জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ভাষণে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, ইসরায়েল ও দেশটির সেনাদের নিয়ে যারা ‘মিথ্যা’ ছড়াচ্ছে, তারা জাতিসংঘের অধিবেশন কক্ষে থাকুক কিংবা নিউইয়র্কের মেয়রের কার্যালয়ে থাকুক; তাদের ‘লজ্জিত’ হওয়া উচিত। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ভাষণে একথা বলেন নেতানিয়াহু। লাইভ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে আল-জাজিরা।
মামদানিকে উদ্দেশ্য করে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মি. মামদানি, আপনি আমাকে এখানে আসা থেকে থামানোর চেষ্টা করেছেন। আপনি আমাকে নীরব করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু আপনি আমাকে নীরব করতে পারবেন না, সত্যকেও নীরব করতে পারবেন না। আর সত্য হলো, ইসরায়েল গণহত্যা করেনি; বরং ইসরায়েল গণহত্যা প্রতিহত করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মি. মামদানি, আপনি এই শহরের মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে নিউইয়র্কে অনেক ইহুদি আর নিজেদের নিরাপদ মনে করেন না। তারা আমার সঙ্গে কথা বলেন। তারা আমাকে জানান, ‘‘এটি আর আমাদের পরিচিত সেই শহর নয়।’ এত দ্রুত শহরটি বদলে গেছে।’’
এরপরও নেতানিয়াহু মামদানির বিরুদ্ধে হামাসের যোদ্ধাদের সমর্থনের অভিযোগ তোলেন। তবে মামদানি প্রকাশ্যে হামাসকে সমর্থন করেন; এমন দাবির পক্ষে এখানে কোনো প্রমাণ উল্লেখ করা হয়নি।
নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচনের প্রচারের সময় মামদানি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, নেতানিয়াহু যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত অবস্থায় নিউইয়র্কে এলে তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করবেন। তবে পরে মামদানি জানান, এ ধরনের গ্রেপ্তার কার্যকর করার আইনি ক্ষমতা তার নেই বলে তিনি সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন।
ভাষণে নেতানিয়াহু দাবি করেন, ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে ইসরায়েল পদক্ষেপ নিয়েছে। ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস করা কঠিন ছিল বলে স্বীকার করলেও তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটি তার নেওয়া ‘সবচেয়ে সহজ সিদ্ধান্তগুলোর একটি’ ছিল। তার দাবি, ইসরায়েল ওই পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনত।
নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যেরও পুনরাবৃত্তি করেন। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মিলে ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক সক্ষমতাকে ‘গুঁড়িয়ে দিয়েছে’।
ইসরায়েল বর্তমানে ‘সাতটি ফ্রন্টে’ যুদ্ধ করছে বলেও দাবি করেন নেতানিয়াহু। তিনি হামাস, হিজবুল্লাহ, হুথি, ইরান এবং ইরাক, সিরিয়া ও ফিলিস্তিনে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের লড়াইয়ের কথা উল্লেখ করেন।
নেতানিয়াহু একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশংসা করে বলেন, ইসরায়েলের ‘ট্রাম্পের চেয়ে বড় কোনো অংশীদার ছিল না।’
নেতানিয়াহু বক্তব্য দিতে মঞ্চে ওঠার সময় বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদলের অনেক সদস্য জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। ঘটনাটিকে নেতানিয়াহু তার বক্তব্যে সমালোচনা করেন এবং কক্ষ ত্যাগ করা প্রতিনিধিদের ‘নৈতিকভাবে কাপুরুষ’ বলে আখ্যায়িত করেন।