শিরোনাম
◈ আলোচনায় অগ্রগতির দাবি: ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলা স্থগিতের ঘোষণা ট্রাম্পের ◈ ২২ দেশের ঐক্যেও হরমুজে ইরানের দাপট কেন কমানো কঠিন ◈ ভারতের বিমানবাহিনীর যেসব তথ্য হাতিয়ে নিল পাকিস্তান ◈ সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান ঘাঁটিতে ইরানের হামলার দাবি ◈ পেট্রোল পাম্প বন্ধের আশঙ্কা নেই, তবে সরবরাহ সংকটে চাপ বাড়ছে ◈ ঈদের ছুটি শেষে মঙ্গলবার খুলছে অফিস, ফিরছে কর্মব্যস্ততা ◈ ইরান যুদ্ধ থামাতে ট্রাম্পের ৬ কঠোর শর্ত, পর্দার আড়ালে শান্তি আলোচনার প্রস্তুতি ◈ সামনে কঠিন সময়, দ্রব্যমূল্য বাড়ার আশঙ্কা—সততার পথে এগোনোর আহ্বান মির্জা ফখরুলের ◈ মুক্তিযুদ্ধ-জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে গবেষণায় ৫ থেকে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদান: নির্দেশিকা জারি ◈ আ‌র্সেনাল‌কে হা‌রি‌য়ে চার বছর পর ইএফএল কাপ জিতল ম‌্যান‌চেস্টার সি‌টি

প্রকাশিত : ২৩ মার্চ, ২০২৬, ০৫:২৫ বিকাল
আপডেট : ২৩ মার্চ, ২০২৬, ০৭:০০ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

২২ দেশের ঐক্যেও হরমুজে ইরানের দাপট কেন কমানো কঠিন

জ্বালানি পরিবহনের জন্য বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখতে সম্প্রতি ন্যাটোর সদস্যসহ মোট ২২টি দেশ ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ঘোষণা দিলেও, এই অঞ্চলে ইরানকে সামরিকভাবে টেক্কা দেওয়া কার্যত অসম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দোহার ‘ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজ’-এর অধ্যাপক মুহাম্মদ আল-মাসরি এই সংকটের গভীরতা বিশ্লেষণ করেছেন।

অধ্যাপক আল-মাসরির মতে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটানো ইরানের জন্য তুলনামূলক সহজ কাজ। তাদের কাছে হাজার হাজার ড্রোন রয়েছে, যা ইরানের ভূখণ্ডের যেকোনো প্রান্ত থেকে এই প্রণালিতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম। এ ছাড়া দেশটির কাছে রয়েছে বিস্ফোরকভর্তি রিমোট-কন্ট্রোল স্পিডবোট এবং শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র, যা জলপথে যেকোনো বড় জাহাজ বা লক্ষ্যবস্তুতে নিমেষেই আঘাত হানতে পারে।

আলোচনায় আল-মাসরি ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধান এহুদ বারাকের একটি মন্তব্য উদ্ধৃত করেন। বারাক স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে স্বল্পমেয়াদে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা বা ইরানকে পিছু হটানো কারও পক্ষেই সম্ভব নয়। ন্যাটোসহ জাপান, অস্ট্রেলিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের মতো ২২টি দেশ এই মিশন হাতে নিলেও বাস্তব পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল।


ইরানের ‘টিট ফর ট্যাট’ নীতি

ইরানের কৌশল সম্পর্কে বলা হয়েছে যে তারা সাধারণত কোনো হুমকি দিলে তা কার্যকর করার চেষ্টা করে। অধ্যাপক আল-মাসরি মনে করেন, ইরান ‘টিট ফর ট্যাট’ বা পাল্টাপাল্টি আঘাতের নীতিতে বিশ্বাসী। যদি যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালায়, তবে ইরানও পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে পুরো অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর সর্বোচ্চ ক্ষতি সাধন করতে পারে। এতে পুরো বিশ্বের অর্থনীতিতে বিপর্যয় ঘটে যেতে পারে।

এই সংঘাতে সংযুক্ত আরব আমিরাত ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের অক্ষের সঙ্গে সুর মেলালেও সৌদি আরব বা কাতারের মতো দেশগুলো এখনই সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে আগ্রহী নয়। তাদের আশঙ্কা, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামলে তার দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক ফলাফল পুরো অঞ্চলের ওপর পড়বে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ন্যাটোর সব দেশ একত্র হয়ে চাপ সৃষ্টি করলেও ইরানের এই ভৌগোলিক ও কৌশলগত সুবিধাকে টেক্কা দেওয়া বর্তমান সামরিক প্রেক্ষাপটে প্রায় অসম্ভব।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়