শিরোনাম
◈ ব্যালট পেপারসহ ভোটের সামগ্রী নিয়ে সংসদের পথে ইসি ◈ আপনার আয় কোন খাতে? ৭ ধরনের আয় থাকলে রিটার্ন বাধ্যতামূলক ◈ ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, শপথ পড়াবেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল ◈ নবম পে-স্কেলের গেজেট সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি ◈ ব্রিকসের আগে তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে ‘তাড়াহুড়ো নয়’: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ◈ ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের বরফ গলাতে তারেক রহমানের ভারত সফর গুরুত্বপূর্ণ: ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস সম্পাদকীয় ◈ আল আহলিকে হারিয়ে বার্সেলোনার জুয়ান গাম্প্যার ট্রফি জয় ◈ প্রস্তুত সংসদ সচিবালয়, আজ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ ◈ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রেসিডেন্ট ও সিনিয়র আইনজীবীর উপর নিষেধাজ্ঞা দি‌লেন ডোনাল্ড ট্রাম্প ◈ আবার পা‌কিস্তান ও ভারত গেমে বাংলাদেশ!

প্রকাশিত : ২০ আগস্ট, ২০২৬, ১২:১৭ দুপুর
আপডেট : ২০ আগস্ট, ২০২৬, ০১:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের বরফ গলাতে তারেক রহমানের ভারত সফর গুরুত্বপূর্ণ: ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস সম্পাদকীয়

বাংলাদেশের সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের সম্পর্ক শিথিল হয়ে পড়েছে। এ সম্পর্ক নতুন করে সাজানোর জন্য ভারতের উদ্যোগ দেশটির ‘প্রতিবেশী প্রথম’ নীতির কৌশলগত চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনাগুলোকে স্পষ্ট করে তুলেছে। এ কথা জানিয়ে ভারতের ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস তার সম্পাদকীয়তে দুই দেশের সম্পর্ককে নতুনভাবে শুরু করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। তারা বলেছে, এই সম্পর্ক নতুন করে শুরু করা জরুরি।

ভারতের উন্নয়নের কাহিনীতে ঢাকার অংশীদারিত্ব আছে। এই অংশীদারিত্বকে নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের সঙ্গে দিল্লিকে অবশ্যই সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। কারণ দুই দেশই এমন প্রতিবেশী, যারা অভিন্ন নদী, রেলপথ, জ্বালানি অবকাঠামো এবং প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত ভাগাভাগি করে নেয়। এতে আরও বলা হয়, প্রতিবেশী দেশগুলোর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা মোটেও সহজ নয়। তবে এ ক্ষেত্রে ভারত কিছুটা সাফল্যও পেয়েছে।

ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেয়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কে ইতিমধ্যে কূটনৈতিক শীতলতা নেমে এসেছে। ভারতের আমন্ত্রণে তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফরের জন্য কঠিন কিছু শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। ফেব্রুয়ারি থেকেই সেই সফরের আমন্ত্রণ ঝুলে আছে। এ ছাড়া বঙ্গোপসাগরীয় বহুখাত ভিত্তিক কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা উদ্যোগ বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেয়ার জন্যও তার কাছে আরেকটি আমন্ত্রণ রয়েছে।

এ মাসের শুরুতে নয়াদিল্লিতে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিতর্কিত ভার্চুয়াল গণমাধ্যম সংযোগ দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তারেক রহমানের ভারত সফরের জন্য বাংলাদেশ কঠোর কিছু শর্ত সামনে এনেছে। এর মধ্যে রয়েছে শেখ হাসিনা এবং আরও কয়েকজন কথিত অপরাধীকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ করা, যাতে তারেক রহমানের সফরের জন্য আরও ‘অনুকূল পরিবেশ’ তৈরি হয়।

অবশ্য ভারত জোর দিয়ে বলেছে, শেখ হাসিনার ওই সংবাদ সম্মেলনের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। কিন্তু তাতে পরিস্থিতির বিশেষ পরিবর্তন হয়নি। ২০২৪ সালের আগস্টে তার সরকারের পতনের পর ঢাকা থেকে পালিয়ে এসে হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। ছাত্রদের নেতৃত্বে সরকারবিরোধী আন্দোলনে নৃশংস দমনপীড়নের মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের দায়ে বাংলাদেশের একটি আদালত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে দোষী সাব্যস্ত করেছে। ভারত জানিয়েছে, বাংলাদেশ তার প্রত্যর্পণের যে অনুরোধ জানিয়েছে, তা তারা প্রচলিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরীক্ষা করে দেখছে।

বাস্তবে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণই এখন তারেক রহমানের ভারত সফরের পূর্বশর্তে পরিণত হয়েছে। এর আগে সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আসার পরিকল্পনার কথা বলেন। ভারতে নির্বাসিত অবস্থায় থেকেই রাজনৈতিকভাবে আবারও সক্রিয় হয়ে দেশে ফেরার এমন ঘোষণা বাংলাদেশের নতুন নেতৃত্বের কাছে মোটেও সুখকর বার্তা ছিল না। প্রতিবেশী দেশগুলোর রাজনৈতিক পালাবদলের সঙ্গে সম্পর্ক সামলানো অত্যন্ত কঠিন। এর পাশাপাশি রয়েছে চীনের ক্রমবর্ধমান ভূমিকা। বিশেষ করে তার কথিত ‘চেকবুক কূটনীতি’। একই সঙ্গে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আরও বেশি চাওয়ার বিষয়টিও মোকাবিলা করতে হবে।

তারেক রহমান জোর দিয়ে বলেছেন, দিল্লি কিংবা রাওয়ালপিন্ডি নয়, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিই তার মূল বিশ্বাস। ভারতের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে তিনি এই নীতিকে সামনে রাখতে চান। ঢাকা অতীতের বিষয়গুলোকে বাধা হিসেবে না রেখে সামনে এগিয়ে যেতে প্রস্তুত। তবে এমন কিছু সমস্যার সমাধান প্রয়োজন, যার সুফল সরাসরি সাধারণ মানুষ পাবে। তারেক রহমান মর্যাদা, সমতা, পারস্পরিক আস্থা ও সম্মানের ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে চান।

এই সম্পর্কের ক্ষেত্রে দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ ও সম্পর্ক তাই আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ভারতও অতীতকে পেছনে ফেলে ‘ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যতমুখী সম্পর্ক’ গড়ে তুলতে আগ্রহী। বাংলাদেশ যেমন চায়, ভারতও তেমনি আরও শক্ত ভিত্তির ওপর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন করে সাজাতে চায়।

দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক বাণিজ্যে বাংলাদেশ ভারতের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। দুই দেশের মোট দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য থেকে আসে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে আরও ভালো যোগাযোগ স্থাপনের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের গুরুত্ব অপরিসীম। ইতিমধ্যে চালু হওয়া আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থা এমনভাবে গড়ে উঠছে, যাতে নতুন পরিবহন ও জ্বালানি অবকাঠামোর মাধ্যমে নেপাল, ভুটান, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং বঙ্গোপসাগরকে নির্বিঘ্নে সংযুক্ত করা যায়।

এই আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থাকে কাজে লাগানো বাংলাদেশ ও ভারত উভয়ের জন্যই লাভজনক। দুই দেশের মধ্যে যত মতপার্থক্যই থাকুক না কেন, কঠোর পূর্বশর্ত আরোপের মাধ্যমে সেগুলোর সমাধান সম্ভব নয়। বরং দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সরাসরি সংলাপের মাধ্যমেই এসব সমস্যার সমাধান করতে হবে। তারেক রহমানের ভারত সফরই হয়তো দুই দেশের সম্পর্ক নতুন করে সাজানোর সেই সূচনার বার্তাবাহক হয়ে উঠতে পারে। অনুবাদ: মানবজমিন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়