কারখানা, সুপারমার্কেট, বর্জ্য শোধনাগার ও তথ্যকেন্দ্র থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তাপ উৎপন্ন হয়। সাধারণত এই তাপ বাতাসে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে প্রযুক্তির মাধ্যমে সেই তাপ সংগ্রহ করে আবার কাজে লাগানো গেলে গ্যাসের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এ ধরনের তাপকে বলা হয় ‘অতিরিক্ত তাপ’। যেমন, সুপারমার্কেটের শীতলীকরণ ব্যবস্থা বা কারখানার বিভিন্ন যন্ত্র চালানোর সময় যে তাপ তৈরি হয়, তা সাধারণত ব্যবহারের পর আর কাজে লাগে না।
তবে তাপ পাম্পের মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই তাপ সংগ্রহ করা যায়। পরে এর তাপমাত্রা বাড়িয়ে ভবন গরম রাখা, গরম পানি সরবরাহ কিংবা আশপাশের এলাকার কেন্দ্রীয় তাপ সরবরাহ ব্যবস্থায় পাঠানো সম্ভব।
এর ফলে এসব কাজে নতুন করে গ্যাস পুড়িয়ে তাপ উৎপাদনের প্রয়োজন কমে যায়। অর্থাৎ যে জ্বালানি দিয়ে আগে তাপ তৈরি করতে হতো, তার বদলে এরইমধ্যে উৎপন্ন ও নষ্ট হয়ে যাওয়া তাপই আবার ব্যবহার করা যায়।
ডেনমার্কের একটি অ্যালুমিনিয়াম কারখানা এরইমধ্যে এই পদ্ধতি ব্যবহার করে নিজেদের গ্যাসের ব্যবহার বন্ধ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির এই ব্যবস্থা বছরে ১৩২টি ডেনিশ পরিবারের গরম পানি ও ঘর গরম করার জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাসের সমপরিমাণ জ্বালানি সাশ্রয় করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ডেনমার্কের প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান ড্যানফসের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে ইউরোপে প্রায় ৩ হাজার ১০০ টেরাওয়াট ঘণ্টা তাপ নষ্ট হয়েছে। এই তাপের বড় অংশ পুনর্ব্যবহার করা গেলে বছরে প্রায় ১৪ হাজার কোটি ইউরো সাশ্রয়ের সুযোগ রয়েছে।
জার্মানিতেও শিল্পকারখানা থেকে উৎপন্ন অতিরিক্ত তাপ দিয়ে দেশটির জেলা পর্যায়ে চাহিদার ৩০ শতাংশের বেশি মেটানো সম্ভব বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। তথ্যকেন্দ্রগুলোর অতিরিক্ত তাপ যুক্ত হলে এই সম্ভাবনা আরও বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপের জন্য এর বড় সুবিধা হলো নতুন করে জ্বালানি কিনে তাপ উৎপাদনের পরিবর্তে এরইমধ্যে উৎপন্ন তাপকে পুনর্ব্যবহার করা। এতে গ্যাসের ব্যবহার কমানোর পাশাপাশি জ্বালানি খরচও কমানো সম্ভব হতে পারে।
তবে এ ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে চালু করতে তাপ সংগ্রহ ও পরিবহনের অবকাঠামো তৈরি, বিদ্যুৎ ব্যবহারের খরচ কমানো এবং শিল্পকারখানা ও তাপ সরবরাহ ব্যবস্থার মধ্যে সংযোগ বাড়ানোর মতো উদ্যোগ প্রয়োজন।
সূত্র: ইউরোনিউজ