শিরোনাম
◈ দ্বিতীয় টে‌স্টে বাংলা‌দে‌শের বিরু‌দ্ধে জিত‌তে না পার‌লে আত্মসম্মানের ব্যাপার ছিল: প‌্যাট কা‌মিন্স ◈ ডেঙ্গুতে একদিনে ৫ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৮৩৯ ◈ ‘আমার ৯ বিয়ের তথ্য মিথ্যা, কোনো পরকীয়া সম্পর্কে জড়িত নই’: ইসলামী আন্দোলন নেতা মিছবাহর চ্যালেঞ্জ ◈ বঙ্গভবনে প্রথম দিনের দাপ্তরিক কাজ শুরু নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির ◈ প্রাথমিক শিক্ষায় মনিটরিং-জবাবদিহিতায় আসছে নতুন নীতিমালা ◈ রাজধানীতে চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য ◈ আইসি‌সি র‌্যা‌ঙ্কিং‌, টেস্ট ক্রিকে‌টে বাংলাদেশ এখন ৬ নম্বর দল ◈ রাজনৈতিক মতাদর্শ নয়, সততা ও মেধার ভিত্তিতে পদোন্নতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ◈ চলতি সপ্তাহে সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ ◈ দ্বিতীয় টে‌স্টে নাকাল বাংলাদেশ, টাইগার‌দের বিধ্বস্ত করে জিতলো অস্ট্রেলিয়া

প্রকাশিত : ০১ জুন, ২০২৬, ০৮:২৯ রাত
আপডেট : ২১ আগস্ট, ২০২৬, ০৬:০০ সকাল

প্রতিবেদক : আর রিয়াজ

ইউরোপের বাকস্বাধীনতা বিতর্ক: কার জন্য স্বাধীনতা, কার জন্য শাস্তি?

মে মাসে লন্ডনে অনুষ্ঠিত কট্টর ডানপন্থীদের ‘ইউনাইটেড দ্য কিংডম’ মার্চের পক্ষে যেভাবে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল, তাতে এই দ্বিমুখী নীতি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সমর্থকদের দাবি ছিল, এটি দেশপ্রেম এবং অভিবাসন ও ইসলাম নিয়ে খোলামেলা কথা বলার গণতান্ত্রিক অধিকার। বিপরীতে, এই বর্ণবাদী সমাবেশের সমালোচনাকে সাধারণ মানুষের মুখ বন্ধ করার অপচেষ্টা হিসেবে দেখানো হয়। 

ইউরোপজুড়ে কট্টর ডানপন্থীদের মুসলিম বিদ্বেষী ও অভিবাসী বিরোধী প্রচারণাকে প্রায়শই ‘বাকস্বাধীনতা’র দোহাই দিয়ে আড়াল করা হয়। অথচ যখনই মুসলিম বা বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনকারীরা তাদের অধিকার ও ফিলিস্তিন সংহতি নিয়ে কথা বলেন, তখনই সেই স্বাধীনতাকে ‘জননিরাপত্তার জন্য হুমকি’ হিসেবে গণ্য করা হয়। 

মূলত, ইউরোপে বাকস্বাধীনতা এখন আর কোনো নিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক নীতি নয়। এটি হয়ে উঠেছে এমন এক হাতিয়ার, যা মুসলিম বিদ্বেষকে ‘সাহসী সত্য কথন’ হিসেবে বৈধতা দেয় এবং সংখ্যালঘুদের কণ্ঠকে বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত করে।

যুক্তরাজ্যে ইসলামোফোবিয়ার সমসাময়িক বিতর্কগুলো এই বৈষম্যকে আরও নগ্নভাবে উন্মোচিত করেছে। দীর্ঘদিন ধরে ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ এবং গণমাধ্যম দাবি করে আসছে যে ইসলামোফোবিয়ার কোনো নির্দিষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারণ করলে তা বাকস্বাধীনতাকে বিপন্ন করবে। এর ফলে মুসলিমদের টার্গেট করে দেওয়া যেকোনো বক্তব্যকে ‘রম্য’ বা ‘উস্কানিমূলক মন্তব্য’ বলে পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।

যেমন, এক ব্রিটিশ এমপি যখন মুসলিমদের গণপ্রার্থনাকে ‘আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা’ বলে আখ্যা দেন, তখন তার তদন্তের দাবিকে বর্ণবাদের প্রশ্ন হিসেবে না দেখে ‘বাকস্বাধীনতার ওপর আঘাত’ হিসেবে প্রচার করা হয়। এই ধারা আজকের নয়। ১৯৬০ ও ৭০-এর দশকে যখন ব্রিটেনে বর্ণবাদ বিরোধী আইন (রেস রিলেশনস অ্যাক্ট) পাসের চেষ্টা হয়েছিল, তখনও কট্টর ডানপন্থীরা একে সমতার পথে পদক্ষেপ হিসেবে না দেখে ‘ব্রিটিশ ঐতিহ্য ও স্বাধীনতার ওপর আক্রমণ’ বলে শোরগোল তুলেছিল।

এই বর্ণবাদী মানসিকতা কেবল রাজনীতিতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও গভীরভাবে শিকড় গেড়েছে। মুসলিম নারীদের পোশাক বা ধর্মীয় আচার নিয়ে কট্টর ডানপন্থীদের মঞ্চ থেকে করা বিদ্রুপকে প্রায়শই ‘ব্রিটিশ রসবোধ’ বা রসিকতা বলে হালকা করার চেষ্টা করা হয়। অতীতেও যেমন ‘ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট মিনস্ট্রেল শো’-এর মতো বর্ণবাদী অনুষ্ঠানকে বিনোদনের অংশ বলে চালানো হয়েছিল, আজকেও মুসলিমদের উপহাস করাকে একই কায়দায় বৈধতা দেওয়া হচ্ছে। 

অথচ তথাকথিত এই বাকস্বাধীনতার রক্ষকরা তখন সম্পূর্ণ নীরব থাকেন, যখন ফিলিস্তিনের পক্ষে কথা বলায় মুসলিম শিক্ষাবিদ ও শিক্ষার্থীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয় কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে ফিলিস্তিনপন্থী মতপ্রকাশের ওপর পশ্চিমা দেশগুলোর কঠোর বিধিনিষেধ প্রমাণ করে যে বাকস্বাধীনতার পেছনে একটি সুনির্দিষ্ট ‘ব্যতিক্রম’ কাজ করে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, বাকস্বাধীনতা কখনোই সবার জন্য সমান ছিল না। এটি মূলত ক্ষমতার একটি রূপ, যা নির্ধারণ করে কার কণ্ঠস্বরকে সম্মান দেওয়া হবে আর কার পরিচয়কে হুমকি হিসেবে গণ্য করা হবে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়