শিরোনাম
◈ গাজায় প্রশাসনিক ক্ষমতা হস্তান্তরের ঘোষণা, বিলুপ্ত হলো বর্তমান সরকার ◈ প্রধানমন্ত্রী বেতনের ১০% সরকারি কোষাগারে জমা দেন, মন্ত্রীদেরও একই আহ্বান ◈ রেফারিদের খেলা প‌রিচালনার মান নিয়ে ক্ষুব্ধ ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টু‌খেল  ◈ খাদ্যপণ্যের দাম কমায় জুনে মূল্যস্ফীতি কমে ৯.১৬ শতাংশ ◈ টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রামে পাহাড়ধসের শঙ্কা, প্রশাসনের মাইকিং ◈ অক্টোবরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, প্রস্তুতি শুরু করেছে ইসি ◈ ভ্যান্সের ‘একমাত্র মিত্র’ মন্তব্যে নেতানিয়াহু: ভারতের মতো আরও বন্ধু রয়েছে আমাদের ◈ অতিরিক্ত বিল নিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের নতুন বার্তা ◈ ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ, মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজট ◈ 'খেলা শেষ, খোদা হাফেজ': কী ইঙ্গিত করে লিখলেন মাহফুজ আলম

প্রকাশিত : ০৬ জুলাই, ২০২৬, ০৭:৪৪ বিকাল
আপডেট : ০৬ জুলাই, ২০২৬, ০৮:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

কবরে নামফলক লাগানো কি ইসলামে বৈধ?

বর্তমান সময়ে অধিকাংশ কবরস্থানে মৃত ব্যক্তির কবর সহজে শনাক্ত করার জন্য নাম, পরিচয় বা ঠিকানাসংবলিত ছোট একটি ফলক বা নেমপ্লেট লাগানো দেখা যায়। অনেকেই জানতে চান, ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে এমন নামফলক ব্যবহার করা বৈধ কি না। এটি কি সুন্নাহসম্মত, নাকি শরিয়তবিরোধী কোনো কাজ? এ বিষয়ে কুরআন-সুন্নাহ ও ফিকহবিদদের বক্তব্য থেকে বিষয়টি সহজেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

কবর চিহ্নিত করার জন্য নামফলক ব্যবহার

ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে কেবল কবরটি চিনে রাখার বা সহজে শনাক্ত করার উদ্দেশ্যে একটি সাধারণ নামফলক, পাথর বা অন্য কোনো সহজ চিহ্ন ব্যবহার করা জায়েজ। এর উদ্দেশ্য যেন শুধু কবর শনাক্ত করা হয়, প্রদর্শন বা সৌন্দর্যবর্ধন নয়।

এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আমল থেকেই সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়। হজরত উসমান ইবনে মাজউন (রা.)-এর দাফনের পর রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজ হাতে একটি পাথর এনে তার কবরের মাথার পাশে স্থাপন করেন। এরপর তিনি বলেন—

أَتَعَلَّمُ بِهَا قَبْرَ أَخِي، وَأَدْفِنُ إِلَيْهِ مَنْ مَاتَ مِنْ أَهْلِي

‘এর মাধ্যমে আমি আমার ভাইয়ের কবরটি চিহ্নিত করে রাখলাম এবং আমার পরিবারের কেউ মারা গেলে তাকে এর পাশে দাফন করব।’ (আবু দাউদ ৩২০৬)

এই হাদিস থেকে আলেমরা দলিল গ্রহণ করেছেন যে, কবর চিহ্নিত করার জন্য একটি সাধারণ পাথর বা নামফলক ব্যবহার করা বৈধ।

তবে কবরে বড় বড় কবিতা, স্তুতিবাক্য, কবিতা, আয়াত বা হাদিসের বাণী লিখে রাখা নিষিদ্ধ। কবর পাকা করাও নিষিদ্ধ। হজরত জাবের (রা.) বলেন, নবীজি (সা.) কবর পাকা করা, তার উপর লেখা, কবরের উপর বাড়ি নির্মাণ করা এবং তা পদদলিত করা থেকে নিষেধ করেছেন। (তিরমিজি)

আল্লাহর রাসুলের (সা.) ও সাহাবিদের যুগে কবর তো পাকা করা হতোই না বরং কবর অতিরিক্ত উঁচু করাও তারা অপছন্দ করতেন।

ইমাম মুহাম্মদ (রহ.) তার সঙ্কলিত কিতাবুল আসারে লিখেছেন, আমরা কবরকে চুনকাম করা, পাকা করা, অথবা কবরের পাশে মসজিদ নির্মাণ করা, ঝান্ডা টানানো, কোনো কিছু লেখা ইত্যাদি কাজ মাকরুহ মনে করি। (কিতাবুল আসার লিমুহাম্মদ: ২/১৯১)

যা থেকে বিরত থাকা উচিত

যদিও কবর শনাক্ত করার জন্য সাধারণ চিহ্ন ব্যবহার করা অনুমোদিত, তবে কবরকে জাঁকজমকপূর্ণ করা, দামি মার্বেল, দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা বা আভিজাত্য প্রকাশের উপকরণে সাজানো ইসলামের শিক্ষা নয়। কবর মানুষের শেষ ঠিকানা; তাই এখানে অহংকার, প্রতিযোগিতা বা বিলাসিতার কোনো স্থান নেই।

একজন মুসলমানের উচিত কবরকে সরল ও সাধারণ রাখা এবং এমন কোনো কাজ থেকে বিরত থাকা, যা অপচয়, লোকদেখানো বা অহংকারের প্রকাশ ঘটায়।

মৃত ব্যক্তির প্রকৃত উপকার কী?

মৃত্যুর পর কবরের বাহ্যিক সৌন্দর্য মৃত ব্যক্তির কোনো উপকারে আসে না। বরং তার জন্য সবচেয়ে মূল্যবান উপহার হলো জীবিতদের আন্তরিক দোয়া, ইস্তিগফার, সদকা এবং ইসালে সওয়াব। এসব আমলই আল্লাহর ইচ্ছায় মৃত ব্যক্তির জন্য রহমত ও উপকারের কারণ হতে পারে।

ইসলাম ভারসাম্য ও সহজতার ধর্ম। তাই কবরকে শনাক্ত করার প্রয়োজনে একটি সাধারণ নামফলক বা চিহ্ন ব্যবহার করা শরিয়তসম্মত। তবে সেটি যেন কখনো প্রদর্শন, আভিজাত্য বা অপচয়ের মাধ্যম না হয়। আমাদের মনে রাখা উচিত, একজন মৃত মুসলিমের প্রকৃত সম্মান কবরের বাহ্যিক সৌন্দর্যে নয়; বরং তার জন্য করা দোয়া, ইস্তিগফার এবং নেক আমলের সওয়াব পৌঁছে দেওয়ার মধ্যেই নিহিত।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়