শিরোনাম
◈ হাসিনা কলকাঠি নাড়ছেন, গুপ্তরা বাতাস দিচ্ছে: রিজভী ◈ নারী ত্রিদেশীয় সিরিজের বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল ঘোষণা ◈ ইরান যুদ্ধ ও জ্বালানি সংকটের মধ্যেও ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ২.৯%: OECD ◈ পণ্য খালাসের সময় ও ব্যয় কমাতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর ◈ আগামী শুক্র ও শনিবার ব্যাংক খোলা ◈ রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ৫ দফা প্রস্তাব: জাতিসংঘের সাইডলাইন বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর জোরালো আহ্বান ◈ হুতিদের হামলা ঠেকাতে সৌদির অনুরোধে সাড়া নেই, ট্রাম্প-সালমান সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন ◈ গেটস ফাউন্ডেশনের সিইওর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, স্বাস্থ্যখাতে এআই ব্যবহারের পরিকল্পনা ◈ ১০ বছরে জ্বালানি তেল থেকে সরকারকে ১ লাখ ১৯ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে বিপিসি ◈ লিভারপুলের অ্যানফিল্ড গুগল রেটিংয়ে এগিয়ে

প্রকাশিত : ২১ জুন, ২০২৬, ০৩:৫০ দুপুর
আপডেট : ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ০৫:০০ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

আরব আমিরাত ১৫ বছরের নিচে শিশুদের জন্য নিষিদ্ধ করলো সোশ্যাল মিডিয়া

১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। শিশুদের অনলাইন ঝুঁকি, ক্ষতিকর কনটেন্ট এবং ডিজিটাল আসক্তি থেকে সুরক্ষার লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির মন্ত্রিসভা। খবর গালফ নিউজের। 


নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৫ বছরের কম বয়সীরা ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, এক্স এবং স্ন্যাপচ্যাটে কোনো ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট খুলতে বা ব্যবহার করতে পারবে না। তারা পোস্ট করা, মন্তব্য করা, পাবলিক গ্রুপে যোগ দেওয়া কিংবা অনলাইন আলোচনায় অংশ নেওয়ার সুযোগও পাবে না। এ ক্ষেত্রে অভিভাবকের অনুমতিকেও কোনো ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য করা হবে না বলে জানানো হয়েছে।

advertisement


তবে ১৫ থেকে ১৬ বছর বয়সীদের জন্য সীমিত আকারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের সুযোগ থাকবে। তাদের ক্ষেত্রে বয়সভিত্তিক কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ, ঝুঁকিপূর্ণ ফিচার নিষ্ক্রিয়করণ এবং বাধ্যতামূলক প্যারেন্টাল কন্ট্রোল ব্যবস্থার মতো কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে।


ইউএই সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোকে নির্ভরযোগ্য বয়স যাচাই পদ্ধতি চালু করতে হবে। এর জন্য ডিজিটাল আইডি, পরিচয়পত্র যাচাই, বায়োমেট্রিক প্রযুক্তি অথবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বয়স নির্ধারণ পদ্ধতি ব্যবহার করা যেতে পারে। শুধু ব্যবহারকারীর নিজের দেওয়া বয়স বা তথ্য গ্রহণযোগ্য হবে না। এছাড়া, শিশুদের অনলাইন কার্যকলাপ বা পছন্দ-অপছন্দ অনুসরণ করে তাদের লক্ষ্য করে বিজ্ঞাপন দেখানোও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

advertisement


তবে, এই সিদ্ধান্ত কীভাবে কার্যকর হবে এবং নিয়মগুলো কীভাবে মানানো হবে তা নিয়ে জনসাধারণের মধ্যে নানা প্রশ্ন উঠে এসেছে। 


সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন নিয়ম কীভাবে বাস্তবায়ন হবে এবং তা কীভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা আগামী সপ্তাহে প্রকাশ করা হবে।

advertisement

সরকারের মতে, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য শিশুদের জন্য নিরাপদ, ভারসাম্যপূর্ণ ও বয়সোপযোগী ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করা। এ কারণে ব্যক্তিগত সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের ন্যূনতম বয়স ১৫ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ১৫ থেকে ১৬ বছর বয়সীদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বর্তমান প্রজন্ম ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল পরিবেশে বড় হচ্ছে, যেখানে সুযোগের পাশাপাশি ঝুঁকিও বাড়ছে। তাই শিশুদের সুস্থ বিকাশ, মানসিক স্বাস্থ্য এবং বাস্তব জীবনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে সরকার এই পদক্ষেপ নিয়েছে।


নতুন ব্যবস্থার আওতায় অভিভাবকরা নিরাপদ ডিজিটাল ব্যবহার, প্যারেন্টাল কন্ট্রোল, স্ক্রিন টাইম ব্যবস্থাপনা এবং অনলাইন ঝুঁকি সম্পর্কে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও সহায়তা পাবেন। তবে এসব ব্যবস্থা বাস্তবায়নের মূল দায়িত্ব থাকবে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপর।

এদিকে, শিশুদের স্বাস্থ্যকর ডিজিটাল অভ্যাস গড়ে তুলতে সরকার সচেতনতামূলক উপকরণ ও গাইডলাইন সরবরাহ করবে। পাশাপাশি খেলাধুলা, সৃজনশীল কার্যক্রম, শিক্ষামূলক উদ্যোগ এবং বয়সোপযোগী নিরাপদ ডিজিটাল কনটেন্টের প্রচার করা হবে।


স্কুলগুলোতেও ডিজিটাল নিরাপত্তা শিক্ষা, সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং নিরাপদ অনলাইন আচরণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও শিক্ষামূলক কর্মসূচি চালু করা হবে।

এছাড়া, কোনো প্ল্যাটফর্ম নিয়ম না মানলে কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশাসনিক জরিমানা, আংশিক নিষেধাজ্ঞা বা গুরুতর ক্ষেত্রে পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার মতো ব্যবস্থা নিতে পারবে। তবে, সরকার স্বীকার করেছে যে শতভাগ প্রতিরোধ সম্ভব নয়। তবে প্ল্যাটফর্মগুলোকে কার্যকর বয়স যাচাই ব্যবস্থা চালু করতে হবে, নিয়মবহির্ভূত অ্যাকাউন্ট বন্ধ করতে হবে এবং নিয়ম ফাঁকি দেওয়ার প্রচেষ্টা কমাতে পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে অভিভাবকদেরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।


এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বয়স যাচাইয়ের জন্য শুধু প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হবে। সংবেদনশীল তথ্য অপ্রয়োজনীয়ভাবে সংরক্ষণ করা যাবে না এবং পুরো প্রক্রিয়া নিরাপদ ও গোপনীয়তা রক্ষার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। এদিকে, সরকারি গেজেটে প্রকাশের পর সিদ্ধান্তটি কার্যকর হবে। প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্য সর্বোচ্চ ১২ মাস সময় দেওয়া হবে নতুন ব্যবস্থা বাস্তবায়নের জন্য।

সরকারের মতে, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের জন্য কোনো সর্বজনস্বীকৃত সঠিক বয়স নেই। শিশুদের পরিপক্বতা ও অভিজ্ঞতার পার্থক্য বিবেচনায় নিয়ে বাস্তবসম্মত ও ভারসাম্যপূর্ণ সমাধান হিসেবে ১৫ বছর বয়সসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। তারা আরও জানায়, শিশুদের ডিজিটাল নিরাপত্তা জোরদারে বিশ্বজুড়ে যে উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে, ইউএইর পদক্ষেপ তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে ইউএইর কাঠামোতে বয়সসীমা, প্ল্যাটফর্মের দায়বদ্ধতা, অভিভাবকদের ক্ষমতায়ন এবং গোপনীয়তাসম্মত বয়স যাচাই ব্যবস্থাকে একসঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

 

  • সর্বশেষ