শিরোনাম
◈ যুক্তরাষ্ট্রে ইতিহাস গড়লেন ২৭ বছর বয়সী মুসলিম তরুণী নাবিলা সৈয়দ, হারালেন রিপাবলিকান প্রার্থীকে ◈ ২০২৭ সালের সম্ভাব্য সরকারি ছুটির ২৯ দিনের তালিকা দেখুন ◈ তাহসিফ হত্যা মামলা: দিশার ফের ৩ দিনের রিমান্ড, তদন্তে মিলছে যে নতুন তথ্য ◈ আরও ছয়জনের মৃত্যু হাম উপসর্গে ◈ দুই দিন পরই আবার বাড়ল স্বর্ণের দাম ◈ শেখ হাসিনার সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী আটক ◈ বৃহস্পতিবার রাত থেকে ২৪ ঘণ্টা বন্ধ থাকতে পারে ডেসকোর প্রি-পেইড মিটার রিচার্জ, প্রযোজ্য যাদের জন্য ◈ ডিসেম্বরে পোশাকশ্রমিকদের বর্ধিত মজুরি চূড়ান্ত হবে, জানুয়ারিতে পাবেন বাড়তি বেতন ◈ মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে চাপে বাংলাদেশের এভিয়েশন খাত, ঝুঁকিতে ফ্লাইট ও প্রবাসী যাত্রী পরিবহন ◈ বিশ্বকা‌পে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে টিকিটের আবেদন ৮৪ লাখ, আসন মাত্র ৩৪ হাজার

প্রকাশিত : ১৮ মে, ২০২৬, ০৩:১৫ দুপুর
আপডেট : ০৬ আগস্ট, ২০২৬, ০৩:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

সুচি জীবিত থাকার নির্ভরযোগ্য প্রমাণ চাইলেন তার ছেলে

মিয়ানমারের সাবেক নেত্রী অং সান সুচি এখনও জীবিত আছেন এ বিষয়ে সামরিক জান্তার কাছে প্রমাণ দাবি করেছেন। সুচিকে গৃহবন্দি করার পর দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় পার হলেও তার অবস্থান নিয়ে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য নেই। এর প্রেক্ষিতে তার ছেলে সরকারের কাছে ওই দাবি করেছেন। সুচির ছেলে কিম আরিস বলেন, এ পর্যন্ত তার মায়ের জীবিত থাকার কোনো নিরপেক্ষ বা যাচাইযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ইন্ডিপেন্ডেন্ট।

গত ৩০শে এপ্রিল রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম একটি ছবি প্রকাশ করে। তাতে সুচিকে একটি কাঠের বেঞ্চে বসে দু’জন ইউনিফর্মধারী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। তবে সেই ছবির সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সোমবার কিম আরিস আবারও দাবি জানান, কর্তৃপক্ষ যেন তার মায়ের জীবিত থাকার প্রমাণ দেখায়। তিনি বলেন, বৃটিশ পার্লামেন্টের সামনে সমর্থকদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে তিনি এই আহ্বান জানিয়েছেন।

অং সান সুচিকে ২০২১ সালের ১লা ফেব্রুয়ারি গ্রেপ্তার করা হয়। তখন মিয়ানমারের সেনাবাহিনী নির্বাচিত সরকার উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করে। এরপর থেকে তাকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। সর্বশেষ তার ছবি প্রকাশিত হয় ২০২১ সালের মে মাসে একটি আদালতে হাজিরার সময়। কিম আরিস ফেসবুকে লিখেছেন, কেউ এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ দিতে পারেনি যে আমার মা জীবিত আছেন। তিনি আরও বলেন, ৮১ বছর বয়সী নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী সুচিকে এক স্থান থেকে আরেক গোপন স্থানে সরানো ‘স্বাধীনতা নয়’, বরং তাকে ‘বন্দি’ করে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা বারবার জানতে চেয়েছি তিনি কোথায়, কেমন আছেন এবং তিনি ভালো আছেন কি না।

এক ভিডিও বার্তায় কিম আরিস সমর্থকদের সঙ্গে মিলে সুচির অবস্থান জানার দাবি জানান। সেখানে তিনি বলেন, আমরা একটি সহজ কিন্তু জরুরি কারণে এখানে জড়ো হয়েছি। আমরা জানতে চাই, আমার মা জীবিত আছেন কি না। তিনি অভিযোগ করেন, গৃহবন্দির সিদ্ধান্তের মাধ্যমে কর্তৃপক্ষ ভেবেছিল বিশ্ব বিষয়টি ভুলে যাবে।

Advertisement

উল্লেখ্য, সুচিকে একটি ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে সাধারণ ক্ষমার আওতায় কারাগার থেকে গৃহবন্দি করা হয় শাস্তি কমানোর অংশ হিসেবে। মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ জানায়, তিনি নির্দিষ্ট একটি বাসায় তার বাকি সাজা ভোগ করবেন। তবে সেই স্থানের সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এই সাধারণ ক্ষমার আওতায় ১৫ শতাধিক বন্দি মুক্তি পান এবং আরও অনেকের সাজা কমানো হয়। মিয়ানমারে ধর্মীয় ও জাতীয় উৎসব উপলক্ষে এমন সাধারণ ক্ষমা নিয়মিতভাবে দেয়া হয়। এর আগে আরেক দফা ক্ষমায় সাবেক প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট মুক্তি পান। তিনি সুচির ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের নেতা জেনারেল মিন অং হ্লাইং পরে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্টিফেন দুজাররিক বলেন, সুচির অবস্থান পরিবর্তনকে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার জন্য সম্ভাব্য ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা যেতে পারে।

সুচিকে ২০২২ সালে মোট ৩৩ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়, যা মানবাধিকার সংগঠন ও তার সমর্থকদের মতে সেনাবাহিনীর ক্ষমতা দখলকে বৈধতা দেয়ার চেষ্টা এবং তাকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখার প্রচেষ্টা।

 

  • সর্বশেষ