শিরোনাম
◈ স্টুডিওতে লুটপাটের পর ‍সালমান মুক্তাদির বললেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, গ্রেট জব, বিএনপি জোস কাজ করছে’ ◈ ভুলের সুযোগে ইংল্যান্ডকে হারাল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন ◈ ঢাকার মিরপুরে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের কারণ কী? ◈ কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং সন্দেহে আবারও আটক ২৫৪ ◈ বৃদ্ধাশ্রমে সা‌বেক ক্রিকেটার বি‌নোদ কাম্বলি, কেমন আছেন জানালেন নিজেই ◈ বেকারত্ব থেকে অনলাইন জুয়া, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বাড়ছে অপরাধ ◈ ইউএনজিএ অধিবেশন শেষে দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ◈ এত সম্ভাবনার পরও বিদেশি পর্যটক টানতে পিছিয়ে কেন কক্সবাজার? ◈ কুয়েতের উপহারের মাছ বিক্রি হয়নি, তৃতীয়বার নিলাম ডাকল টিসিবি ◈ সুন্দরবনকে আন্তর্জাতিক পর্যটন গন্তব্য করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা

প্রকাশিত : ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৭:৪৭ সকাল
আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২৬ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

রেকর্ড স্বর্ণ আমদানি করছে চীন, কারণ কি?

বিনিয়োগকারীদের জোরালো চাহিদা এবং শক্তিশালী ইউয়ানের সুবাদে সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হওয়ায় রেকর্ড গতিতে মূল্যবান ধাতু স্বর্ণ আমদানি করছে চীন। দেশটির সাধারণ শুল্ক প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্টে চীনের সোনা আমদানির পরিমাণ রেকর্ড ছুঁয়েছে। এ সময় দেশটি ৪৪ টন স্বর্ণ যুক্ত করেছে, যার ফলে বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত মোট আমদানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১০০ টনে। এই পরিসংখ্যান আগস্ট মাসের মধ্যেই ২০২৫ সালের পুরো আমদানির পরিমাণ ছাড়িয়ে গেছে এবং এটি ২০১৭ সালের পর থেকে চীনের সর্বোচ্চ স্বর্ণ আমদানির স্তর।

চীনের এই আগ্রাসী সোনা আমদানির কৌশল নিয়ে ওয়াল স্ট্রিট সম্পূর্ণ নজর রেখেছে। গোল্ডম্যান স্যাকস পূর্বাভাস দিয়েছে যে, বছরের শেষ নাগাদ স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৯০০ ডলারে পৌঁছাবে।

বাজারের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় লিনা থমাস এবং ড্যান স্ট্রুইভেন লিখেছেন, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৯০০ ডলারের আমাদের ন্যায্য মূল্যের পূর্বাভাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের টেকসই জোরালো চাহিদাকে ধরা হয়েছে,যেখানে ২০২৬ সালে প্রতি মাসে গড়ে ৫০ টন এবং ২০২৭ সালে প্রতি মাসে ৪০ টন ক্রয়ের কথা রয়েছে। পাশাপাশি ২০২৬ সালে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার অপরিবর্তিত রাখায় বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের ইটিএফ চাহিদাও পুনরুদ্ধার হচ্ছে।

তবে গোল্ডম্যানের বিশ্লেষকরা বর্তমান স্বর্ণের বাজার নিয়ে কিছু সতর্কতাও জারি করেছেন। তারা উল্লেখ করেছেন, ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়ালে প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হতে পারে, যদিও বছর শেষে সোনা প্লাস অবস্থানেই শেষ করবে।

advertisement

বিনিয়োগকারীদের জন্য বার্তা

অর্থনৈতিক কারণ এবং সোনার ক্রমবর্ধমান মূল্য বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা উচিত, যদিও সোনাতে বড় ধরনের পোর্টফোলিও পরিবর্তন এখনও বড় পরিসরে ঘটেনি।

গোল্ডম্যানের গবেষণা নোটে বলা হয়েছে, বেসরকারি পোর্টফোলিওতে স্বর্ণের অংশ কম রয়ে গেছে। ইরান এবং অন্যান্য ভূরাজনীতিসহ সাম্প্রতিক বৈশ্বিক ঘটনাবলি কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও বৈচিত্র্য আনয়নকে ত্বরান্বিত করতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সাধারণ মার্কিন বিনিয়োগকারীদেরও চীনের পথ অনুসরণ করে তাদের পোর্টফোলিওতে স্বর্ণের পরিমাণ বাড়ানো উচিত। আমেরিকান প্রেশাস মেটালস এক্সচেঞ্জের বিপণন পরিচালক ব্রেট এলিয়ট জানান, মানুষ এখন বুঝতে পারছে মুদ্রার অবমূল্যায়ন অনিবার্য, যার একটি প্রতিক্রিয়া হিসেবে স্বর্ণের দাম বাড়ছে।

অন্যান্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো রিজার্ভের বৈচিত্র্য বাড়াতে এবং বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থার অনিশ্চয়তা থেকে বাঁচতে সোনা কিনে থাকে। অন্যদিকে একজন ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারী সাধারণত সঞ্চয়ের বৈচিত্র্য আনতে এবং সরকারি ঋণ বা ফিয়াট মুদ্রার ওপর নির্ভরতা কমাতে সোনা কিনে থাকেন।

বিনিয়োগকারীদের জন্য কতটুকু স্বর্ণ রাখা উচিত?

যেসব মার্কিন নাগরিক তাদের পোর্টফোলিওতে স্বর্ণ রাখতে চান, তাদের জন্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সাধারণ কোনও অবসর বা বিনিয়োগ পোর্টফোলিওতে প্রায় ৫ শতাংশের একটি পরিমিত বরাদ্দই যথেষ্ট হতে পারে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, উপযুক্ত পরিমাণ নির্ভর করে একজন বিনিয়োগকারীর শেয়ার, বন্ড, সরকারি ঋণ এবং ডলারের এক্সপোজারের ওপর। কেউ কেউ আরও আগ্রাসী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ৬০/২০/১০-এর পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারেন, যেখানে ১০ শতাংশ স্বর্ণ ও রূপার জন্য উৎসর্গ করা হবে এবং মূল ফোকাস থাকবে স্বর্ণের ওপর। এছাড়া কাউন্টারপার্টি ঝুঁকি কমাতে সরাসরি ফিজিক্যাল বুলিয়ন রাখা সবচেয়ে পরিষ্কার পছন্দ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

সতর্কতার সংকেতগুলো কী কী?

বিনিয়োগকারীদের মনে প্রশ্ন থাকতে পারে যে চীনের সোনা কেনার নীতি ভেঙে পড়লে কী হবে। সেক্ষেত্রে মার্কিন রাজনীতিবিদরা যদি বাজেট ঘাটতি শূন্যে নামিয়ে আনেন বা জাতীয় ঋণ পরিশোধ শুরু করেন, তবে স্বর্ণের এই ঊর্ধ্বগতি বড় ধরনের বাধার মুখে পড়তে পারে।

এছাড়া উচ্চ সুদের হার, বন্ডের ফলন বৃদ্ধি, ডলারের শক্তি বৃদ্ধি এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা হ্রাস পেলে বিনিয়োগকারীরা আবারও স্টক ও সরকারি ঋণের প্রতি আস্থা ফিরে পেতে পারে, যা স্বর্ণের দামকে দ্রুত কমিয়ে দিতে পারে। তাই বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের সুদের হারের প্রত্যাশা, সরকারি বন্ডের ফলন এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যক্রমের ওপর কড়া নজর রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।

সূত্র: মানিওয়াইজ ডট কম

  • সর্বশেষ