চীন সম্প্রতি বিশ্বের প্রথম ১শ’ কিলোওয়াট ক্ষমতার বাঁশের কাঠামোয় নির্মিত ভাসমান সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র চালু করেছে, যার মাধ্যমে সামুদ্রিক জ্বালানি উৎপাদনে আরও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতির সুযোগ তৈরি হয়েছে। ‘জিলিন-২’ নামের ভাসমান প্ল্যাটফর্মটি যৌগিক বাঁশের টিউব ও পাইপ দিয়ে তৈরি এবং দেশটির শানতুং প্রদেশের ইয়ানতাইয়ের উপকূলবর্তী একটি প্রদর্শনী ঘাঁটিতে স্থাপন করা হয়েছে। প্রকল্পটির অন্যতম নির্মাতা ইয়ানতাই সিআইএমসি র্যাফেলস ওশান টেকনোলজি গ্রুপ বলেছে, “প্রচলিত ইস্পাত বা উচ্চ ঘনত্বের পলিথিন কাঠামোর তুলনায় বাঁশভিত্তিক নকশা সামুদ্রিক পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করে।”
দেশটিতে র্এআগে ২০২৩ সালে চালু হওয়া ১০ কিলোওয়াটের ‘জিলিন-১’ পরীক্ষামূলক প্রকল্পের ওপর ভিত্তি করে ‘জিলিন-২’ তৈরি করা হয়েছে। এটি সিআইএমসি অফশোর ইঞ্জিনিয়ারিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট, সিআইএমসি র্যাফেলসের গবেষণা শাখা, চায়না ফরেস্ট্রি গ্রুপ করপোরেশন এবং বেইজিং ফরেস্ট্রি ইউনিভার্সিটি যৌথভাবে তৈরি করেছে।
সিআইএমসি র্যাফেলস জানিয়েছে, তাদের পরবর্তী লক্ষ্য মেগাওয়াট-স্তরের বাঁশভিত্তিক প্রকল্প এবং বিশ্বজুড়ে পরিবেশবান্ধব সামুদ্রিক উপকরণের ব্যবহার বাড়ানো। ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ সর্বনিম্নে নিয়ে আসা এবং ২০৬০ সালের মধ্যে কার্বন নিরপেক্ষতা অর্জনের দ্বৈত কার্বন লক্ষ্যমাত্রা পূরণের জন্য চীনের উপকূল বরাবর সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের বিস্তার ঘটছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ উন্নয়নকারী প্রতিষ্ঠান সিএইচএন এনার্জির তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বরে শানতুংয়ের দোংইং উপকূলে এক গিগাওয়াট ক্ষমতার বিশ্বের বৃহত্তম সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র চালু করা হয়। তবে, প্রচলিত উপকূলবর্তী সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রে সাধারণত ইস্পাত বা প্লাস্টিকের কাঠামো এবং ভাসমান উপকরণ ব্যবহার করা হয়ে থাকে। প্লাস্টিকের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের জন্য চীন ২০২৩ সালে একটি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করে এবং জুলাইয়ে প্রকাশিত সর্বশেষ বন ও তৃণভূমি সংরক্ষণ পরিকল্পনাতেও উদ্যোগটি অন্তর্ভুক্ত করেছে।
বেইজিং ফরেস্ট্রি ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক চি ছুশেং সরকারি বন বাণিজ্য পত্রিকা ‘চায়না গ্রিন টাইমস’-কে বলেছেন যে, কাঠ এবং বাঁশের উপকরণগুলোকে উচ্চ আর্দ্রতা, ক্ষয়, লবণাক্ত পানি এবং অতিবেগুনি রশ্মি প্রতিরোধ করার জন্য বিশেষভাবে পরিবর্তন করা হয়েছে।
সংবাদপত্রটির ১২ আগস্টের প্রতিবেদন অনুসারে, এই নবায়নযোগ্য উপাদানগুলোকে প্রক্রিয়াজাত করে উচ্চ-মূল্যের ও টেকসই প্রকৌশল সামগ্রী তৈরি করা যায়, যা প্রচলিত ও অধিক শক্তি-ব্যয়কারী উপকরণের উপর নির্ভরতা কমায়। চীন অন্যান্য প্রকল্পেও বাঁশ-ভিত্তিক উপকরণ ব্যবহার করছে, যার মধ্যে রয়েছে দেশটির শুষ্ক উত্তরাঞ্চলে মরুকরণ মোকাবেলায় বালুর সঞ্চালন নিয়ন্ত্রণের প্রকল্পও রয়েছে।