শিরোনাম
◈ হাসিনা কলকাঠি নাড়ছেন, গুপ্তরা বাতাস দিচ্ছে: রিজভী ◈ নারী ত্রিদেশীয় সিরিজের বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল ঘোষণা ◈ ইরান যুদ্ধ ও জ্বালানি সংকটের মধ্যেও ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ২.৯%: OECD ◈ পণ্য খালাসের সময় ও ব্যয় কমাতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর ◈ আগামী শুক্র ও শনিবার ব্যাংক খোলা ◈ রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ৫ দফা প্রস্তাব: জাতিসংঘের সাইডলাইন বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর জোরালো আহ্বান ◈ হুতিদের হামলা ঠেকাতে সৌদির অনুরোধে সাড়া নেই, ট্রাম্প-সালমান সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন ◈ গেটস ফাউন্ডেশনের সিইওর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, স্বাস্থ্যখাতে এআই ব্যবহারের পরিকল্পনা ◈ ১০ বছরে জ্বালানি তেল থেকে সরকারকে ১ লাখ ১৯ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে বিপিসি ◈ লিভারপুলের অ্যানফিল্ড গুগল রেটিংয়ে এগিয়ে

প্রকাশিত : ০১ মে, ২০২৬, ১০:১৬ দুপুর
আপডেট : ০২ আগস্ট, ২০২৬, ০৬:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বৃষ্টিতে ভিজলে জ্বর সেরে যায়, এটা সত্যি নাকি কুসংস্কার

বৃষ্টিতে ভিজলে জ্বর সেরে যায়— এমন ধারণা বৈজ্ঞানিক কোনো ভিত্তি নেই; বরং এটি একটি কুসংস্কার মাত্র। আর কুসংস্কার বলার চেয়ে এটি ভুল ব্যাখ্যায় টিকে থাকা লোকবিশ্বাস বলা বেশি সঠিক। আপনার বৃষ্টিতে ভিজে সাময়িক আরাম লাগতে পারে, কিন্তু এটি জ্বরের চিকিৎসা নয়। উল্টো বৃষ্টির পানিতে দীর্ঘক্ষণ ভিজলে আপনার শরীরের তাপমাত্রা কমে গিয়ে হিতে বিপরীত হতে পারে। সুতরাং জ্বর সারার বদলে এটি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, আসতে পারে জ্বর। সব মিলিয়ে জ্বর সারাতে আকাশের দিকে তাকানোর চেয়ে থার্মোমিটারের দিকে তাকানোই বেশি কার্যকর।

জ্বরের সময় বৃষ্টিতে ভিজলে শরীর আরও দুর্বল লাগতে পারে, ঠান্ডা অনুভূতি বাড়তে পারে, পানিশূন্যতা বা অস্বস্তি হতে পারে। যদি আগে থেকেই ভাইরাল সংক্রমণ থাকে, বিশ্রামের বদলে বাইরে ভেজা শরীর নিয়ে থাকলে সমস্যা বাড়তেও পারে। উচ্চ জ্বর, শ্বাসকষ্ট, ঘোর লাগা, বমি, খেতে না পারা, শিশু বা বয়স্ক রোগীর জ্বর— এসব ক্ষেত্রে এমন লোকজ পদ্ধতির বদলে দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন।

বৃষ্টির পানিতে অনেক সময় ধুলোবালি ও ব্যাকটেরিয়া থাকে। এ ছাড়া বৃষ্টির সময় আর্দ্রতা বেশি থাকায় বাতাসে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া দ্রুত ছড়ায়, যা অসুস্থ ব্যক্তিকে আরও বেশি কাবু করতে পারে। এতে জ্বর জ্বর ভাব হয়।  অনেকেই বলেন— একটু বৃষ্টিতে ভিজে নাও, জ্বর নেমে যাবে। আবার কেউ কেউ বলেন, বৃষ্টির ঠান্ডা পানি শরীরের তাপ কমিয়ে জ্বর সারাতে সাহায্য করে। লোকমুখে প্রচলিত এ ধারণা, এখনো অনেক জায়গায় শোনা যায়। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এটি কতটা সত্য?

কারণ শরীরের তাপমাত্রা কমে জ্বরের সময় শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকে। হুট করে বৃষ্টির ঠান্ডা পানিতে ভিজলে শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত কমে যায়, যা শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে।  আর বৃষ্টিতে ভেজা বা ঠান্ডা লাগার কারণে সর্দি, কাশি কিংবা নিউমোনিয়ার মতো শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা বেড়ে যেতে পারে, যা জ্বরের অবস্থাকে আরও জটিল করে তোলে।

আপনার জ্বর হলে শরীর গরম হবে। এ খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু বৃষ্টির ঠান্ডা পানিতে ভিজলে শরীর ঠান্ডা অনুভূত হবে। অতীতে যখন চিকিৎসাসুবিধা কম ছিল, তখন মানুষ ঘরোয়া নানা পদ্ধতিতে আরাম খুঁজত। ঠান্ডাপানি দিয়ে শরীর মুছিয়ে দেওয়া বা ঠান্ডা পরিবেশে রাখা থেকে এমন বিশ্বাস ছড়াতে পারে। 

কিছু ভাইরাল জ্বর স্বাভাবিকভাবেই কয়েক দিন পর কমে যায়। কেউ যদি ওই সময় বৃষ্টিতে ভিজে থাকেন, তখন ভুলভাবে মনে হতে পারে— বৃষ্টিই জ্বর সারিয়েছে। কিন্তু মোটেও না, জ্বর নিজে কোনো রোগ নয়, এটি শরীরের প্রতিরোধ প্রতিক্রিয়া। ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, প্রদাহ কিংবা অন্য কোনো কারণে জ্বর হয়। তাই কারণ অনুযায়ী বিশ্রাম, পর্যাপ্ত পানি, প্রয়োজন হলে প্যারাসিটামল এবং চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি।

  • সর্বশেষ