শিরোনাম
◈ থমথমে পশ্চিমবঙ্গ দফায় দফায় সংঘর্ষ ◈ আরব আমিরাতে হামলা ইরান চালায়নি: সামরিক সূত্রের দাবি ◈ লিওনেল মেসির কারণে হেরেছেন তৃণমূলের অরূপ বিশ্বাস! ◈ পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে বিজেপির জয় নিয়ে বাংলাদেশের রাজ‌নৈ‌তিক দলগুলো কী ভাব‌ছে  ◈ হরমুজ প্রণালীর নতুন সামুদ্রিক নিয়ন্ত্রণ এলাকা ঘোষণা করলো ইরান ◈ হাম মহামারির ঝুঁকি নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে আগেই সতর্ক করেছিল ইউনিসেফ! ◈ ট্রাম্প কীভাবে ঐতিহাসিকভাবে অজনপ্রিয় রাষ্ট্রপতি হয়ে উঠলেন  ◈ ব্রাজিল ছেড়ে আর্জেন্টিনার ক্লাবে যোগ দেয়ার কথা ভাবছেন নেইমার! ◈ ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন, চাঁদাবাজ নিয়ন্ত্রণে কঠোর হচ্ছে সরকার ◈ আইপিএলে ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কড়াকড়ি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের

প্রকাশিত : ০৫ মে, ২০২৬, ০৭:১৫ সকাল
আপডেট : ০৫ মে, ২০২৬, ০১:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

যেসব কারণে কুরবানি কবুল হয় না

কুরবানি শুধু একটি আনুষ্ঠানিক ইবাদত নয়; এটি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের এক গভীর মাধ্যম। বাহ্যিকভাবে পশু জবাই করাই এর মূল উদ্দেশ্য নয়—বরং এর অন্তরে রয়েছে ত্যাগ, তাকওয়া এবং একনিষ্ঠতা। তাই অনেকেই কুরবানি করলেও সবার কুরবানি আল্লাহর দরবারে গ্রহণযোগ্য হয় না। কেন হয় না? সেই প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে কুরআন ও সুন্নাহর নির্দেশনায়। কুরবানি কবুল হবে কার—আর কার হবে না? জেনে নিন অন্তরের আসল হিসাব

কুরবানির বিধান: কুরআনের আলোকে

আল্লাহ তাআলা যুগে যুগে প্রতিটি জাতির জন্য কুরবানির বিধান নির্ধারণ করেছেন—

وَ لِکُلِّ اُمَّۃٍ جَعَلۡنَا مَنۡسَکًا لِّیَذۡکُرُوا اسۡمَ اللّٰهِ عَلٰی مَا رَزَقَهُمۡ مِّنۡۢ بَهِیۡمَۃِ الۡاَنۡعَامِ ؕ فَاِلٰـهُکُمۡ اِلٰهٌ وَّاحِدٌ فَلَهٗۤ اَسۡلِمُوۡا ؕ وَ بَشِّرِ الۡمُخۡبِتِیۡنَ

‘প্রত্যেক জাতির জন্য আমি কুরবানির নিয়ম করে দিয়েছি; যাতে তারা আল্লাহর নাম স্মরণ করতে পারে, যে সমস্ত জন্তু তিনি রিজিক হিসেবে দিয়েছেন তার উপর। তোমাদের ইলাহ তো এক ইলাহ; অতএব তাঁরই কাছে আত্মসমর্পণ করো; আর অনুগতদেরকে সুসংবাদ দাও।’ (সুরা হজ: আয়াত ৩৪)

فَصَلِّ لِرَبِّکَ وَ انۡحَرۡ

‘আপনি আপনার রবের জন্য নামাজ আদায় করুন এবং কুরবানি করুন।’ (সুরা কাউসার: আয়াত ২)

যাদের কুরবানি কবুল হবে না

১. নিয়তে ইখলাস না থাকলে

কুরবানি কবুল হওয়ার জন্য একনিষ্ঠতা তথা নিয়ত বিশুদ্ধতা থাকা জরুরি। কুরবানিতে কাউকে শরিক করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ভালোভাবে জেনে-বুঝে অংশীদার নির্বাচন করা। কারণ কোনো শরিকের নিয়ত গলদ হলে কারও কুরবানিই (অন্য শরিকদের কোরবানিও) শুদ্ধ হবে না। কেননা আল্লাহর কাছে কুরবানি রক্ত, মাংস ও হাড় কিছুই পৌঁছায় না বরং পৌঁছে মানুষের নিয়ত তথা তাকওয়া। এ বিষয়টি আল্লাহ তাআলা এভাবে তুলে ধরেছেন—

لَن يَنَالَ اللهَ لُحُومُهَا وَلَا دِمَاؤُهَا وَلَكِن يَنَالُهُ التَّقْوَى مِنكُمْ كَذَلِكَ سَخَّرَهَا لَكُمْ لِتُكَبِّرُوا اللهَ عَلَى مَا هَدَاكُمْ وَبَشِّرِ الْمُحْسِنِينَ

‘আল্লাহর কাছে কখনোও ওগুলোর (কুরবানির পশুর) গোশত পৌঁছে না এবং রক্তও না; বরং তার কাছে পৌঁছে তোমাদের (মানুষের অন্তরের) তাকওয়া (সংযমশীলতা); এভাবে তিনি ওগুলোকে (কুরবানির পশুগুলোকে) তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন যাতে তোমরা আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করো। এই জন্য যে, তিনি তোমাদের পথ প্রদর্শন করেছেন।  আর তুমি সুসংবাদ দাও সৎকর্মশীলদের।’ (সুরা হজ: আয়াত ৩৭)

২. কুরবানির পশুর প্রদর্শনী করলে

কুরবানি হবে শুধু আল্লাহর জন্য। লোক দেখানোর জন্য কিংবা সুনাম-সুখ্যাতির জন্য নয়। মানুষকে দেখানোর জন্য বাজারের বড় বড়, সুন্দর ও দামি পশুই জবাই করলেই কুরবানি হবে না। বরং তাতে ইখলাস থাকতে হবে। তবেই কুরবানি কবুল হবে। কুরবানির পশু প্রদর্শনীর ইচ্ছা থাকলে এ কুরবানি আল্লাহর কাছে কবুল হবে না। কার কুরবানি আল্লাহর কাছে কবুল হবে তা-ও ওঠে এসেছে কুরআনের বর্ণনায়—

إِنَّمَا يَتَقَبَّلُ اللهُ مِنَ الْمُتَّقِينَ

‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তো মুত্তাকি (পরহেজগার ও সংযমীদের) কুরবানিই কবুল করে থাকেন।' (সুরা মায়েদা: আয়াত ২৭)

৩. কুরআন-সুন্নাহর বিধানের লঙ্ঘন হলে

আল্লাহ ও তার রাসুল (সা.)-এর বিধি-বিধান অনুসরণ করা ছাড়া কোনোভাবেই কুরবানি কবুল হবে না। বিষয়টি আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারিমে এভাবে তুলে ধরেছেন—

فَمَنْ كَانَ يَرْجُوا لِقَاءَ رَبِّهِ فَلْيَعْمَلْ عَمَلاً صَالِحاً وَّلاَ يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهِ أَحَدا

‘যে তার প্রতিপালকের সাক্ষাৎ কামনা করে; সে যেন সৎকর্ম করে এবং তার প্রতিপালকের ইবাদতে কাউকে শরিক না করে।’ (সুরা কাহফ: আয়াত ১০)

সুতরাং যারা কুরবানি করবেন, তাদের কোরবানি কবুল হওয়ার জন্য কুরআন-সুন্নাহর দিকনির্দেশনার প্রতি লক্ষ্য রাখার গুরুত্ব অপরিসীম। যারা শুধু বছরজুড়ে এ পশু জবাই করে গোশত খাওয়ার উদ্দেশ্যে কুরবানি দেয়; তাদের কুরবানিও গ্রহণযোগ্য হবে না।

৪. ভাগ-বণ্টনে গড়মিল হলে

কুরবানির পশুতে প্রত্যেকের অংশ সমান হতে হবে। কারও অংশ অন্যের অংশ থেকে কম/বেশি হতে পারবে না। যেমন কারো আধা ভাগ, কারও দেড় ভাগ। এমন হলে কোনো শরিকের কুরবানি শুদ্ধ হবে না। (বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৭)

উট, গরু, মহিষ সাত ভাগে এবং সাতের কমে যেকোনো সংখ্যা যেমন— দুই, তিন, চার, পাঁচ ও ছয় ভাগে কুরবানি করা জায়েজ। (মুসলিম ১৩১৮, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৭)। উটের বয়স পাঁচ বছর হতে হবে। গরু ও মহিষের বয়স দুই বছর হতে হবে। (মুয়াত্তা মালেক ৭৫৪)

৫. গোশত খাওয়ার নিয়তে কোরবানি করলে

যদি কেউ আল্লাহ তাআলার হুকুম পালনের উদ্দেশ্য ছাড়া কুরবানি না করে শুধু গোশত খাওয়ার নিয়তে কুরবানি করে তাহলে তার কুরবানি সহিহ হবে না। তাকে অংশীদার বানালে শরিকদের কুরবানিও কবুল হবে না। (বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৮, কাজিখান ৩/৩৪৯)

৬. অবৈধ টাকায় কোরবানি করলে

হারাম টাকা দিয়ে কেউ কুরবানি করলে তার কুরবানি আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। কেননা ‘আল্লাহ তাআলা পবিত্র, তিনি শুধু পবিত্রতাই গ্রহণ করেন...।’ (তিরমিজি ২৯৮৯)

তাছাড়া কুরআনুল কারিমে হালাল সম্পদ থেকে ব্যয় করার নির্দেশ এসেছে এভাবে—

یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اَنۡفِقُوۡا مِنۡ طَیِّبٰتِ مَا کَسَبۡتُمۡ

‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা ব্যয় কর তোমাদের অর্জিত হালাল সম্পদ থেকে...’ (সুরা বাকারা: আয়াত ২৬৭)

কুরবানি শুধু পশু জবাই নয়—এটি অন্তরের পরীক্ষা। এখানে আল্লাহ দেখেন না কার পশু কত বড় বা দামি; তিনি দেখেন কার নিয়ত কতটা বিশুদ্ধ, কার অন্তর কতটা তাকওয়ায় পরিপূর্ণ। তাই কুরবানি করার আগে নিজের অন্তরকে পরিশুদ্ধ করা জরুরি। যদি ইখলাস, হালাল উপার্জন এবং সুন্নাহর অনুসরণ নিশ্চিত করা যায়—তবেই কুরবানি হবে কবুলের যোগ্য।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়