পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নৌপথে যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন, ছাদে ভ্রমণ এবং ঝুঁকিপূর্ণভাবে লঞ্চে ওঠানামা থেকে বিরত থাকতে যাত্রীদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) প্রকাশিত এক জরুরি নৌবিজ্ঞপ্তিতে যাত্রীদের জন্য ১৬ দফা নির্দেশনা দেয় সংস্থাটি।
যাত্রীদের প্রতি নির্দেশনা সমূহ:
বিআইডব্লিউটিএ বলেছে, ঈদযাত্রায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রত্যেক যাত্রীকে টিকিট কেটে লঞ্চে উঠতে হবে এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি সঙ্গে রাখতে হবে। কোনো অবস্থাতেই অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে লঞ্চে ওঠা যাবে না।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, লঞ্চের ছাদে ভ্রমণ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এতে নৌযানের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়। তাই যাত্রীদের ছাদে না ওঠার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
আরও নির্দেশনা:
শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে লঞ্চে আরোহন/অবরোহন করুন। তাড়াহুড়া করে আরোহন/অবরোহন করে জীবনের ঝুঁকি ডেকে আনবেন না;
আবহাওয়ার পূর্বাভাস জেনে যাত্রা করুন। দুর্যোগপূর্ণ/খারাপ আবহাওয়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লঞ্চে ভ্রমণ করবেন না। কোনো অবস্থায় জীবনের ঝুঁকি নেবেন না। জরুরি প্রয়োজনে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্বরত কর্মকর্তার সহযোগিতা নিন;
পথিমধ্যে দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিলে ছুটাছুটি করবেন না। এ ধরনের পরিস্থিতিতে ধীরস্থির ও শান্তভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করুন;
পরিবার-পরিজনকে ঈদের ভিড় শুরু হওয়ার পূর্বেই আপনার গন্তব্যে পাঠিয়ে দিন;
নৌযানে আরোহন করে লাইফ জ্যাকেট ও লাইফ বয়া বুঝে নিন;
দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে নৌকা বা ট্রলার থেকে লঞ্চে উঠবেন না;
এছাড়া বলা হয়েছে যে, ঈদযাত্রায় অপরিচিত ব্যক্তির দেওয়া খাবার না খাওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পকেটমার, অজ্ঞান পার্টি ও ছিনতাইকারী চক্র সম্পর্কে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, চলন্ত লঞ্চে ট্রলার বা নৌকা থেকে ওঠানামা করা অত্যন্ত বিপজ্জনক। মাঝনদীতে ঝুঁকি নিয়ে লঞ্চে ওঠানামা না করতে যাত্রীদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া ঘাটে লঞ্চ আসার আগ পর্যন্ত টার্মিনালে অপেক্ষা করা, নিজের মালামাল নিজের দায়িত্বে রাখা এবং যেকোনো সমস্যায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
জরুরি প্রয়োজনে বিআইডব্লিউটিএর হটলাইন ১৬১১৩, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯, সরকারি তথ্যসেবা ৩৩৩, ফায়ার সার্ভিস ১০২ এবং কোস্টগার্ডের ১৬১১১ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।