শিরোনাম
◈ ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ ◈ চলতি অর্থবছরেই দেশের সব স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে: প্রতিমন্ত্রী ◈ ইং‌লিশ লি‌গে চেল‌সি ফুলহ্যামকে হারালো ৩-২ গো‌লে ◈ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ভাইরাল প্রধান শিক্ষকের কাণ্ড (ভিডিও) ◈ একীভূত পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকেরা ১ সেপ্টেম্বর থেকে চাহিদামতো টাকা তুলতে পারবেন ◈ আমার ছেলেকে হত্যার চেষ্টা করছে ইরান: নেতানিয়াহু ◈ চট্টগ্রাম-মোংলা-পায়রা বন্দর ব্যবহারে ভারতের সুবিধা, আওয়ামী লীগ আমলের তিন চুক্তি নিয়ে উঠছে প্রশ্ন! ◈ ব্যাটারিচালিত রিকশার জন্য দ্রুত নীতিমালা তৈরি করা হচ্ছে : তথ্য উপদেষ্টা ◈ প্রতি ম‌্যা‌চের জন‌্য ৪.৮৫ কো‌টি টাকা, নতুন টাইটেল স্পনসর খুঁজছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড ◈ রাজধানীসহ সারা‌দে‌শে প্রতিদিন গড়ে খুন হচ্ছে ১০ জন, সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ড কেন নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না?

প্রকাশিত : ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ০১:৩১ দুপুর
আপডেট : ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ০১:৫৮ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

৪০০ সদস্যের বিশাল বহর নিয়ে ৭ বছর পর দিল্লি যাচ্ছেন শি জিনপিং

বিশাল বহর নিয়ে আগামী মাসে নয়াদিল্লি যাচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। একাধিক কূটনৈতিক সূত্র তার সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে এটি কোনো দ্বি-পাক্ষিক সফর নয়। আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতের অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেবেন শি জিনপিং। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, উপলক্ষ্য ব্রিকস সম্মেলন হলেও ৭ বছর পর শি জিনপিং এর ভারত সফরের মূল লক্ষ্য দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়ন। 

শি জিনপিং অন্তত ৪০০ জনের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০১৯ সালে সর্বশেষ ভারত সফরের সময় জিনপিং এর সঙ্গী ছিলেন ২০০ জন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্রিকসের মূল এজেন্ডার বাইরে সাইড লাইনের নানা আয়োজনে বেইজিং ও নয়াদিল্লির সম্পর্ক স্থিতিশীল করার প্রচেষ্টা থাকবে। বিশেষ করে ২০২০ সালে দুই দেশের মধ্যে প্রাণঘাতী সীমান্ত সংঘর্ষ এবং বর্তমানেও সীমান্ত নিয়ে কিছু বিরোধের সময় শি জিনপিংএর এই সফর খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

শি জিনপিং এর সফরের বিষয়ে জানেন, এমন একজন ভারতীয় কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘চীনা কর্মকর্তারা হোটেল নির্ধারণ এবং নিরাপত্তা প্রোটোকল চূড়ান্ত করতে ব্যস্ত রয়েছেন।’ 

গত বছর ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সাত বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো চীন সফর করেছিলেন।

সূত্রগুলো বলছে, উভয় দেশের কর্মকর্তারা এই সম্মেলনকে ব্যবহার করে দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুগুলো সামলানোর পাশাপাশি পারষ্পরিক সম্পর্ক বাড়ানোর উপায়গুলো খতিয়ে দেখবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে শি জিনপিংয়ের চূড়ান্ত ভ্রমণ পরিকল্পনা এবং ভারত ও চীনের মধ্যে কোনো সম্ভাব্য দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের এজেন্ডা এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘চীন ব্রিকস সহযোগিতাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় এবং এতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। বর্তমান সভাপতি ভারতকে এ বছরের ব্রিকস সম্মেলন সফলভাবে আয়োজনে চীন সমর্থন জানায়।’ তবে শি জিনপিংয়ের সফরের বিষয়ে তারা বলেছে, ’বর্তমানে আমাদের কাছে দেয়ার মতো কোনো তথ্য নেই।’ এ বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো মন্তব্য করেনি। উল্লেখ্য, শি জিনপিং ২০২৫ সালে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত গত ব্রিকস সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন না।

বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল এবং পারমাণবিক শক্তিধর এই দুই দেশ চীন ও ভারত হিমালয় অঞ্চলে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত ভাগ করে নিয়েছে। যার অনেকটাই অচিহ্নিত এবং বিতর্কিত। সীমান্তবর্তী এলাকায় কয়েক দশকের আপেক্ষিক শান্তি ২০২০ সালের সংঘর্ষের মাধ্যমে ভেঙে চুরমার হয়ে যায়, যেখানে ২০ জন ভারতীয় এবং চারজন চীনা সেনা নিহত হন। এই ঘটনার জের ধরে চার বছর ধরে সামরিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল, যা অবশেষে ২০২৪ সালের অক্টোবরে একটি সেনা প্রত্যাহার চুক্তির মাধ্যমে নিরসন হয়।

তবে গত ১২ আগস্ট ভারত জানায় যে, জুলাইয়ের শেষের দিকে একটি প্রত্যন্ত সীমান্তের কাছে ভারত ও চীনের সেনা টহল দল মুখোমুখি অবস্থানে চলে আসার খবরের পর, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্য সীমান্তে শান্তি বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এদিকে, সীমান্ত সমস্যা নিয়ে আলোচনা করতে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল সোমবার বেইজিং সফর শুরু করেছেন, যেখানে তিনি চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-র সাথে বৈঠকে বসবেন।

ভারত ও চীন পরস্পরের প্রতিদ্বন্দী হিসেবে থাকলেও, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্য নীতি তাদের মধ্যে একটি সাধারণ ঐকমত্যের ক্ষেত্র তৈরি করেছে। ফলে শি জিনপিংয়ের এই সম্মেলনে উপস্থিতি এটিই ইঙ্গিত করে যে, কোনো পক্ষই চায় না বাইরের কোনো চাপ ব্রিকস-এর গুরুত্বকে ক্ষুণ্ন করুক।

 

  • সর্বশেষ