ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া ২১ জন প্রার্থীকে জেল-জরিমানার হুঁশিয়ারি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব না দেওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা নিতে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশনাও দিয়েছে সাংবিধানিক এই সংস্থাটি।
আজ রোববার ইসি কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, এসব প্রার্থীকে দ্রুতই নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব দিতে বলা হয়েছে। এজন্য তাদের ১৪ জুন পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে হিসাব না দিলে দুই থেকে সাত বছরের জেল ও জরিমানার কথা বলা হয়েছে।
ইসির উপ-সচিব মোহাম্মদ মনির হোসেনের স্বাক্ষরে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যেসব প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নির্ধারিত সময়ে নির্বাচনী ব্যয়ের রিটার্ন দাখিল করেননি, তাদের রিটার্ন দাখিলের জন্য ৬ মে পর্যন্ত সময়সীমা বাড়ানো হয়েছিল। তা সত্ত্বেও যেসব প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী উক্ত সময়ের মধ্যেও ব্যয়ের রিটার্ন দাখিল করেননি, তাদের রিটার্ন দাখিলের জন্য ১৪ জুন পর্যন্ত সময়সীমা বৃদ্ধি করা জন্য নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। এক্ষেত্রে যারা না দেবেন হিসাব তাদের বিরুদ্ধে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ ৭৪ এর বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরপিওর ৭৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী- নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কোনো প্রার্থী বা তার নির্বাচনী এজেন্ট যদি অবৈধ চর্চা প্রমাণিত হন, তবে তিনি সর্বনিম্ন ২ বছর ও সর্বোচ্চ ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
যেসব প্রার্থী নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব জমা দেননি তারা হচ্ছেন- বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির মির্জা মো. শওকত আকবর (রওশন), বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (বাংলাদেশ জাসদ) হাবিব মো. ফারুক, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি’র আজিজুর রহমান সরকার, গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) নুরে এরশাদ সিদ্দিকী, আইনুর রহমান (জুয়েল) মিয়া ও আবু তৈয়ব, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের নবাব মো. শামসুল হোদা, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের (মুক্তিজোট) আব্দুল হালিম, আমজনতার দলের আলাউদ্দিন, জাতীয় পার্টির কামাল উদ্দিন, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) আবুল কালাম, আমজনতার দলের জালাল উদ্দীন রুমী, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) রফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির (বিআরপি) মো. লিটন, খেলাফত মজলিসের শেখ মুশতাক আহমদ, নাগরিক ঐক্যের এনামুল হক, জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ ফরিদুল আলম, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আবু সাঈদ মো. সূজাউদ্দীন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মোয়াজ্জেম হোসেন, মহিবুল্লাহ খোকন ও অধ্যাপক মো. জসিম উদ্দিন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট প্রার্থী ছিলেন ২ হাজার ২৮ জন। এর মধ্যে দলীয় প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৩ জন। ইসির নিবন্ধিত ৬০টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৫০টি এই নির্বাচনে অংশ নেয়।