয়ায় দর বেড়েছে
ইজারাদারদের ভাষ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রাজনৈতিক কারণে তারা এলাকায় থাকতে পারতেন না, দরপত্রে অংশ নেওয়াও কঠিন ছিল। এবার তারা দরপত্রে অংশ নিয়ে প্রতিযোগিতামূলক দর দিয়েছেন।

একাধিক ইজারাদার বলেন, ‘আগে নির্দিষ্ট সিন্ডিকেট কম টাকায় হাট পেয়ে যেত। এবার উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা হয়েছে। তাই দরও বেড়েছে।’

হাটগুলোতে নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায়ও পরিবর্তনের আশ্বাস দিচ্ছেন নতুন ইজারাদাররা। তাদের দাবি, ব্যাংকিং বুথ, সিসিটিভি নজরদারি, জেনারেটর ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে, যাতে ক্রেতা-বিক্রেতারা স্বস্তিতে লেনদেন করতে পারেন।

এদিকে পুরো প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক কোনো প্রভাব ছিল না বলে জানিয়েছে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন।

ঢাকা উত্তর সিটির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, ‘যারা শর্ত পূরণ করে সর্বোচ্চ দর দিয়েছেন, তাদেরই ইজারা দেওয়া হয়েছে। এখানে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচ্য নয়।’

দক্ষিণ সিটির প্রশাসক আব্দুস সালাম বলেন, ‘তিন ধাপে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ইজারা কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। কোনো ধরনের চাপ বা প্রভাব আমরা অনুভব করিনি।’ উৎস: বাংলানিউজ২৪

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়