সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর রাসুলকে হেদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন এই দ্বীনকে সমস্ত দ্বীনের ওপর বিজয়ী করার জন্য আর সৃষ্টির প্রতি রহমতস্বরূপ তাঁকে প্রেরণ করেছেন উত্তম চরিত্রের পূর্ণতা সাধনের জন্য; অতঃপর তিনি মানুষকে তাঁর কথা ও কাজের মাধ্যমে সত্যের পথের দিশা দেখিয়েছেন। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর সেই রাসুলের ওপর, যাঁর নবুওয়্য অকাট্য দলিলের মাধ্যমে সুপ্রতিষ্ঠিত, এবং তাঁর পবিত্র পরিবার-পরিজন ও সাহাবিদের ওপর, যাঁরা সমস্ত পঙ্কিলতা থেকে মুক্ত।
নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা নিরক্ষরদের মধ্যে একজন রাসুল প্রেরণ করেছেন, যিনি তাদের কাছে তাঁর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করেন, তাদেরকে পরিশুদ্ধ করেন এবং তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন, যদিও তারা ইতিপূর্বে স্পষ্ট বিভ্রান্তির মধ্যে নিমজ্জিত ছিল। এই মহান রাসুলের নবুয়তের সত্যতার প্রমাণ ও সাক্ষ্য কোরআন ও পূর্ববর্তী আসমানি কিতাব তওরাত, ইঞ্জিলেও রয়েছে । আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে আহলে কিতাবদের সম্পর্কে বলেছেন, তাওরাত ও ইঞ্জিলে নবীজির দেহাবয়ব ও বৈশিষ্ট্য এত বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে যে তারা নবীজিকে (সা.) তেমনই চেনে, যেমন তারা তাদের সন্তানদের চেনে।
আল্লাহ তাআলা বলেন, যাদেরকে আমি কিতাব দান করেছি, তারা তাকে তেমনই চেনে যেমন তারা তাদের সন্তানদের চেনে। (সুরা বাকারা: ১৪৬)
কিন্তু তারা সত্যকে বাতিলের সাথে মিশ্রিত করেছে এবং তাদের কাছে রক্ষিত কিতাবে তাঁর যে মহান গুণাবলির উল্লেখ রয়েছে, তা গোপন করেছে। তারা নিজেদের হিংসা এবং নেতৃত্ব হারানোর ভয়ের কারণে কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করেছে। তবে আল্লাহ তাআলা প্রকাশ্য নিদর্শন এবং সুস্পষ্ট মুজিজার মাধ্যমে তাঁর নবুয়্যতকে শক্তিশালী করেছেন।
আলেমগণের বক্তব্য অনুযায়ী নবীজির (সা.) নবুয়্যতের সত্যতার পক্ষে প্রায় তিন হাজার দলিল রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো পূর্ববর্তী অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের কিতাব তাওরাত, ইঞ্জিলে এবং হিন্দু ও অগ্নিপূজকদের কিতাবে নবীজির আগমনের ভবিষ্যৎবাণী ও সংবাদ বিদ্যমান থাকা। তাওরাত ও ইঞ্জিলে এই সংবাদগুলো বিকৃতির পূর্বেই বিদ্যমান ছিল। এ কারণেই বুহায়রা পাদ্রি সিরিয়ার বুসরার বাজারে নবীজিকে (সা.) দেখে চিনে ফেলেছিলেন এবং বলেছিলেন, ‘ইনি বিশ্বজগতের প্রতিপালকের রাসুল, আল্লাহ তাঁকে বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরণ করবেন।’ নবীজি (সা.) তখন বালকবয়সী এবং আবু তালিব তাঁকে এক বাণিজ্যিক সফরে সিরিয়ায় নিয়ে গিয়েছিলেন।
আল্লাহ তাআলা সমস্ত নবী-রাসুলের কাছ থেকে নবীজির (সা.) প্রতি ইমান আনার ব্যাপারে অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, আল্লাহ নবীদের নিকট থেকে এ অঙ্গীকার নিয়েছিলেন যে, আমি তোমাদেরকে কিতাব এবং জ্ঞান যা কিছু প্রদান করেছি, অতঃপর তোমাদের কাছে যা আছে তার সমর্থক একজন রাসুল যখন আসবেন, তখন অবশ্য তোমরা তার প্রতি ইমান আনবে এবং তাকে সাহায্য করবে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমরা অঙ্গীকার করলে তো? এবং যে বিষয়ে আমি তোমাদের নিকট হতে অঙ্গীকার নিলাম, তোমরা তা মানলে তো?’ তারা বলল, ‘আমরা অঙ্গীকার করলাম’। আল্লাহ বললেন, ‘তোমরা সাক্ষী থাক এবং আমিও তোমাদের সাথে সাক্ষী থাকলাম’। (সুরা আলে ইমরান: ৮১)
আমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাচ্ছি বিতাড়িত শয়তান থেকে। পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে:
স্মরণ কর, যখন মারিয়ামের পুত্র ঈসা বলেছিল, ‘হে বনি ইসরাইল! আমি তোমাদের প্রতি আল্লাহর রাসুল, আমার পূর্ববর্তী তাওরাতের আমি সত্যায়নকারী এবং আমি একজন রসুলের সুসংবাদদাতা যিনি আমার পরে আসবেন, যার নাম আহমাদ।’ অতঃপর সে যখন তাদের কাছে সুস্পষ্ট নিদর্শন নিয়ে আসল, তখন তারা বলল, ‘এটা তো স্পষ্ট যাদু।’ (সুরা সাফ: ৬)
আল্লাহ তাআলা আমাদের জন্য পবিত্র কোরআনে বরকত দান করুন। এর আয়াতসমূহ এবং প্রজ্ঞাপূর্ণ জিকিরের মাধ্যমে আমাদের উপকৃত করুন। নিশ্চয়ই তিনি অত্যন্ত মহান, দাতা, বাদশাহ ও পরম দয়ালু।
সূত্র: জাগো নিউস ২৪