জেদ্দা-রিয়াদ মহাসড়কের আফিফ এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় দুই বাংলাদেশি প্রবাসী নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন কুমিল্লা জেলার বাসিন্দা নূর-এ-আলম (৪২) ও ইউনুস মিয়া (৪৮)। শনিবার তাদের পরিবার মৃত্যুর খবর পায়।
নূর-এ-আলম নাঙ্গলকোট উপজেলার বটলী ইউনিয়নের বাসুদাই গ্রামের প্রয়াত খলিলুর রহমান সওদাগরের ছেলে এবং ইউনুস মিয়া চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের বসুয়া গ্রামের সাবির আলীর বড় ছেলে।
প্রতিবেদন অনুসারে, নূর-এ-আলম ও ইউনুস মিয়া যৌথভাবে রিয়াদে একটি ব্যবসা পরিচালনা করতেন।
শুক্রবার দোকানের জন্য পণ্য নিয়ে জেদ্দা থেকে রিয়াদে ফেরার পথে তাদের গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়। ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয় এবং চালকসহ আরো দুজন আহত হন।
দুই বন্ধু এ বছরের ঈদুল আজহায় দেশে ফেরার পরিকল্পনা করেছিলেন। সৌদি আরবে বসবাসকারী বাংলাদেশি প্রবাসী এবং নূর-এ-আলমের ভাগ্নে মনির হোসেনের মতে, দুটি গাড়ির মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
তিনি জানান, নূর-এ-আলম, ইউনুস মিয়া এবং একজন সৌদি নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং চালক গুরুতর অবস্থায় রয়েছেন।
নূর-এ-আলমের স্ত্রী সুমী আক্তার বলেন, ‘আমাদের ছয়জনের পরিবারটি পুরোপুরি আমার স্বামীর আয়ের ওপর নির্ভরশীল ছিল। আমরা এখন বিধ্বস্ত এবং জানি না কিভাবে বেঁচে থাকব। তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য আমি সরকারি সহায়তা চাই।’
২৪ বছর বিদেশে থাকার পর এবার ঈদুল আজহায় পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর পরিকল্পনা করেছিলেন ইউনুস মিয়া।
চার মাস বয়সী ছোট ছেলেকে প্রথমবারের মতো দেখার অপেক্ষায় ছিলেন তিনি। দেশে ফেরার জন্য কেনাকাটা ও বিমানের টিকিটও কেটে ফেলেছিলেন।
ইউনুসের ছোট ভাই ওমর ফারুক মারুফ বলেন, ইউনুস ছিলেন পরিবারের প্রধান ভরসা ও অভিভাবক। তিনি স্ত্রী, তিন মেয়ে ও দুই ছেলে রেখে গেছেন। বিদেশে থাকাকালে ইউনুস কয়েকবার দেশে এলেও কখনো পরিবারের সঙ্গে ঈদুল আজহা পালন করতে পারেননি। এ বছর তিনি প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ কাটাতে ২৭ মে দেশে ফেরার ফ্লাইট বুক করেছিলেন।
কুমিল্লার জেলা প্রশাসক রেজা হাসান জানান, মৃত্যুর খবর তারা পেয়েছেন। মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে জেলা প্রশাসন সব ধরনের সহযোগিতা করবে।