শিরোনাম

প্রকাশিত : ১৩ মে, ২০২৬, ০৬:৪৫ বিকাল
আপডেট : ১৩ মে, ২০২৬, ১১:১১ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

সৌরঝড়ের ঝুঁকিতে পৃথিবী: সূর্যের বুকে ভয়ংকর বিস্ফোরণ

সূর্যের বুকে বিস্ফোরণ: প্রলয়ঙ্করী সৌরঝড়ের ঝুঁকিতে বিশ্ব

সূর্যের বুকে শক্তিশালী বিস্ফোরণের পর তৈরি হয়েছে বিশাল এক গহ্বর, আর সেই ঘটনাকে ঘিরেই বাড়ছে বৈশ্বিক উদ্বেগ। পৃথিবীর দিকে ঘুরে আসা সক্রিয় সানস্পট অঞ্চল ‘এআর৪৪৩৬’ ঘিরে মহাকাশ আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মধ্যে নতুন করে শঙ্কা তৈরি করেছে।

বিজ্ঞানীরা সতর্ক করছেন, বিস্ফোরণের ফলে ছড়িয়ে পড়া চার্জযুক্ত সৌর পদার্থ পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে। এতে পৃথিবীর বুকে প্রলয়ঙ্করী সৌরঝড়ের ঝুঁকি থাকলেও তাৎক্ষণিক বড় ধরনের ঝড়ের শঙ্কা কম, তবুও আগামী কয়েক দিন পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, বিস্ফোরণের ফলে মহাকাশে ছড়িয়ে পড়া চার্জযুক্ত সৌর পদার্থ পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্রকে স্পর্শ করতে পারে। যদিও বড় ধরনের সৌরঝড়ের সম্ভাবনা কম, তবুও পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখা হচ্ছে। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আরও শক্তিশালী সৌরঝড় পৃথিবীর দিকে আঘাত হানতে পারে।

ভারতীয় মিডিয়া ইন্ডিয়া টুডে বলছে, গত ১০ মে ইউটিসি সময় ১৩:৩৯ মিনিটে অর্থাৎ বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টা ৩৯ মিনিটে সূর্যের এআর৪৪৩৬ নামে সানস্পট অঞ্চল থেকে শক্তিশালী এম৫.৭ শ্রেণির একটি সৌর বিস্ফোরণ ঘটে। আর এই বিস্ফোরণে সূর্যের বাইরের বায়ুমণ্ডলে বিশাল গহ্বর তৈরি হয়। নাসার সোলার ডাইনামিকস অবজারভেটরি (এসডিও) ধারণ করা অতিবেগুনি চিত্রে সেই গর্ত স্পষ্টভাবে দেখা গেছে।

বিস্ফোরণের সঙ্গে মহাকাশে ছিটকে যায় করোনাল মাস ইজেকশন (সিএমই) নামে পরিচিত চৌম্বকীয় সৌর প্লাজমার বিশাল মেঘও। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, সিএমইটি অল্পের জন্য পৃথিবীকে এড়িয়ে যাবে। তবে ১৩ মে এই সৌর পদার্থ পৃথিবীর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় সামান্য ভূ-চৌম্বকীয় প্রভাব দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তারা।

সোলার অ্যান্ড হেলিওস্ফেরিক অবজারভেটরির (সোহো) তথ্যভিত্তিক মডেল অনুযায়ী, সিএমইয়ের মূল অংশ পৃথিবীর পাশ কাটিয়ে যাবে। তবে বিস্ফোরণের ফলে ছড়িয়ে পড়া চার্জযুক্ত আন্তঃগ্রহীয় গ্যাসের তরঙ্গ পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্রকে স্পর্শ করতে পারে। এতে মেরু অঞ্চলের কাছাকাছি ভূ-চৌম্বকীয় অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনায় বড় ধরনের ভূ-চৌম্বকীয় ঝড় হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে পৃথিবীর দিকে ঘুরে আসা এআর৪৪৩৬ অঞ্চলটি ভবিষ্যতে আরও বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে। মহাকাশ আবহাওয়া পর্যবেক্ষকদের ভাষায়, ‘এ ধরনের সক্রিয় অঞ্চলগুলোর ওপর খুব সতর্ক নজর রাখা হয়। কারণ পরবর্তী বিস্ফোরণ হয়তো পৃথিবীকে এড়িয়ে যাবে না।’

উদ্বেগের আরেকটি কারণ হলো, গত সপ্তাহে সূর্যের উল্টো পাশে অবস্থান করেও এআর৪৪৩৬ অন্তত পাঁচটি উল্লেখযোগ্য সিএমই তৈরি করেছিল। এতে বোঝা যাচ্ছে, অঞ্চলটি অত্যন্ত অস্থিতিশীল এবং জটিল চৌম্বকীয় বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন।

আগামী কয়েক দিনে সূর্যের ঘূর্ণনের কারণে এই সক্রিয় অঞ্চলটি পৃথিবীর আরও সরাসরি মুখোমুখি অবস্থানে চলে আসবে। ফলে পৃথিবীমুখী সৌর বিস্ফোরণ ও সিএমইয়ের ঝুঁকি দ্রুত বাড়ছে।

মূলত সৌর বিস্ফোরণ বা সোলার ফ্লেয়ার হলো সূর্যের চৌম্বকীয় শক্তির আকস্মিক নিঃসরণ থেকে তৈরি তীব্র তড়িৎচৌম্বকীয় বিকিরণ। আর সিএমই তুলনামূলক ধীরগতির হলেও অনেক বেশি প্রভাব ফেলতে পারে। এগুলো পৃথিবীর দিকে এলে উপগ্রহ, রেডিও যোগাযোগ, জিপিএস ব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ গ্রিডে বিঘ্ন ঘটাতে পারে।

বর্তমানে সূর্য ‘সোলার সাইকেল ২৫’-এর সর্বোচ্চ সক্রিয় পর্যায়ের কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। এই সময়ে সূর্যে চৌম্বকীয় তৎপরতা ও বিস্ফোরণের ঘটনা বেড়ে যায়। এছাড়া গত এক বছরে কয়েকটি শক্তিশালী সৌরঝড়ের কারণে পৃথিবীর তুলনামূলক নিচু অক্ষাংশেও দৃষ্টিনন্দন অরোরা দেখা গেছে। একই সঙ্গে কিছু সময়ের জন্য যোগাযোগ ব্যবস্থাতেও বিঘ্ন ঘটে।

এখন বিশ্বের বিভিন্ন মহাকাশ আবহাওয়া সংস্থা এআর৪৪৩৬ অঞ্চলটির ওপর নিবিড় নজর রাখছে। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, এই সানস্পট একইভাবে সক্রিয় থাকলে খুব শিগগিরই পৃথিবী আরও শক্তিশালী সৌরঝড়ের সরাসরি আঘাতের মুখে পড়তে পারে। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়