শিরোনাম
◈ ব্যালট পেপারসহ ভোটের সামগ্রী নিয়ে সংসদের পথে ইসি ◈ আপনার আয় কোন খাতে? ৭ ধরনের আয় থাকলে রিটার্ন বাধ্যতামূলক ◈ ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, শপথ পড়াবেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল ◈ নবম পে-স্কেলের গেজেট সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি ◈ ব্রিকসের আগে তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে ‘তাড়াহুড়ো নয়’: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ◈ ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের বরফ গলাতে তারেক রহমানের ভারত সফর গুরুত্বপূর্ণ: ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস সম্পাদকীয় ◈ আল আহলিকে হারিয়ে বার্সেলোনার জুয়ান গাম্প্যার ট্রফি জয় ◈ প্রস্তুত সংসদ সচিবালয়, আজ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ ◈ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রেসিডেন্ট ও সিনিয়র আইনজীবীর উপর নিষেধাজ্ঞা দি‌লেন ডোনাল্ড ট্রাম্প ◈ আবার পা‌কিস্তান ও ভারত গেমে বাংলাদেশ!

প্রকাশিত : ২০ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৩৩ দুপুর
আপডেট : ২০ আগস্ট, ২০২৬, ০১:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : এল আর বাদল

আবার পা‌কিস্তান ও ভারত গেমে বাংলাদেশ!

এল আর বাদল:  প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি যাওয়া, না যাওয়ার কঠিন পরীক্ষার মাঝে পাইপলাইনে ঢুকে পড়েছে সৌদি আরব। তাকে সৌদি সফরের আমন্ত্রণ জানানোও হয়েছে। বাংলাদেশে নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ জাফের এইচ বিন আবিয়াহ দেখা করে তাকে সৌদি আরবের যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদের আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দিয়েছেন। এর আগে সৌদি উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ আল-খেরেজি বাংলাদেশ সফর করে গেছেন। দেশের গণমাধ্যমকে বোঝানো হয়েছে, ওই সফরের মুখ্য উদ্দেশ্য রিয়াদের সঙ্গে ঢাকার সম্পর্ক গভীর করা।  সূত্র, ঠিকানা/ নিউ ইয়র্ক   

এমন ইঙ্গিতও দেওয়া হলো, সৌদি আরবে বাংলাদেশি জনশক্তি বৃদ্ধির নতুন সুযোগ উন্মোচিত হচ্ছে। ভেতরের খবর ভিন্ন। সৌদি আরবে অবস্থানরত বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশের পাসপোর্ট দেওয়ার পাশাপাশি যারা আগেই পাসপোর্ট পেয়েছে, তাদের পাসপোর্ট নবায়নের জন্য প্রচণ্ড চাপ দিচ্ছে। সৌদি আরবে কাজের সুযোগ সৃষ্টি হলে বাংলাদেশি নাগরিকদের যাওয়ার কথা। সেখানে কেন পাসপোর্ট দিয়ে ওই সুযোগ রোহিঙ্গাদের হাতে তুলে দেওয়া? এর মাঝে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হলে বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারের ৩ লাখ রোহিঙ্গা ফেরত নেওয়ার কথাও প্রচারিত। 

দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ১৫ আগস্ট তা জানিয়েছে বিবৃতির মাধ্যমে। জানিয়েছে, বাংলাদেশ থেকে দেওয়া তালিকা যাচাই-বাছাই করে ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জনকে রাখাইন রাজ্যের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে তাদের ফেরত নেওয়ার আগে রাখাইনের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি প্রয়োজন। রোহিঙ্গা সংকটের নবম বছর পূর্তির সময়ে এল মিয়ানমারের এ ঘোষণা।

একদিকে ভারতের হাসিনা কার্ড, আরেকদিকে সৌদিদের রোহিঙ্গা কার্ডের ফের। এ এক কঠিন পরীক্ষা। আর সেই পরীক্ষার কেন্দ্রে একজনই শেখ হাসিনা। 

ঢাকার অবস্থান স্পষ্ট। হাসিনা ও অন্যান্য ব্যক্তিদের বাংলাদেশে প্রত্যর্পণে অগ্রগতি আগে, তারপর সফর। অর্থাৎ এবার দিল্লি যাওয়ার আগে ঢাকারও শর্ত আছে। দিল্লির অবস্থানও পাল্টেছে। প্রথমে ছিল কূটনৈতিক ভাষা। এখন সামনে এসেছে আইনের ভাষা। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল বলেছেন, হাসিনার বিষয়টি ভারতের বিচারিক ও আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। অর্থাৎ সিদ্ধান্ত শুধু সরকারের নয়, আদালতও এখানে একটি পক্ষ। এখানেই নতুন সম্পর্কের মূল প্রশ্নটি। হঠাৎ আদালত কেন? হাসিনা ভারতে আছেন দুই বছর। 

বাংলাদেশ তার প্রত্যর্পণ অনুরোধ জানিয়ে আসছে, সেটাও পুরোনো খবর। কূটনৈতিক যোগাযোগও নতুন নয়। এত দিন বিষয়টি ছিল সরকারের কূটনৈতিক পরিসরেই। আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নÑযখন তারেক রহমানের দিল্লি সফর নিয়ে ঢাকা-দিল্লির দরকষাকষি চলছে, ঠিক তখনই ভারত বিষয়টিকে আদালতের দিকে নিয়ে গেল? এটি নিছক আইনি প্রক্রিয়া নয়; এখানে দিল্লির কূটনৈতিক বার্তা।

আদালত দেখিয়ে দায় এড়ানোর কৌশল। ঢাকা বলছে বাংলাদেশের আদালত রায় দিয়েছে। দিল্লি বলছে বিষয়টি দেখবে ভারতের আদালত। এক দেশের বিচারিক সার্বভৌমত্বের সামনে আরেক দেশের বিচারিক সার্বভৌমত্ব। শেখ হাসিনার অবস্থান মাঝখানে। আগে ছিল সরকার, এখন আদালত। আগে ছিল কূটনীতি, এখন আইনি প্রক্রিয়া। কিন্তু পর্দার আড়ালের দরকষাকষি আরও গভীরে। যোগ হয়েছে নতুন সমীকরণ। 

আগে প্রশ্ন ছিল, তারেক রহমান কবে দিল্লি যাবেন। এখন প্রশ্ন তারেক রহমানের দিল্লি যাওয়ার মতো পরিবেশ দিল্লি কি তৈরি করবে? ভারত প্রত্যর্পণ অনুরোধটি আইনগত প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা করছে বলে জানালেও ঢাকা শুধু কথায় সন্তুষ্ট নয়। তাই ভারতকে তারেক রহমানের সফরের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির শর্ত জুড়ে দিয়েছে। এর আগে-পরের ঘটনাপ্রবাহ অত্যন্ত জটিল। হঠাৎ করেই জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে অভিযোগ উত্থাপিত হলো বাংলাদেশে আল কায়েদার উপস্থিতি। 

ঘটনাটি ঘটল ঠিক যেদিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ভারতের রাষ্ট্রদূতের বৈঠকের পাশাপাশি ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরকারের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির একাধিক বৈঠক। জাতিসংঘে এ ধরনের রিপোর্ট উত্থাপিত হওয়ার বিষয়টা জানতেন ‘র’-এর প্রধান পরাগ জৈন? জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস এবং সংস্থাটির আরেক প্রভাবশালী কর্মকর্তা ভলকার তুর্কের সঙ্গে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব। 

জাতিসংঘের এই রিপোর্ট প্রকাশের পরপরই মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরসহ সে দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা এফবিআই নড়েচড়ে বসেছে। এদিকে চব্বিশ সালের ৫ আগস্ট থেকে জেলগুলো থেকে জঙ্গিদের পালিয়ে যাওয়া এবং পরবর্তীতে জামিনে মুক্ত হওয়ার ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে পররাষ্ট্র দপ্তরকে অবহিত করেছে। কয়েক সপ্তাহ যাবৎ মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কর্তৃক ৫০ লাখ ডলার পুরস্কারঘোষিত একজন শীর্ষ জঙ্গির (যার সঙ্গে আল কায়েদার সম্পর্কের অভিযোগ আছে) সব মামলা প্রত্যাহারসহ দণ্ড মওকুফের তৎপরতার বিষয়টি এরই মাঝে মার্কিন নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টিতে এসেছে। 

এ ঘটনায় খোদ মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ ট্রাম্প প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা ভীষণ ক্ষুব্ধ। কারণ, ওই পুরস্কারঘোষিত শীর্ষ জঙ্গির বিরুদ্ধে মার্কিন একজন নাগরিককে হত্যার অভিযোগ আছে। বাংলাদেশে আল কায়েদার সক্রিয় সেল গঠনের কথা জাতিসংঘ যখন বলছে, তখন বাংলাদেশের একটি মহল নতুন দৃশ্যপটের আশা করছে। তাদের এ আশাবাদের মধ্যেই সিলেটের ঐতিহাসিক শাহজালাল (রহ.) মাজারের একটি ডেগচি থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু, সুস্থতা ও দেশে ফেরার কামনা করে লেখা চিঠি উদ্ধার। চিঠিতে শেখ হাসিনাকে ‘মৃত্যুর মুখ’ থেকে রক্ষা করা এবং তার হায়াত বাড়ানোর জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা জানানো হয়েছে। 

একই সঙ্গে জুলাইয়ের আন্দোলনের পর দায়ের হওয়া মামলাগুলোকে ‘ষড়যন্ত্রমূলক’ ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে করা হত্যা মামলাকে ‘মিথ্যা’ উল্লেখ করে সেসব মামলা থেকে শেখ হাসিনা ও দলটির নেতা-কর্মীদের রক্ষার আবেদন করা হয়েছে। ১৫ আগস্ট সকালে মাজার প্রাঙ্গণে ডেগ থেকে পাওয়া চিঠিটির অনুলিপি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পুরোটাই এক গোলকধাঁধা। চিঠিতে লেখক হিসেবে ‘সজিব’ নামের একজনের পরিচয় দেওয়া হয়েছে। 

নিজেকে যিনি গাজীপুর জেলার বাসিন্দা এবং সিলেট আওয়ামী লীগের সমর্থক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। মাজারের ডেগে এ ধরনের চিঠি পাওয়া অবশ্য নতুন বিষয় নয়। সাধারণত দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষ মাজারে মানত, দোয়া বা ব্যক্তিগত আকাক্সক্ষার কথা লিখে রাখেন। তবে শেখ হাসিনাকে নিয়ে লেখার সঙ্গে অন্যগুলোর তফাত রয়েছে। শেখ হাসিনার নামে পাওয়া চিঠিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ এটিকে একজন সমর্থকের ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও প্রার্থনা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ ধর্মীয় স্থানে রাজনৈতিক আকাক্সক্ষা প্রকাশের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। 

শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফিরবেনÑএমন ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে দেশের রাজনীতি ও কূটনীতিতে নতুন হিসাব শুরু হয়েছে। সেই হিসাবের কেন্দ্রে এখন তিনটি বিষয়Ñশেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ আর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের নতুন সমীকরণ। এই তিনটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম, সাবেক কূটনীতিক, গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বক্তব্যে নানা সুর। এর মধ্যেই ১৬ আগস্ট ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফর আপাতত বাতিল হয়েছে। এর আগে কয়েক দিন ধরে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে এ সফর নিয়ে বিপরীতধর্মী খবর প্রকাশিত হচ্ছিল। 

ভারতীয় কিছু সংবাদমাধ্যম তো আগ বাড়িয়ে তথ্যের বন্যা বইয়ে দিচ্ছিল। সেখানে এখন ভাটা। বিপরীতে পাকিস্তানের গণমাধ্যমে স্বস্তিদায়ক পরিবেশনা। দ্য ডনসহ পাকিস্তানের কিছু সংবাদমাধ্যম রসিয়ে রসিয়ে বাংলাদেশের কূটনৈতিক স্মার্টনেসের বয়ান দিচ্ছে। বাংলাদেশকে ঘিরে দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের মনোভাব নিয়ে বড় ধরনের পরিবর্তনের গবেষণাসহ জরিপ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চ সেন্টারও। সেখানে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের ৬৬ শতাংশ মানুষ বাংলাদেশের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন। 

বিপরীতে মাত্র ২২ শতাংশের দৃষ্টিভঙ্গি নেতিবাচক। শ্রীলঙ্কার মানুষের মধ্যেও বাংলাদেশের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব বেশ শক্তিশালী। দেশটির ৫৬ শতাংশ মানুষ বাংলাদেশকে ইতিবাচকভাবে দেখেন। নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে ১৮ শতাংশের। ভারতের চিত্র একেবারেই আলাদা। মাত্র ২৫ শতাংশ ভারতীয় বাংলাদেশের প্রতি ইতিবাচক মনোভাবের কথা জানিয়েছেন। ৪৮ শতাংশের দৃষ্টিভঙ্গি নেতিবাচক। অর্থাৎ বাংলাদেশের প্রতি ইতিবাচক মনোভাবের দিক থেকে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মানুষের তুলনায় ভারতীয়দের অবস্থান অনেক পিছিয়ে।

শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্ক দ্রুত উষ্ণ হয়েছে। পিউর ২০২৪ সালের জরিপটি হয়েছিল শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকা অবস্থায়। জরিপ শেষ হওয়ার কয়েক মাস পর, ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পালাবদল ঘটে। মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়। এরপর ঢাকা ও ইসলামাবাদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়তে থাকে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়