নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি প্রথম আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ‘ফাজ’-এর সফল উড্ডয়ন পরীক্ষা চালিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি দূরপাল্লায় শত্রুপক্ষের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।
আইএসপিআরের বিবৃতি অনুযায়ী, মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) এই পরীক্ষা চালানো হয়। ক্ষেপণাস্ত্রটিতে অত্যাধুনিক টার্মিনাল গাইডেন্স ব্যবস্থা রয়েছে। সামরিক বাহিনীর দাবি, এটি পাকিস্তান বিমানবাহিনীর অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা ও কৌশলগত নমনীয়তা বাড়াবে এবং দেশের সামগ্রিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, এই সফল পরীক্ষা পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা শিল্পের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, উদ্ভাবন ও স্বনির্ভরতার অগ্রগতির প্রতিফলন। ক্ষেপণাস্ত্রটির পরীক্ষা প্রত্যক্ষ করেন এর উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত সামরিক বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীরা।
পরীক্ষার সাফল্যে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং তিন বাহিনীর প্রধানেরা সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন।
এ ছাড়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভিও ক্ষেপণাস্ত্রটির সফল পরীক্ষায় বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের অভিনন্দন জানান। তাঁর ভাষ্য, নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি এই ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা প্রতিরক্ষা খাতে পাকিস্তানের অগ্রগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
এর আগে গত মাসে ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য দুটি ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালায় পাকিস্তান। গত ১৩ অক্টোবর ফাতাহ-২ এক্সটেন্ডেড রেঞ্জ (ইআর) হাইপারসনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা করা হয়। এর প্রায় এক সপ্তাহ আগে নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ফাতাহ-৪ ভূমি থেকে নিক্ষেপযোগ্য ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের বর্ধিত পাল্লার সংস্করণের পরীক্ষা চালানো হয়।
আইএসপিআরের তথ্য অনুযায়ী, ফাতাহ-২ ইআর ক্ষেপণাস্ত্রটিতে উন্নত নেভিগেশন ব্যবস্থা ও অত্যাধুনিক এভিওনিকস রয়েছে। এটি উচ্চ নির্ভুলতায় লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। এর বিশেষ গতিপথ ও দিক পরিবর্তনের সক্ষমতা শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এড়াতে সহায়তা করে বলে দাবি করেছে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী।
ফাতাহ-৪ ইআর ক্ষেপণাস্ত্র সম্পর্কে আইএসপিআর জানিয়েছে, উন্নত এভিওনিকস ও নেভিগেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে এটি বর্ধিত পাল্লায় নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। পরীক্ষায় ক্ষেপণাস্ত্রটির বিভিন্ন উপব্যবস্থার অতিরিক্ত কারিগরি বৈশিষ্ট্যও যাচাই করা হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। তথ্যসূত্র: দ্য ডন