শিরোনাম

প্রকাশিত : ২৬ জুন, ২০২২, ০১:০২ রাত
আপডেট : ২৬ জুন, ২০২২, ০৫:৫১ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রীর পাশে সবাই আছে, নেই শুধু মুহিত

উদ্বোধনের সময় মুহিত ছাড়া বাকি তিনজনই ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পাশে/ ছবি- সংগৃহীত

আখিরুজ্জামান সোহান: ২০১১ সালে যখন পদ্মা সেতু নির্মাণের চূড়ান্ত পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল তখন অর্থমন্ত্রী ছিলেন আবুল মাল আবদুল মুহিত। দীর্ঘ ১০ বছর পর সব ষড়যন্ত্রকে পাশ কাটিয়ে সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণ কাজ শেষে আজ উদ্বোধন হলো দেশের বৃহৎ স্থাপনা স্বপ্নের পদ্মা সেতু।

শনিবার (২৫ জুন) সকালে যখন পদ্মা সেতু উদ্বোধন হলো তখন প্রধানমন্ত্রীর পাশে উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন অর্থ উপদেষ্টা মসিউর রহমান, সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন ও তৎকালীন সেতু সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া। কিন্তু বাংলাদেশের সেই ঐতিহাসিক দিনে কেবল পাশে নেই বর্ষীয়ান নেতা সাবেক মন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

বলা যায় প্রধানমন্ত্রীর মুহিত সাহেব বা মুহিত চাচা না থাকলে হয়তো অর্থমন্ত্রলায়ের পক্ষে বাংলাদেশের কোন যুগান্তকারি সাহসী প্রকল্পে সায় কিংবা টাকা যোগান দেয়া সম্ভব হতোনা। মুহিত তার ইমেজ ও বিশ্বব্যাংকের ক্যারিশম্যাটিক দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে এরকম বড় বড় প্রকল্প শেখ হাসিনার হাতে এমনভাবে তুলে দেন-যেখান থেকে বাংলাদেশ নতুন এক সম্ভাবনার অপার এক সীমান্তে যাত্রা করে-যা দেখে বিশ্ব অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে। বিশ্বব্যাংকের সভায় কিংবা বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম, জি-৭ ও অন্যান্য প্রভাবশালী ফোরামে তাই আফসোস করে বলা হয়, আমাদের কাছেও যদি একজন মুহিত থাকতো।

স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধনের অনেক আগেই গত ২৯ এপ্রিল দিবাগত রাত ১২টা ৫৬ মিনিটে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

গত ২৯ এপ্রিল মৃত্যুবরণ করেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত

২০১১ সালে প্রথম যখন ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটারের পদ্মা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তখন প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছিল ২৯০ কোটি মার্কিন ডলার। যেখানে বিশ্বব্যাংকের ১২০ কোটি ডলার, এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ৬১.৫ কোটি, জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) ৪১.৫ কোটি এবং ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংকের (আইডিবি) ১৪ কোটি ডলার ঋণ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে ঋণচুক্তি স্থগিত করে বিশ্বব্যাংক। ঋণ পেতে বিশ্বব্যাংকের দেওয়া চারটি শর্ত পালন না করায় দীর্ঘ নয় মাস পর ২০১২ সালের ২৯ জুন ঋণচুক্তি বাতিল করে দাতা সংস্থাটি।

এরপর দুর্নীতির সন্দেহভাজন সাবেক মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের পদত্যাগ ও প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমানকে ছুটিতে পাঠানোর পর ওই বছরের ২০ সেপ্টেম্বর পদ্মা সেতু প্রকল্পে পুনরায় সম্পৃক্ত হওয়ার ঘোষণা দেয় বিশ্বব্যাংক। শর্তানুসারে পদ্মা সেতুতে দুর্নীতির বিষয়টি খতিয়ে দেখতে দুদক একটি বিশেষ অনুসন্ধান টিম গঠন করে। আর দুদকের কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করার জন্য ৫ অক্টোবর বিশ্বব্যাংক তিন সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করে। এরপর ২০১২ সালের ১৪ অক্টোবর প্রথম দফা বাংলাদেশ সফরে এসে দুদকে সঙ্গে দুই দফা বৈঠক করে ও ২ ডিসেম্বর দ্বিতীয় দফায় বাংলাদেশ সফর করে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ছাড়াই বাংলাদেশ ত্যাগ করে বিশ্বব্যাংকের বিশেষজ্ঞ প্যানেল। এরপরই বাংলাদেশ ২০১৩ সালের ১ ফেব্রুয়ারি বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে আবেদন প্রত্যাহার করে নেয়।

  • সর্বশেষ