শিরোনাম

প্রকাশিত : ১৩ মে, ২০২৬, ১১:০৫ রাত
আপডেট : ১৪ মে, ২০২৬, ১২:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

যুদ্ধের আবহে আরব দেশগুলোকে কড়া বার্তা ওয়াশিংটনের

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের আবহে পারস্য উপসাগরীয় আরব দেশগুলোকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি। তিনি বলেছেন, বর্তমান অচলাবস্থায় আরব দেশগুলোকে অবশ্যই ইসরায়েল অথবা ইরানের মধ্যে যেকোনও একটি পক্ষকে ‘বেছে নিতে’ হবে।

মঙ্গলবার ইসরায়েলি টেলিভিশন উপস্থাপক হিলা কোরাচের সঙ্গে আলাপকালে হাকাবি বলেন, ‘উপসাগরীয় দেশগুলো এখন বুঝতে পেরেছে যে তাদের একটি সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তাদের ওপর ইরান নাকি ইসরায়েল, কার দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি?’

তিনি আরও বলেন, ‘তারা দেখছে ইসরায়েল আমাদের (যুক্তরাষ্ট্রকে) সাহায্য করেছে আর ইরান আমাদের আক্রমণ করেছে। ইসরায়েল আপনাদের জমি দখল করতে আসছে না বা আপনাদের দিকে ক্ষেপণাস্ত্রও ছুড়ছে না।’

তেল আবিবে আয়োজিত ওই আলোচনায় হাকাবি প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন যে ইরান বনাম যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় সংযুক্ত আরব আমিরাতকে রক্ষায় ইসরায়েল তাদের আয়রন ডোম আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং এটি পরিচালনার জন্য সেনা পাঠিয়েছে। হাকাবি বলেন, ‘আব্রাহাম চুক্তির ভিত্তিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরায়েলের মধ্যে যে অসাধারণ সম্পর্ক তৈরি হয়েছে, এটি তারই ফল।’

এর আগে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ইসরায়েলি সহায়তা এবং ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে আয়রন বিম লেজার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠানোর খবর এলেও হাকাবির এই বক্তব্যই প্রথম কোনও আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি।

চলমান যুদ্ধে আমিরাত ছিল ইরানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তু। দেশটির কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, ইরান আমিরাতকে লক্ষ্য করে প্রায় ৫৫০টি ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২ হাজার ২০০-এর বেশি ড্রোন ছুড়েছে। যদিও অধিকাংশ হামলা প্রতিহত করা হয়েছে, তবে এই যুদ্ধ আমিরাতের বিলাস ভ্রমণ ও আর্থিক কেন্দ্রের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি জানিয়েছে, ইরানের হামলায় তাদের প্রধান প্রাকৃতিক গ্যাস প্ল্যান্ট হাবশান মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে এটি মাত্র ৬০ শতাংশ সক্ষমতায় চলছে এবং ২০২৭ সালের আগে এটি পূর্ণ সক্ষমতায় ফেরার সম্ভাবনা নেই।

উপসাগরীয় দেশগুলো শুরুতে এই যুদ্ধের বিরোধিতা করলেও যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তারা প্রধান নিরাপত্তা সহযোগী যুক্তরাষ্ট্রের পাশেই দাঁড়িয়েছে। সৌদি আরব মার্কিন বাহিনীকে তাদের ঘাঁটি ও আকাশসীমা ব্যবহারের সুযোগ দিলেও পাশাপাশি তাদের ঘনিষ্ঠ মিত্র পাকিস্তানের মধ্যস্থতা প্রচেষ্টাকেও সমর্থন করছে।

তবে আরব আমিরাতের অবস্থান এ ক্ষেত্রে আরও বেশি কঠোর। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এপ্রিলের শুরুতে যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই আমিরাত গোপনে ইরানের লাভান দ্বীপে হামলা চালায়। এই হামলার ফলে সেখানে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ও ক্ষয়ক্ষতি হয়। ইরান একে ‘শত্রু পক্ষীয় আক্রমণ’ হিসেবে অভিহিত করে আমিরাত ও কুয়েতে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে এর জবাব দেয়।

ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে আরব বিশ্বে ব্যাপক জনরোষ থাকা সত্ত্বেও হাকাবি আশাবাদী যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আব্রাহাম চুক্তির আওতায় আরও অনেক আরব দেশ ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে এগিয়ে আসবে। সূত্র: মিডল ইস্ট আই

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়