কারাগারে দণ্ড ভোগ করা মানেই সব সময় জেলের মধ্যে থাকাটা নয়। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে বন্দিকে সাময়িকভাবে কারাগারের বাইরে রাখার সুযোগ দেওয়া হয়, যাকে প্যারোল বলা হয়।
প্যারোল হলো কারাদণ্ড ভোগরত একজন বন্দিকে সীমিত সময়ের জন্য সাময়িক মুক্তি দেওয়া। এই সময়ে সে পুরোপুরি স্বাধীন ব্যক্তি হিসেবে গণ্য হয় না, বরং নির্দিষ্ট শর্ত মেনে চলতে হয় এবং নির্ধারিত সময় শেষে কারাগারে ফিরে যেতে হয়। এটি শাস্তি কমানোর ব্যবস্থা নয়, বরং দণ্ড ভোগের মধ্যেই সাময়িক ছাড়।
প্যারোল সাধারণত গুরুতর অসুস্থতা, পরিবারের জরুরি কারণ, নিকট আত্মীয়ের মৃত্যু বা চিকিৎসা গ্রহণের মতো মানবিক ও সামাজিক কারণে দেওয়া হয়। এছাড়াও বন্দির আচরণ এবং সংশোধনের প্রগতি বিবেচনা করা হয়।
সব বন্দি প্যারোল পাওয়ার যোগ্য নয়। আবেদন বিচার করার সময় বন্দির অপরাধের ধরন, কারাদণ্ডের মেয়াদ, কারাগারে আচরণ ও সমাজে ঝুঁকি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা বিবেচনা করা হয়। গুরুতর অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে প্যারোল সীমিত হয়।
প্যারোল পাওয়ার জন্য বন্দি বা তার পরিবারকে কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে হয়। আবেদন যাচাই শেষে জেলা প্রশাসন বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ উচ্চ পর্যায়ের অনুমোদন প্রয়োজন। অনুমোদন পেলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্যারোল মঞ্জুর হয়।
প্যারোলের সময় বন্দিকে নির্দিষ্ট ঠিকানায় থাকা, সময়মতো কারাগারে ফেরত যাওয়া এবং আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ না করার মতো শর্ত মেনে চলতে হয়। শর্ত ভঙ্গ করলে প্যারোল বাতিল হতে পারে এবং ভবিষ্যতে সুযোগও কমে যায়।
প্যারোল জামিনের মতো নয়। জামিন সাধারণত মামলার চলাকালীন দেওয়া হয়, আর প্যারোল দেওয়া হয় সাজা ভোগের সময়।
প্যারোল হলো বন্দিদের জন্য একটি মানবিক ব্যবস্থা, যা বিশেষ পরিস্থিতিতে সাময়িক স্বস্তি দেয়। তবে এটি কোনো স্বাভাবিক অধিকার নয়, বরং কর্তৃপক্ষের বিবেচনার ওপর নির্ভরশীল। সঠিক নিয়ম ও দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে প্যারোল সমাজ ও বন্দি উভয়ের জন্যই ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
সূত্র: যুগান্তর