শিরোনাম
◈ নেপালের হিমবাহ ধস হিরোশিমার পারমাণবিক বিস্ফোরণের চেয়েও বেশি শক্তিশালী ছিল : রিপোর্ট ◈ ঝুলন্ত সেতু দেখতে এসে হতাশ, রাঙামাটি ছাড়ছেন পর্যটকরা ◈ আগস্টে রপ্তানি আয় বেড়েছে ১৩.১৪ শতাংশ ◈ মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা, বহু সেনা নিহতের দাবি আইআরজিসির ◈ খুলনায় মাঝ নদীতে ফেরির ধাক্কায় ট্রলারডুবি, উদ্ধার ৩৫ ◈ ভারতের ওপর নির্ভরতায় হুমকির মুখে বাংলাদেশের ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব ◈ সেপ্টেম্বরে বাড়ছে গ্যাস সরবরাহ! ◈ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতে সরকারের বিশেষ প্রণোদনা, ২০২৭ সালের মধ্যে স্থাপনে মিলবে সুবিধা ◈ ৪২ বছর পর নতুন বেসামরিক বিমান চলাচল বিধিমালা, বিনিয়োগ ও যাত্রীসেবায় জোর ◈ সম্পদের বিবরণ প্রকাশের শর্তে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের আহ্বান টিআইবির

প্রকাশিত : ০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৮:২৪ সকাল
আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৯:২১ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রীর পর এবার এমপি পদও ছাড়লেন কিয়ার স্টারমার

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়ার প্রায় ছয় সপ্তাহ পর এবার পার্লামেন্ট সদস্য (এমপি) পদ থেকেও সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও লেবার পার্টির সাবেক নেতা কিয়ার স্টারমার।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতিতে লন্ডনের হলবর্ন অ্যান্ড সেন্ট প্যানক্রাস আসনের এমপি পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত জানান তিনি। এর মধ্য দিয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে তার ১১ বছরের সংসদীয় ক্যারিয়ারের সমাপ্তি ঘটল।

ফেসবুকে প্রকাশিত বিবৃতিতে স্টারমার উল্লেখ করেন, গ্রীষ্মের অবকাশকালীন সময়ে তিনি নিজের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করার সুযোগ পেয়েছেন এবং তার মনে হয়েছে সংসদীয় দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য এখনই উপযুক্ত সময়। টানা ১১ বছর ধরে হলবর্ন অ্যান্ড সেন্ট প্যানক্রাস আসনের প্রতিনিধিত্ব করতে পারাকে তিনি নিজের জন্য ‘সম্মান ও সৌভাগ্য’ বলে অভিহিত করেন।

সংসদ সদস্যের পদ ছাড়লেও রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হচ্ছেন না স্টারমার। ভবিষ্যতে বৈশ্বিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে আরও বেশি সময় দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি জানান, আগামী দিনগুলোতে তিনি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, প্রতিরক্ষা, বৈশ্বিক নিরাপত্তা, বাণিজ্য এবং প্রযুক্তি খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা করছেন। এর পাশাপাশি নারী ও কন্যাশিশুদের ওপর সহিংসতা বন্ধে তার দীর্ঘদিনের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কাজ চালিয়ে যাবেন। বিবৃতিতে তিনি যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম ও ক্ষমতাসীন লেবার সরকারের প্রতি নিজের অকুণ্ঠ সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

পেশায় জ্যেষ্ঠ আইনজীবী (ব্যারিস্টার) কিয়ার স্টারমার প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার আগে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের পাবলিক প্রসিকিউশনসের পরিচালক (ডিপিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৫ সালের সাধারণ নির্বাচনে দীর্ঘদিনের লেবার এমপি ফ্রাঙ্ক ডবসনের উত্তরসূরি হিসেবে হলবর্ন অ্যান্ড সেন্ট প্যানক্রাস আসন থেকে প্রথমবারের মতো পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।

২০১৯ সালের জাতীয় নির্বাচনে দলের বিপর্যয়ের পর ২০২০ সালের ৪ এপ্রিল জেরেমি করবিনের স্থলাভিষিক্ত হয়ে লেবার পার্টির নেতৃত্ব গ্রহণ করেন স্টারমার। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৪ জুলাইয়ের সাধারণ নির্বাচনে লেবার পার্টিকে চার শতাধিক আসনে ঐতিহাসিক জয় এনে দিয়ে কনজারভেটিভ পার্টির টানা ১৪ বছরের শাসনের অবসান ঘটান তিনি এবং পরদিন ৫ জুলাই দেশটির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।

নিজের প্রধানমন্ত্রিত্বের মেয়াদ নিয়ে স্টারমার বলেন, ২০১৯ সালের শোচনীয় অবস্থা থেকে দলকে টেনে তুলে ২০২৪ সালে বিপুল ব্যবধানে ক্ষমতায় আনা তার রাজনৈতিক জীবনের এক বড় প্রাপ্তি। নিজের কার্যকালে জাতীয় অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখা, সরকারি সেবা খাতে নতুন বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং শিশু দারিদ্র্য হ্রাস করার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রায় দুই বছর দায়িত্ব পালনের পর ২০২৬ সালের স্থানীয় ও আঞ্চলিক নির্বাচনের ফলাফল এবং দলের অভ্যন্তরীণ চাপের মুখে গত ২২ জুন প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন স্টারমার। পরবর্তীতে দলীয় নির্বাচনে অ্যান্ডি বার্নহাম নতুন দলনেতা নির্বাচিত হলে গত ২০ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের কার্যালয় ছাড়েন তিনি। আর আজকের এই ঘোষণার মাধ্যমে ওয়েস্টমিনস্টারে তার সংসদীয় উপস্থিতিরও আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটল।

  • সর্বশেষ