ডিএনএ পরীক্ষায় ৯৯ দশমিক ৫ শতাংশ মিল পাওয়ার পর বেলজিয়ামের রাজপরিবারের সদস্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন ২৬ বছর বয়সী গাড়ি বিক্রেতা ক্লিমেন্ট ভ্যান্ডেনকেরখোভ। আইনগতভাবে বেলজিয়ামের রাজার ভাই প্রিন্স লরেন্ট তাকে নিজের ছেলে হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর রাজপুত্রের মর্যাদাও পেয়েছেন তিনি।
রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স লরেন্ট ও বেলজিয়ান গায়িকা ওয়েন্ডি ভ্যান ওয়ানটেনের সন্তান ক্লিমেন্টকে ছয় মাস আগে একটি টাউন হল অনুষ্ঠানে প্রিন্স লরেন্টের পরিবারে গোপনে গ্রহণ করা হয়। তবে বিষয়টি সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসে।
রাজপুত্র হিসেবে স্বীকৃতি পেলেও কোনো রাজকীয় ভাতা পাবেন না ক্লিমেন্ট। একইভাবে তার সৎবোন প্রিন্সেস লুই এবং সৎভাই প্রিন্স আইমেরিক ও প্রিন্স নিকোলাসের মতো তিনি বেলজিয়ামের রাজকীয় উত্তরাধিকার সূত্রেও থাকবেন না। প্রকাশ্য রাজকীয় কার্যক্রমেও অংশ নেবেন না তিনি।
রাজপরিবারে নিজের বাবার পরিচয় মেনে নিতে কয়েক বছর সময় লেগেছে ক্লিমেন্টের। বাবার দেওয়া পারিবারিক নাম স্যাক্সে-কোবার্গ ব্যবহার করবেন কি না, সে বিষয়েও এখনো নিশ্চিত নন তিনি।
হেট নিউজব্ল্যাডকে ক্লিমেন্ট বলেন, হয়তো তিনি বাবার পারিবারিক নাম ব্যবহার করতে পারেন। তবে ভ্যান্ডেনকেরখোভ নাম নিয়ে তিনি গর্বিত। মায়ের জন্য এই পারিবারিক নাম ত্যাগ করাকে তিনি তার প্রতি এক ধরনের বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে দেখেন।
ক্লিমেন্ট বেলজিয়ামের মানুষের কাছে বেশ পরিচিত। গত সেপ্টেম্বরে একটি ফ্লেমিশ টিভি প্রামাণ্যচিত্রের কেন্দ্রীয় চরিত্র ছিলেন তিনি। সেখানে বাবার সঙ্গে তার প্রথম পরিচয়ের ঘটনাও তুলে ধরেন।
ক্লিমেন্টের বাবা প্রিন্স লরেন্ট ২০০৩ সালে প্রিন্সেস ক্লেয়ারকে বিয়ে করার আগে ওয়েন্ডি ভ্যান ওয়ানটেনের সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন। ওয়েন্ডির আসল নাম আইরিস ভ্যান্ডেনকেরখোভ।
ভিটিএমের প্রামাণ্যচিত্রে ক্লিমেন্ট জানান, ২০১৩ সালে একটি শপিং মলে অপ্রত্যাশিতভাবে প্রিন্স লরেন্টের সঙ্গে তার দেখা হয়। তখন তিনি জানতেন না ওই ব্যক্তি কে। তার বয়স যখন ১৬ বছর, তখন মা তাকে বাবার পরিচয় জানান।
এর চার বছর পর বাবাকে ফোন করার সাহস করেন ক্লিমেন্ট। পরে তাদের ব্যক্তিগতভাবে দেখা হয়। একপর্যায়ে প্রিন্স লরেন্ট ডিএনএ পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন।
ক্লিমেন্ট ভিটিএমকে জানান, তারা একসঙ্গে হাসপাতালে গিয়েছিলেন। সেখানে প্রিন্স লরেন্ট তাকে স্বস্তি দেওয়ার জন্য আগে পরীক্ষায় যাওয়ার কথা বলেছিলেন। পরে পরীক্ষাগার থেকে ইমেইলের মাধ্যমে জানানো হয়, তাদের ডিএনএতে ৯৯ দশমিক ৫ শতাংশ মিল রয়েছে।
প্রিন্স লরেন্টের বাবা সাবেক রাজা দ্বিতীয় অ্যালবার্টও ডিএনএ পরীক্ষা করিয়েছিলেন। ২০২০ সালে তিনি স্বীকার করেন, একটি সম্পর্কের সময় তার একটি কন্যাসন্তান জন্মেছিল। পরে তাকে নিজের মেয়ে হিসেবে স্বীকৃতি দেন তিনি।
পিতৃত্বের বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হওয়ার পর ২০১৩ সালে দ্বিতীয় অ্যালবার্ট বেলজিয়ামের রাজার পদ থেকে সরে দাঁড়ান।
ডেলফিন বোয়েল নামের পরিচিত শিল্পী দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর জয়ী হয়ে রাজকন্যা উপাধি পাওয়ার অধিকার অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি নিজেকে ডেলফিন দে স্যাক্সে-কোবার্গ নামে পরিচয় দেন।
২০১৩ সালে বেলজিয়ামের আইনে পরিবর্তন আনা হয়। এর ফলে রাজপরিবারের কেবল কয়েকজন সদস্য সরকারি ভাতা পাওয়ার অধিকারী। তারা হলেন রাজা ফিলিপ, সাবেক রাজা দ্বিতীয় অ্যালবার্ট, প্রিন্স লরেন্ট এবং প্রিন্সেস আস্ট্রিড।
সূত্র: বিবিসি