শিরোনাম
◈ বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও বাড়লো ◈ যে ভাসমান গ্যাস স্টেশনে গোপনে বেচাকেনা হয় ইরানের তেল ◈ সমন্বিত উদ্যোগে দুই মহাসড়কে কমেছে যানজট, ফিরছে স্বস্তি ◈ লিমন–বৃষ্টি নিখোঁজের পর বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত কি করেছিল সন্দেহভাজন খুনি, গতিবিধিতে উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য ◈ চীন থেকে চোরাচালান: দুই বিদেশিসহ তিনজন কারাগারে ◈ গণমাধ্যমে অসত্য তথ্য, ড. ইউনূসের ভিভিআইপি মর্যাদা বাতিল হয়নি ◈ এআইতে করা প্রশ্ন কি সত্যিই গোপন থাকে?—বাস্তবতা, ঝুঁকি ও করণীয় ◈ বসুন্ধরা চেয়ারম্যানসহ পরিবারের ৪ সদস্যের বিদেশযাত্রার অনুমতি মেলেনি ◈ রাজধানীতে শতভাগ পাম্পে চালু হচ্ছে ফুয়েল পাস! ◈ ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্প জোরদার করা হবে : অর্থমন্ত্রী

প্রকাশিত : ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ০৭:৪৮ সকাল
আপডেট : ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ০৯:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

মাঝেমধ্যে হাত-পা কাঁপে কেন? জেনে নিন সম্ভাব্য কারণগুলো

হঠাৎ করে হাত বা পা কেঁপে ওঠা—এই অভিজ্ঞতা অনেকেরই পরিচিত। কখনও চায়ের কাপ হাতে নিয়েই কাঁপুনি শুরু, কখনও আবার বসে থাকতে থাকতে পায়ের পাতা কেঁপে ওঠে। অনেকেই একে ভয়ংকর স্নায়ুরোগ ভেবে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। কিন্তু সত্য হলো—সব কাঁপুনি মারাত্মক রোগের লক্ষণ নয়। বরং এর পেছনে থাকতে পারে নানা সাধারণ ও নিয়ন্ত্রণযোগ্য কারণ।

দৈনন্দিন জীবনে কাঁপুনির অভিজ্ঞতা

চায়ের দোকানে দাঁড়িয়ে গরম চায়ের কাপ হাতে নেওয়ার সময় হঠাৎ হাত কেঁপে উঠল—এমন ঘটনা অনেকের সঙ্গেই ঘটে। কখনও গ্লাস ধরা বা কোনো জিনিস তুলতে গেলেও হাত কাঁপে। আবার চুপচাপ বসে থাকলেও পায়ের পাতা অনবরত কেঁপে চলতে পারে, এমনকি পেশিতে টানও ধরতে পারে।

এ ধরনের সমস্যা শুধু বয়স্কদের নয়—তরুণদের মধ্যেও দেখা যায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই অনিয়ন্ত্রিত কাঁপুনিকে বলা হয় ‘ট্রেমর’। এটি সবসময় স্নায়ুরোগ বা পার্কিনসন্সের কারণে হয় না; এর পেছনে আরও নানা কারণ থাকতে পারে।

হাত-পা কাঁপার প্রকৃত কারণ

অনেকেই মনে করেন, হাত কাঁপা মানেই বার্ধক্যজনিত সমস্যা বা পার্কিনসন্স। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। গবেষণায় দেখা গেছে, কাঁপুনির বিভিন্ন ধরন রয়েছে।

> কারও হাত সবসময় কাঁপে, ফলে কিছু ধরা কঠিন হয়ে যায়।

> কারও আবার নির্দিষ্ট কাজ— যেমন লেখা বা কিছু ধরার সময় কাঁপুনি হয়।

> কারও ক্ষেত্রে কথা বলার সময়ও হাত কাঁপতে দেখা যায়।

এসব সমস্যা সাধারণত স্নায়বিক জটিলতার অংশ, যাকে বলা হয় ‘ইনভলান্টারি মুভমেন্ট ডিজঅর্ডার’।

হরমোনের ভারসাম্যহীনতা

হাত-পা কাঁপার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো হাইপারথাইরয়েডিজম—অর্থাৎ থাইরয়েড হরমোনের অতিরিক্ত ক্ষরণ। হরমোনের এই ভারসাম্যহীনতা শরীরে কাঁপুনি সৃষ্টি করতে পারে।

পুষ্টির ঘাটতি

ভিটামিন ও খনিজের অভাবও কাঁপুনির পেছনে বড় ভূমিকা রাখে।

> বিশেষ করে ভিটামিন বি-১২ এর অভাবে স্নায়ুর কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ফলে শরীরে কম্পন দেখা দিতে পারে।

> এছাড়া ক্যালশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম এর ঘাটতিতেও একই সমস্যা হতে পারে।

ডায়াবেটিস ও রক্তে শর্করার ওঠানামা

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে হঠাৎ রক্তে শর্করার মাত্রা কমে গেলে (হাইপোগ্লাইসেমিয়া) হাত বা পা কাঁপতে পারে। এটি শরীরের একটি সতর্ক সংকেত।

জীবনযাত্রার প্রভাব

আধুনিক জীবনযাত্রাও কাঁপুনির একটি বড় কারণ হয়ে উঠছে।

> পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব

> অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা

> দীর্ঘ সময় মোবাইল বা ল্যাপটপ ব্যবহার

এসব কারণে স্নায়ুতে চাপ পড়ে, যা হাত-পা কাঁপার মতো সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।

ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

দীর্ঘদিন মানসিক রোগের ওষুধ সেবন করলে তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় হাত কাঁপতে পারে। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ পরিবর্তন করলে সমস্যার সমাধান সম্ভব।

সমাধানের উপায়

যদি হাত বা পায়ের কাঁপুনি দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র হয়, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। তবে মাঝেমধ্যে হলে কিছু সহজ ব্যায়াম উপকার দিতে পারে।

হাতের ব্যায়াম

> দুই হাত সামনে সোজা করুন।

> এক হাত দিয়ে অন্য হাতের কব্জি বিপরীত দিকে বাঁকান।

> এতে কব্জিতে টান অনুভূত হবে।

> ২০–২৫ সেকেন্ড ধরে রাখুন।

> প্রতিটি হাতে ২–৩ বার করুন।

পায়ের ব্যায়াম (কাফ রেইজ)

> সোজা হয়ে দাঁড়ান।

> পায়ের আঙুলের উপর ভর দিয়ে গোড়ালি উঠান ও নামান।

> এটি পায়ের পেশিকে শক্তিশালী করে এবং কাঁপুনি কমাতে সাহায্য করে।

আতঙ্ক নয়, সচেতন থাকুন

হাত-পা কাঁপা মানেই গুরুতর রোগ—এ ধারণা সবসময় সঠিক নয়। অনেক ক্ষেত্রে এটি সাময়িক বা নিয়ন্ত্রণযোগ্য কারণের ফল। তবে সমস্যাটি যদি বারবার বা দীর্ঘ সময় ধরে হয়, তাহলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সুস্থ জীবনযাপন, সঠিক পুষ্টি এবং মানসিক প্রশান্তিই পারে এই সমস্যাকে অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রাখতে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়