স্কুলগামী শিশুদের শরীর, মস্তিষ্ক ও মানসিক বিকাশ দ্রুত ঘটে। তাই প্রতিদিনের খাবারে সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে তারা সুস্থভাবে বেড়ে উঠতে পারে।
প্রোটিন
শিশুদের পেশি মজবুত করতে এবং শরীরের ক্ষতিগ্রস্ত কোষ ঠিক করতে প্রোটিন দরকার। এটি শরীরের বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ এবং বিপাকক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতেও সাহায্য করে।
মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ডাল, ছোলা, বাদাম ও পনির- এসব খাবার প্রোটিনের ভালো উৎস। প্রাণিজ ও উদ্ভিজ্জ—দুই ধরনের প্রোটিনই খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত।
আয়রন
অল্প পরিমাণে প্রয়োজন হলেও আয়রন খুব গুরুত্বপূর্ণ। এটি শরীরে অক্সিজেন পরিবহনে সাহায্য করে।
আয়রনের ঘাটতি হলে রক্তস্বল্পতা, ক্লান্তি এবং মস্তিষ্কের বিকাশে সমস্যা হতে পারে। শাকসবজি, কলা, বেদানা, কুমড়ার বীজ, মাংস এবং বিভিন্ন ফলে আয়রন পাওয়া যায়।
ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি
এই বয়সে হাড় ও দাঁতের গঠন হয়, তাই ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি অত্যন্ত জরুরি। দুধ, ডিম, মাছ, শাকসবজি ও ফল নিয়মিত খাওয়া উচিত।
পাশাপাশি সূর্যালোক থেকেও ভিটামিন ডি পাওয়া যায়, তাই শিশুদের খেলাধুলায় উৎসাহ দেওয়া দরকার।
কার্বোহাইড্রেট
শক্তির প্রধান উৎস হলো কার্বোহাইড্রেট। বেড়ে ওঠার জন্য তাদের অতিরিক্ত শক্তির প্রয়োজন হয়, যা কার্বোহাইড্রেট থেকে আসে। ভাত, রুটি, ডালসহ নানা খাবারে এটি থাকে। তবে সাদা ময়দার বদলে গম বা অন্যান্য শস্যের তৈরি খাবার খাওয়ানো ভালো।
জিংক ও ভিটামিন সি
মস্তিষ্কের বিকাশ ও রোগ প্রতিরোধে এই দুই উপাদান গুরুত্বপূর্ণ। জিংক নতুন কোষ তৈরিতে সাহায্য করে, আর ভিটামিন সি শরীরকে রোগ থেকে রক্ষা করে। লেবুজাতীয় ফল, ক্যাপসিকাম, বাদাম, দই, ডাল ইত্যাদিতে এসব পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়।
সব মিলিয়ে সুষম খাদ্যই শিশুদের সুস্থ ও স্বাভাবিক বিকাশের মূল চাবিকাঠি।