রাজারহাটে আড়তের সংখ্যা দুই শতাধিক; যেখানে কাজের সুযোগ হচ্ছে অন্তত দুই হাজার মানুষের। এ হাটে সারা বছর চামড়া বেচাকেনা হলেও কোরবানির ঈদ-পরবর্তী মৌসুমি বাজার ধরতে অপেক্ষায় থাকেন ব্যবসায়ীরা। তারা জানিয়েছেন, প্রতিবছর সরকার দাম নির্ধারণ করলেও মনিটরিংয়ের অভাবে এর সুফল পান না ক্ষুদ্র, মাঝারি ও মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। এতে তাদের পথে বসার উপক্রম হয়।
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সর্ববৃহৎ চামড়া মোকাম যশোরের রাজারহাট। প্রতি শনিবার ও মঙ্গলবার এখানে চামড়া বেচাকেনার জন্য আসেন যশোরসহ খুলনা বিভাগের ১০ জেলা এবং ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, ঝালকাঠি, রাজশাহী, পাবনা, ঈশ্বরদী ও নাটোরের ব্যবসায়ীরা। ঈদুল আজহা সামনে রেখে তাদের কারও মনে খুশি নেই। চামড়া সংরক্ষণের প্রধান অনুষঙ্গ লবণের দাম উত্তরোত্তর বৃদ্ধি, অতীতের বকেয়া আদায় না হওয়াসহ নানা কারণেই তাদের মধ্যে হতাশা ভর করেছে।
ঈদুল আজহা সামনে রেখে সরকার ঢাকায় গরুর প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত চামড়ার দাম নির্ধারণ করেছে ৬২ থেকে ৬৭ টাকা, যা গত বছর ছিল ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। ঢাকার বাইরে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৭ থেকে ৬২ টাকা, যা গত বছর ছিল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা।
রাজারহাট মোকামের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম গত শনিবার বলেন, পশুর চামড়া সংরক্ষণের অন্যতম অনুষঙ্গ লবণের দাম প্রতি বস্তায় ১০০ টাকা বেড়েছে। এতে করে চামড়া সংরক্ষণের খরচ বেড়ে যাচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, সরকারিভাবে বিনামূল্যে লবণ দেওয়া হলেও সেটি ব্যবসায়ীরা পান না। ওই লবণ দেওয়া হয় মাদ্রাসা ও এতিমখানায়। সেই লবণ চামড়ায় না লাগিয়ে আলাদা করে বিক্রি করে দেওয়া অভিযোগ তুলে তিনি ব্যবসায়ীদের বিনামূল্যে লবণ দেওয়ার দাবি জানান।
আরেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আনন্দ দাস বলেন, ‘আমাদের মতো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য ব্যাংকঋণের ব্যবস্থা নেই। ফলে বাধ্য হয়ে এনজিও বা মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে পুঁজি জোগাড় করি। সেই টাকায় চামড়া কিনেও ন্যায্য দাম পাই না।’ কোরবানির চামড়া তারা কখনও সরকার নির্ধারিত দামে বেচাকেনা করতে পারেন না বলেও জানান তিনি।
একাধিক ব্যবসায়ীর ভাষ্য, সরকার প্রতিবছর চামড়ার দাম নির্ধারণ করে ঠিকই, কিন্তু সেই দামে সব চামড়া বেচাকেনা হয় না। চামড়া প্রতিবেশী দেশে পাচার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, এ দেশের চামড়া চীনে রপ্তানি হয়। কিন্তু চীননির্ভর রপ্তানি থেকে বেরিয়ে ইউরোপের বাজার ধরতে হবে। তাহলে চামড়াশিল্প চাঙা হবে, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা বাঁচবে। বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার জন্য সরকারি প্রতি দাবি জানান তারা।
ট্যানারি মালিকদের কাছে এখানকার আড়তদারদের অন্তত ৩০ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে বলে জানান রাজারহাট মোকামের আড়তদার আবদুল মালেক। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনেও বিপুল অঙ্কের বকেয়া আদায় না হওয়ায় পুঁজি নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা। ঈদের আগে এই টাকা আদায় না হলে পুঁজি সংকট বাড়বে।
ব্যবসায়ীদের দাবির বিষয়ে কথা হয় যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানের সঙ্গে। তিনি সমকালকে বলেন, চামড়া বাজার মনিটরিংয়ে জেলা প্রশাসন থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাচার রোধেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। সূত্র: সমকাল