পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য দেশ বাংলাদেশে হিন্দুরা ‘নির্যাতিত বা হুমকিতে’ রয়েছে—এমন একটি সাজানো কল্পকাহিনী ফাঁদার অপচেষ্টার মুখোমুখি হয়েছে ভারতের ত্রিপুরা পুলিশ। বৈধ কোনো কাগজপত্র ও পাসপোর্ট ছাড়াই অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের দায়ে ত্রিপুরার দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলা থেকে চট্টগ্রামের এক সনাতন ধর্মাবলম্বী দম্পতিকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির গণমাধ্যম।
টাইমস অফ ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়, গত শুক্রবার রাতে দক্ষিণ ত্রিপুরার শান্তিরবাজারের দেবদারু এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাস থেকে এই অনুপ্রবেশকারীদের আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন চট্টগ্রামের বাসিন্দা শান্তনু দেবনাথ ও তাঁর স্ত্রী।
ত্রিপুরা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত পেরিয়ে কিছু সন্দেহভাজন ব্যক্তি বাসে করে ভারতের অভ্যন্তরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দেবদারু এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিকালে শান্তনু ও তাঁর স্ত্রীর গতিবিধি ও কথাবার্তায় সন্দেহ হলে পুলিশ তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। এ সময় তাঁরা ভারতে প্রবেশের কোনো বৈধ পাসপোর্ট বা ভিসা দেখাতে ব্যর্থ হন। পরে পুলিশ তাঁদের গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার শান্তনু দেবনাথ স্বীকার করেন যে, তাঁরা গোমতী জেলার শিলাছড়ি সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছিলেন। তবে ভারতীয় পুলিশ ও আদালতের সহানুভূতি পেতে এবং ভারতে স্থায়ীভাবে থেকে যাওয়ার চক্রান্ত হিসেবে তিনি এক চতুর অজুহাত দাঁড় করানোর চেষ্টা করেন। শান্তনু দাবি করেন, বাংলাদেশে নাকি তাঁরা ‘চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির’ মুখোমুখি হচ্ছিলেন এবং সেই ‘হুমকি’ থেকে বাঁচতেই তাঁরা ভারতে এসে আশ্রয় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
অনুপ্রবেশের নেপথ্য কারণ হিসেবে ‘হুমকির’ বানোয়াট গল্প শোনালেও জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে শান্তনু প্রকাশ করে ফেলেন যে, এটি ছিল তাঁর দীর্ঘদিনের সুপরিকল্পিত পরিকল্পনা। তিনি জানান, অতীতে কলেজের একটি ট্যুরের সময় তিনি খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা সীমান্ত এলাকা ঘুরে গিয়েছিলেন। তখনই তিনি ওই দুর্গম এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে সীমান্ত পার হওয়ার রুটের সন্ধান পান। সেই পুরোনো অভিজ্ঞতা ও ছককে কাজে লাগিয়েই সুযোগ বুঝে তিনি সস্ত্রীক সীমান্ত পাড়ি দেন।
গ্রেফতারের পর তল্লাশি চালিয়ে এই দম্পতির ব্যাগ থেকে দুটি মোবাইল ফোন এবং দুটি বাংলাদেশি সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে এই অবৈধ অনুপ্রবেশের পেছনে কোনো সুনির্দিষ্ট চক্রান্ত বা কোনো দালাল চক্র জড়িত রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে ভারতীয় পুলিশ গ্রেফতারকৃতদের রিমান্ডে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।
সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ভুয়া অজুহাত তুলে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার যে প্রবণতা তৈরি করার চেষ্টা চলছে, এই ঘটনা তারই একটি জ্বলন্ত প্রমাণ।
সূত্র: ইনকিলাব