শিরোনাম
◈ মামলা কমিয়ে খেলাপি ঋণ আদায়ে নতুন কৌশল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ◈ পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন তথ্য দিলেন অর্থ উপদেষ্টা ◈ দ্বিপক্ষীয় উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের আলোচনা ◈ আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেবে বিএনপি: ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ◈ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ও ৭০ অনুচ্ছেদ: জুলাই সনদে যেসব পরিবর্তনের প্রস্তাব ছিল ◈ বাবাজী, আমার যৌবন বা বেডরুম নিয়ে মিছামিছি দিবা স্বপ্ন দেখা বন্ধ করুন: বাবা রামদেবকে বললের কঙ্গনা ◈ হোটেল নোংরা করার অভিযোগ, জেমসের মুখপাত্র বললেন ‘রুমটি জেমসের ছিল না’ ◈ রাষ্ট্রপতির শপথ, শুক্রবার বন্ধ থাকবে যেসব সড়ক ◈ জলাবদ্ধতায় এইচএসসি পরীক্ষা দিতে না পারা শিক্ষার্থীদের ৩ বিষয়ের পরীক্ষা কবে, জানুন কেন্দ্র ও কারা দিতে পারবেন ◈ রিজার্ভে ঊর্ধ্বগতি, বেড়ে ৩৭.৩৪ বিলিয়ন ডলার

প্রকাশিত : ২১ আগস্ট, ২০২৬, ০১:১৩ রাত
আপডেট : ২১ আগস্ট, ২০২৬, ০২:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ইরানকে চাপে ফেলতে ট্রাম্পের নতুন কৌশল, কার্যকারিতা নিয়ে সংশয়

ইরানের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন ও বিধ্বংসী অর্থনৈতিক যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ার মধ্যে ইরানকে বিশ্ব অর্থনীতি থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করার এই হুমকি দিয়েছেন তিনি। যদিও এই পদক্ষেপের কার্যকারিতা ও পরিণতি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন বিশ্লেষকরা। 

আলজাজিরার খবরে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়া দেশগুলোর ওপর কঠোর অর্থনৈতিক শাস্তির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তেহরানের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে কার্যকর থাকা কঠোর নিষেধাজ্ঞাগুলোর পর নতুন করে চাপ সৃষ্টির সুযোগ বেশ সীমিত। 

গত বুধবার নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, ‘আজ আমি কোনো দেশের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত নেওয়া সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপ ঘোষণা করছি! এটি হবে নজিরবিহীন অর্থনৈতিক যুদ্ধ ও একঘরে অবস্থা।’ তিনি বলেন, ‘যে দেশ তার আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বিমানবন্দর বা সরকারি সংস্থা ইরানকে যে কোনো ধরনের সহায়তা দেওয়ার সুযোগ দেবে, সেই দেশকেও ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।’ 

ইরানকে সহায়তা করলে দেশগুলোকে কী ধরনের শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে, তা ট্রাম্প নির্দিষ্ট করে বলেননি। যদিও এ ধরনের পদক্ষেপের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্লেষকরা। 

যুক্তরাষ্ট্রের ব্র্যান্ডাইস বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক অর্থনীতির অধ্যাপক নাদের হাবিবির মতে, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো চীন, তুরস্ক ও ইরাক। কারণ, সংযুক্ত আরব আমিরাত বাণিজ্য স্থগিত করার পর চীনই ইরানের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক ভরসা। তবে বেইজিং ইতোমধ্যেই তাদের ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা না মানার বার্তা দিয়েছে। ফলে চীন বা মধ্য এশিয়ার সঙ্গে ইরানের সীমান্ত বাণিজ্য পুরোপুরি বন্ধ করা ওয়াশিংটনের জন্য প্রায় অসম্ভব একটি কাজ। 

আবার অর্থনৈতিক যন্ত্রণা দিলেই ইরান আত্মসমর্পণ করবে– পেন্টাগনের এমন ধারণা ভুল বলে উল্লেখ করেছেন ইসরায়েলি সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক কর্মকর্তা ড্যানি সিট্রিওভিচ। তিনি বলেন, বরং এই অতিরিক্ত চাপ পরিস্থিতিকে আরও বড় সামরিক সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে। 

যুক্তরাষ্ট্রের ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের রেকর্ড জাতীয় ঋণ এবং যুদ্ধজনিত মূল্যস্ফীতি থেকে আমেরিকানদের দৃষ্টি ঘোরাতেই ট্রাম্পের এই হুঙ্কার বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। 

ট্রাম্পের ঘোষণাকে অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ আখ্যা ইরানের 
ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের ঘোষণাকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি একে অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকট ও ঋণের চাপ থেকে দৃষ্টি সরাতেই এমন নাটক সাজানো হচ্ছে। বারবার ব্যর্থ নীতির পুনরাবৃত্তি মার্কিনিদের জন্য কেবল আরও বড় পরাজয় ও ইরানিদের ঘৃণা ডেকে আনবে। 

এ ছাড়া ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘরিবাবাদি জানান, মার্কিন প্রশাসন ভুল হিসাবনিকাশের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। সামরিক অভিযানে কোনো সাফল্য না পেয়ে তারা এখন নিজেদের পরবর্তী ব্যর্থতাকে অর্থনৈতিক যুদ্ধ নাম দিচ্ছে। 

এদিকে ট্রাম্পের ঘোষণার পর চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেছেন, এককভাবে চাপ সৃষ্টি বা নিষেধাজ্ঞা কোনো সংকটের সমাধান হতে পারে না। চীন অবিলম্বে সব পক্ষকে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উপায়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। 

বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি
ট্রাম্পের এই অর্থনৈতিক যুদ্ধের ঘোষণার পরপরই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক লাফে আড়াই শতাংশের কাছাকাছি বেড়ে গেছে। আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯৪ ডলারে উঠে গেছে, যা গত কয়েক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। 

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি কমানোর পরিকল্পনা 
কয়েক মাসের টানা ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ফলে পেন্টাগন এখন ওই অঞ্চল থেকে সেনা উপস্থিতি ও স্থায়ী ঘাঁটি কমানোর মূল্যায়নে নেমেছে। দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের তথ্যমতে, বাহরাইন ও কুয়েতের মতো ঝুঁকিপূর্ণ ঘাঁটিগুলো যুদ্ধের আগের অবস্থায় পুনর্নির্মাণ না করে, সেনাদের জর্ডান, ইসরায়েল কিংবা লোহিত সাগর উপকূলে সরিয়ে নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়