শিরোনাম
◈ হাসিনা কলকাঠি নাড়ছেন, গুপ্তরা বাতাস দিচ্ছে: রিজভী ◈ নারী ত্রিদেশীয় সিরিজের বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল ঘোষণা ◈ ইরান যুদ্ধ ও জ্বালানি সংকটের মধ্যেও ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ২.৯%: OECD ◈ পণ্য খালাসের সময় ও ব্যয় কমাতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর ◈ আগামী শুক্র ও শনিবার ব্যাংক খোলা ◈ রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ৫ দফা প্রস্তাব: জাতিসংঘের সাইডলাইন বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর জোরালো আহ্বান ◈ হুতিদের হামলা ঠেকাতে সৌদির অনুরোধে সাড়া নেই, ট্রাম্প-সালমান সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন ◈ গেটস ফাউন্ডেশনের সিইওর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, স্বাস্থ্যখাতে এআই ব্যবহারের পরিকল্পনা ◈ ১০ বছরে জ্বালানি তেল থেকে সরকারকে ১ লাখ ১৯ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে বিপিসি ◈ লিভারপুলের অ্যানফিল্ড গুগল রেটিংয়ে এগিয়ে

প্রকাশিত : ২৭ মে, ২০২৬, ০৭:১৫ বিকাল
আপডেট : ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ০৫:০০ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

তাপপ্রবাহে কোল্ড কফি নাকি হট কফি, কোনটা খাবেন

গরমে ঠান্ডা পানীয় স্বাভাবিকভাবেই বেশি আকর্ষণীয় মনে হয়। কফিপ্রেমীদের জন্য এক কাপ গরম কফির বদলে বরফঠান্ডা কফি বেছে নেওয়াটাই স্বাভাবিক পছন্দ বলে মনে হতে পারে। কিন্তু তাপপ্রবাহের সময় ঠান্ডা কফি কি সত্যিই শরীরের জন্য বেশি ভালো? নাকি আবহাওয়া যাই হোক না কেন, কফি পানের অভ্যাস অপরিবর্তিত রাখা উচিত? উত্তরটি গরম বা ঠান্ডা বেছে নেওয়ার মতো এত সহজ নয়। চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক-

ঠান্ডা কফি না গরম কফি, গ্রীষ্মকালে কোনটি বেশি ভালো?

advertisement

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্রীষ্মকালে গরম এবং ঠান্ডা উভয় কফিই পান করা যেতে পারে, যতক্ষণ পর্যন্ত পরিমিত পরিমাণে পান করা এবং শরীরে পানির পরিমাণ ঠিক রাখা হয়। গরম এবং ঠান্ডা উভয় কফিতেই দুধ এবং কফি থাকে, তাই এদের মৌলিক পুষ্টিগুণ একই থাকে। অল্প পরিমাণে কফি শক্তি জোগাতে এবং মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে।

কারও ক্ষেত্রে ঠান্ডা পানীয় পেট ফাঁপা বা হজমের অস্বস্তির কারণ হতে পারে, বিশেষ করে যদি তার সংবেদনশীল হজমশক্তি বা ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স থাকে। এমন পরিস্থিতিতে গরম পানীয় পেটের জন্য হালকা এবং সহজপাচ্য মনে হতে পারে। গরম পানীয় হজম প্রক্রিয়াকে উদ্দীপিত করতে সাহায্য করে এবং অনেকের জন্য আরামদায়ক হতে পারে।

advertisement

ঘরে তৈরি কোল্ড কফি

আপনি যদি গ্রীষ্মকালে কোল্ড কফি খেতে বেশি পছন্দ করেন, তবে ঘরে তৈরি করার চেষ্টা করুন। দোকান থেকে কেনা কোল্ড কফি এবং ক্যাফে-স্টাইলের ফ্র্যাপে অতিরিক্ত চিনি, ক্রিম এবং সিরাপ থাকে, যা প্রচণ্ড গরমে আপনাকে অস্বস্তিতে ফেলতে পারে। ঘরে সাধারণ রেসিপিতে তৈরি করে খেলেই বরং আরাম পাবেন।

advertisement

কফি কি পানিশূন্যতার কারণ হতে পারে?

গ্রীষ্মকালে কফি পানের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের একটি হলো পানিশূন্যতা। কফিতে ক্যাফেইন থাকে, যার হালকা মূত্রবর্ধক বৈশিষ্ট্য রয়েছে বলে জানা যায়। অতিরিক্ত কফি পান করলে, বিশেষ করে খুব গরম আবহাওয়ায়, শরীর থেকে তরল বেরিয়ে যাওয়ার কারণ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, কফি প্রকৃতিগতভাবে মূত্রবর্ধক, তাই অতিরিক্ত পরিমাণে পান করলে ডিহাইড্রেশন হতে পারে। একারণেই গ্রীষ্মকালে দিনে এক থেকে দুই কাপের বেশি কফি পান না করাই ভালো। তাপপ্রবাহের সময় শরীরকে আর্দ্র রাখাটাই অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। সারাদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করতে থাকুন। শরীরকে আর্দ্র রাখতে লেবুর শরবত, ডাবের পানি বা ইলেক্ট্রোলাইট ও খনিজ সমৃদ্ধ পানীয়ও পান করতে পারেন।

গরম কফি শরীর ঠান্ডা করে

যদিও ঠান্ডা কফি তাৎক্ষণিকভাবে বেশি সতেজ অনুভূতি দিতে পারে, তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে গরম পানীয় শরীরকে ঠান্ডা করতে সাহায্য করতে পারে। ২০১২ সালে এনপিআর-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নায়ুবিজ্ঞানী পিটার ম্যাকনাটন জানান যে, গরম পানীয় ঘাম তৈরি করে, যা বাষ্পীভবনের মাধ্যমে শরীরকে ঠান্ডা করতে সাহায্য করে। তবে এই প্রভাব শুষ্ক আবহাওয়ায় বেশি কার্যকর, যেখানে ঘাম সঠিকভাবে বাষ্পীভূত হতে পারে। অত্যধিক আর্দ্র আবহাওয়ায় শীতল করার প্রভাব ততটা কার্যকরভাবে কাজ নাও করতে পারে।

আপনার কি কোল্ড কফিতে অভ্যস্ত হওয়া উচিত?

এমন কোনো কঠোর নিয়ম নেই যে গ্রীষ্মকালে গরম কফি এড়িয়ে চলতে হবে বা তাপপ্রবাহের সময় পুরোপুরি কোল্ড কফিতে চলে যেতে হবে। বিষয়টি নির্ভর করে আপনার শরীরের জন্য কোনটি সবচেয়ে উপযুক্ত তার ওপর। যদি কোল্ড কফি হালকা এবং সতেজ মনে হয়, তবে আপনি পরিমিত পরিমাণে এটি উপভোগ করতে পারেন। কিন্তু যদি গরম পানীয়তে আপনার হজম ভালো হয়, তবে শুধুমাত্র তাপমাত্রা বাড়ছে বলে জোর করে পরিবর্তন করার কোনো কারণ নেই।

  • সর্বশেষ