শিরোনাম
◈ তিস্তায় নৌকাডু‌বিতে শিশু নিহত ◈ নৌকাডুবিতে নিখোঁজ অভিবাসীর খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে ইতালির কোস্টগার্ড ◈ উড়তে থাকা যুক্তরাষ্ট্রকে মাটিতে নামিয়ে আনলো দক্ষিণ আফ্রিকা ◈ ১৪ দিনে রেমিট্যান্স এলো ১৬৪ কোটি ডলার ◈ শরীয়তপুরে চেম্বার থেকে আইনজীবীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার ◈ বিশ্বকাপের সুপার এইট শুরু, শুক্রবার অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ   ◈ সেনাবাহিনী প্রধানের ৯, ১৭ ও ৩৩ পদাতিক ডিভিশনে বিদায়ী দরবার ◈ নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে শেখ হাসিনা শুক্রবার দিল্লি যাচ্ছেন, ২২ জুন শীর্ষ বৈঠক ◈ দেশ ছাড়িনি, চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে আছি: আছাদুজ্জামান মিয়া  ◈ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে উত্তর কোরিয়া-রাশিয়া একে অপরকে সাহায্য করবে, কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি সই

প্রকাশিত : ৩০ মে, ২০২৪, ০১:৪৬ দুপুর
আপডেট : ৩০ মে, ২০২৪, ০১:৪৬ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

কাজী নজরুল ইসলামের শিক্ষাদর্শন

কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯-১৯৭৬) একাধারে কবি, সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক, ঔপন্যাসিক, সঙ্গীত রচয়িতা, সঙ্গীত শিল্পী, সঙ্গীত পরিচালক, সাংবাদিক ও স্বাধীনতা সংগ্রামী। তিনি বাংলাদেশের জাতীয় কবি। প্রথম বিশ্বযুদ্ধোত্তরকালে বাংলা সাহিত্যে তাঁর দীপ্ত আবির্ভাব। উপনিবেশিত ভারতবর্ষের শৃঙ্খলিত সমাজপ্রবাহে তিনি দেখা দেন বিপ্লবীর ভূমিকায়। স্বীয় লেখনীকে তিনি পরিচালনা করেন যাবতীয় অসত্য, অন্যায়, অকল্যাণ, অমঙ্গল ও সাম্প্রদায়িক-সংকীর্ণতার বিরুদ্ধে। তিনি কেবল লেখনী পরিচালনা করেই ক্ষান্ত ছিলেন না, সক্রিয়ভাবে প্রগতিশীল, অসাম্প্রদায়িক, জাতীয়তাবাদী ও সংগ্রামশীল রাজনীতি, সংগঠন ও সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেছিলেন। রবীন্দ্রযুগে জন্মগ্রহণ ও সাহিত্য রচনা করেও তিনি সর্বাধিক আলোচিত, জনপ্রিয় ও বিতর্কিত এবং স্বীয় সৃষ্টিবৈচিত্র্যের এক স্বতন্ত্র উত্তরাধিকার নির্মাণে সক্ষম সাহিত্যিক-ব্যক্তিত্ব হিসেবে বাংলা সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের (১৮৬১-১৯৪১) পরেই স্থান দখল করতে সক্ষম হয়েছিলেন এবং তুলনামূলকভাবে স্বল্প পরিধি-সম্পন্ন হলেও তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতো বহুমুখী প্রতিভার একটি বলয় নির্মাণ করতে পেরেছিলেন। পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে বিভিন্ন বিষয়ে তিনি সম্পাদকীয় প্রবন্ধ রচনা করছেন এবং কবি ও সাহিত্যিক হিসেবে বিভিন্ন স্থানে অভিভাষণ প্রদান করেছেন। সে সকল প্রবন্ধ ও অভিভাষণে প্রকাশিত হয়েছে শিক্ষা সম্পর্কে তাঁর নিজস্ব ভাবনা যা শিক্ষাবিষয়ে তাঁর নিজস্ব দর্শনকে প্রকাশ করে। সেখানে তিনি ঔপনিবেশিক প্রভাবমুক্ত শিক্ষালয় ও স্বদেশি শিক্ষার কথা বলেছেন। ঔপনিবেশিক প্রতিকূল পরিবেশ-প্রতিবেশে স্বীয় জীবৎকাল অতিবাহিত করলেও তিনি ছিলেন আপদমস্তক উপনিবেশবিরোধী।

কাজী নজরুল ইসলামের শিক্ষাদর্শন সম্পর্কিত অধিকাংশ প্রবন্ধই প্রকাশিত হয়েছে প্রথম বিশ্বযুদ্ধোত্তরকালে সংঘটিত অসহযোগ-খিলাফত আন্দোলনের পটভূমিতে। তবে এই শিক্ষাদর্শনের মূল প্রোথিত রয়েছে বঙ্গভঙ্গ পরবর্তী স্বদেশি আন্দোলনকালে। তাঁর শিক্ষাদর্শনের মূলসূত্র অন্বেষণের সুবিধার্ধে শিক্ষাক্ষেত্রে স্বদেশি আন্দোলনের প্রভাব সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা আবশ্যক বলে বিবেচনা করি।

স্বদেশি আন্দোলন শিক্ষা, রাজনীতি ও সামাজিক ক্ষেত্রে প্রবেশ করলে কতিপয় জাতীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। জাতীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ইংরেজির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিক চরিত্রগঠন, মানসিক শক্তির বিকাশ, জাতীয় ইতিহাস, সাহিত্য, দর্শন ও দেশীয় অর্থনীতি সম্পর্কে জ্ঞানদান ছাড়াও প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য আদর্শের মধ্যে সমন্ময় সাধনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। স্বল্পকালের মধ্যেই এই জাতীয় শিক্ষা আন্দোলন সমগ্র ভারতে বিস্তার লাভ করে এবং জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল সম্প্রদায়ের মধ্যে জাতীয় শিক্ষার প্রসার ঘটতে থাকে। ১৯০৬ সালের ১৪ই আগস্ট রাসবিহারী ঘোষ এর সভাপতিত্বে জাতীয় শিক্ষা পরিষদ National Council of education ও Society for the Promotion of Technical Education (S.P.T.E) গঠিত হয়। এই পরিষদদ্বয় মাতৃভাষার মাধ্যমে সাহিত্য, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও প্রকৌশল বিষয়ে শিক্ষা দেওয়ার সুপারিশ করে এবং কারিগরি শিক্ষা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে। প্রতিষ্ঠান দুটি পৃথক হলেও উভয়ের উদ্দেশ্য ছিল একই; তা হলো ঔপনিবেশিক শক্তির বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে এসে মাতৃভাষার মাধ্যমে জ্ঞানার্জন ও জ্ঞানচর্চা। শিক্ষাক্ষেত্রে এ জাতীয় ভাবনা ছিল স্পষ্টতই পরনির্ভরশীলতা কাটিয়ে আত্মনির্ভরতা অর্জনের পথে দৃপ্ত পদক্ষেপ।

বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের মোট প্রকাশিত প্রবন্ধগ্রন্থ চারটি। প্রকাশিত এই চারটি প্রবন্ধগ্রন্থের প্রবন্ধসহ বিভিন্ন সময় পত্র-পত্রিকায় তাঁর যে সকল প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে, সব মিলিয়ে মোট প্রবন্ধের সংখ্যা দাঁড়ায় ৮৫টির অধিক। এছাড়া রয়েছে রাজবন্দীর জবানবন্দি নামে একটি ভাষণ, ২২টি অভিভাষণ, ০৯টির অধিক ভূমিকা ও গ্রন্থালোচনা। তাঁর প্রথম প্রকাশিত প্রবন্ধগ্রন্থ যুগ-বাণী (১৯২২)। তাঁর প্রকাশিত অপর প্রবন্ধগ্রন্থ তিনটি হল : দুর্দিনের যাত্রী (১৬২৬), রুদ্রমঙ্গল (১৯২৭) ও ধূমকেতু (১৯৬১)। যুগ-বাণী প্রবন্ধ-গ্রন্থে মোট প্রবন্ধের সংখ্যা একুশ। গ্রন্থভুক্ত প্রবন্ধসমূহ বিষয় ও বক্তব্যবিচারে সমকালের জীবন-প্রতিবেশের সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে শাশ্বত আবেদন সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছিল। উক্ত গ্রন্থের জাতীয় শিক্ষা, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও সত্য শিক্ষা প্রবন্ধে তাঁর শিক্ষাচিন্তার উপস্থিতি লক্ষণীয়। এর পাশাপাশি তাঁর এসব চিন্তার বাস্তব পরিসমাপ্তি ঘটেছে ঔপনিবেশিক প্রভাবমুক্ত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ও স্বাধীন সার্বভৌম ভারতবর্ষ পত্তনের মধ্য দিয়ে।

লেখক: মো. জাবেদ ইকবাল 

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়