শিরোনাম
◈ আর্থিক বিশ্বের নতুন শক্তি হংকং, পেছনে ফেলতে পারে নিউইয়র্ক-লন্ডনকে ◈ শিক্ষার বেহাল দশা নিয়ে আন্দোলনে শিশুরা, ভারতে জেন আলফার উত্থান ◈ বরাদ্দ করা কক্ষে উইপোকা, মধ্যরাতে সার্কিট হাউস ছাড়লেন বিরোধীদলীয় উপনেতা ◈ বাগেরহাটের খানজাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণে আগ্রহী চীন-আমিরাত ◈ শাপলা চত্বর থেকে চট্টগ্রামের পথে ১১ দলীয় ঐক্যের ‘লং মার্চ’ ◈ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের পরিণতি কী, জানালেন তিন বিশেষজ্ঞ ◈ রাজধানীতে শিশু অপহরণের অভিযোগ, সিসিটিভি ফুটেজে যা দেখা গেল ◈ বিশ্বের নতুন মানচিত্র অনুমোদন দিলো জাতিসংঘ ◈ তিন দিনজুড়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি-বজ্রপাত, কোথাও ভারী বর্ষণের আভাস ◈ নবম পে-স্কেলের গেজেট নিয়ে শেষ মুহূর্তে জটিলতা

প্রকাশিত : ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৯:২৯ সকাল
আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৬ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

প্রতি রাতে কী ঘটে বৃন্দাবনের রহস্যময় নিধিবনে?

জন্মাষ্টমীতে ভারতের বৃন্দাবনে হাজারো ভক্তের সমাগম হয়। কৃষ্ণের জীবন ও কিংবদন্তির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই শহরের অন্যতম রহস্যময় স্থান নিধিবন। স্থানীয় বিশ্বাস, এখানে প্রতি রাতে রাধা, কৃষ্ণ ও গোপীদের রাসলীলা হয়।

নিধিবন একটি ছোট পবিত্র বন। সেখানে রয়েছে ঘন হয়ে বেড়ে ওঠা অসংখ্য তুলসীগাছ। এসব গাছ সাধারণ তুলসীগাছের মতো নয়। খাটো, বাঁকানো ও পরস্পরের সঙ্গে জড়ানো গাছগুলোকে ঘিরে নানা কিংবদন্তি প্রচলিত।

বিশ্বাস করা হয়, রাতে এসব গাছ গোপীর রূপ নেয়। ভোর হলে আবার গাছের রূপে ফিরে আসে।

তবে নিধিবনের সবচেয়ে বড় রহস্য রাতের নিষেধাজ্ঞা। প্রতিদিন সন্ধ্যার আগেই পুরো এলাকা খালি করে দেওয়া হয়। পুরোহিত, নিরাপত্তাকর্মী ও দর্শনার্থীরা বেরিয়ে যাওয়ার পর দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। অন্ধকারের পর সেখানে কারও থাকার অনুমতি নেই।

রং মহলে কী রাখা হয়

নিধিবনের রং মহলকে রাধা ও কৃষ্ণের বিশ্রামের স্থান বলে বিশ্বাস করা হয়। প্রতি সন্ধ্যায় সেখানে একটি বিছানা সাজিয়ে রাখা হয়। সঙ্গে রাখা হয় পানি, মিষ্টি, কাজল, চিরুনি ও অন্যান্য সামগ্রী।

স্থানীয় বিশ্বাস, সকালে এসব সামগ্রী ব্যবহারের চিহ্ন পাওয়া যায়। বিছানা এলোমেলো থাকে, পানির পরিমাণ বদলে যায় এবং অন্য সামগ্রীও নড়াচড়া করা অবস্থায় দেখা যায়। ভক্তরা এসবকে ঐশ্বরিক উপস্থিতির প্রমাণ হিসেবে দেখেন।

প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে প্রচলিত গল্পে বলা হয়, রাতে রাসলীলা দেখার চেষ্টা করা ব্যক্তিদের দুর্ভাগ্য নেমে এসেছে। এ কারণেই সূর্যাস্তের পর নিধিবন বন্ধ রাখার রীতি চালু হয়েছে।

নিধিবনে কী দেখবেন

নিধিবনের উল্লেখযোগ্য স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে রং মহল, বাঁকানো তুলসীগাছের বন, বিশাখা কুণ্ড, ললিতা কুণ্ড এবং বাঁশি চোর রাধারানি মন্দির।

নিধিবনে প্রবেশ করতে কোনও ফি লাগে না। এখানে আলাদা কোনও বিশেষ দর্শনের ব্যবস্থাও নেই। দর্শনার্থীরা একই প্রবেশপথ ব্যবহার করেন।

গ্রীষ্মে সকাল ৫টা থেকে দুপুর ১টা এবং বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত নিধিবন খোলা থাকে। শীতে সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১টা এবং বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত খোলা থাকে। তবে প্রতিদিন সূর্যাস্তের আগেই এলাকা খালি করে দেওয়া হয়।

বৃন্দাবনের মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত নিধিবন বিখ্যাত বাঁকে বিহারি মন্দির থেকে হাঁটাপথেও যাওয়া যায়। ভোরে সেখানে গেলে ভিড় কম থাকে এবং পরিবেশও তুলনামূলক শান্ত। পুরো এলাকা ঘুরে দেখতে ৪৫ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা সময় লাগে।

ধর্মীয় বিশ্বাস, লোককথা কিংবা রহস্য; যেভাবেই দেখা হোক, নিধিবনের রাতের নিষেধাজ্ঞাই স্থানটিকে বৃন্দাবনের অন্যতম আকর্ষণীয় জায়গা করে তুলেছে।

সূত্র: এনডিটিভি

  • সর্বশেষ