শিরোনাম
◈ সরকারের তোষামোদ নয়, গণমাধ্যমকে সত্য তুলে ধরার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ◈ ধর্ষণের ক্ষেত্রে দ্বিচারিতা চলতে পারে না, সব অপরাধেরই বিচার হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ সরকারি ব্যয় ২ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে সংশোধিত ও সম্পূরক বাজেট পেশ করলেন অর্থমন্ত্রী ◈ বি‌পিএলের দুরাবস্থা, ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের র‍্যাঙ্কিংয়ে সবার নিচে  ◈ সায়েদাবাদ, গুলিস্তান ও মহাখালী বাস টার্মিনাল স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত, কোনটি কোথায় যাবে ◈ চীনা অর্থায়নে দ্বিতীয় পদ্মা-যমুনা সেতুসহ ২০ মেগা প্রকল্পের পরিকল্পনা ◈ আধুনিক প্রযুক্তির লড়াইয়ে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের রেকর্ড ভাঙল রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ◈ ‘আমি মন্ত্রীর পিছে টাকা নিয়ে ঘুরিনি’: আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ◈ ব্রা‌জি‌লের বিরু‌দ্ধে মর‌ক্কো দ‌লের একাদশে ১১ জনই ছি‌লো জন্মসূত্রে বিদেশি, বিশ্বকাপে অনন্য কীর্তি ◈ অক্সফোর্ডে অনুষ্ঠান শেষে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের স্লোগান, পাল্টা হাসনাত আবদুল্লাহর ‘মিডল ফিঙ্গার’ প্রদর্শন

প্রকাশিত : ২১ মার্চ, ২০২৬, ০১:৫২ দুপুর
আপডেট : ১৩ জুন, ২০২৬, ০৩:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ইরান সংকটে কূটনৈতিক তৎপরতা, ট্রাম্পের একক সিদ্ধান্তে অস্বস্তি জাতিসংঘে

ইরানে চলমান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং বিশ্ব অর্থনীতির লাইফলাইনখ্যাত হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা নিরসনে বড় ধরনের কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে জাতিসংঘ। তবে একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একক সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা এবং তাঁর গঠিত বিতর্কিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

সংবাদমাধ্যম পলিটিকোকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে আন্তোনিও গুতেরেস এক যুগান্তকারী প্রস্তাব পেশ করেছেন। তিনি জানান, ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধের সময় রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যেভাবে ‘ব্ল্যাক সি গ্রেইন ইনিশিয়েটিভ’ বা কৃষ্ণসাগরীয় শস্য চুক্তির মাধ্যমে খাদ্য সরবরাহ সচল রাখা হয়েছিল, হরমুজ প্রণালির ক্ষেত্রেও জাতিসংঘ একই ধরনের মধ্যস্থতা করতে প্রস্তুত।

গুতেরেস বলেন, ‘আমার প্রধান লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালিতে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা, যা অতীতে বিদ্যমান ছিল। আমরা ইতিমধ্যে এই বিষয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর পাশাপাশি ইউরোপীয় কাউন্সিলের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা শুরু করেছি।’ জাতিসংঘের এই উদ্যোগ সফল হলে যুদ্ধের মধ্যেও জ্বালানি ও খাদ্যবাহী জাহাজগুলো নিরাপদে চলাচল করতে পারবে, যা বিশ্ববাজারে অস্থিরতা কমাতে সাহায্য করবে।

জাতিসংঘ মহাসচিব সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্টের শান্তি প্রচেষ্টার সমালোচনা করে বলেছেন, ট্রাম্পের একক নেতৃত্বে নেওয়া উদ্যোগগুলো বর্তমানের নাটকীয় সমস্যা সমাধানের জন্য কোনো ‘কার্যকর পথ’ নয়। গুতেরেসের মতে, ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ মূলত একটি ‘পার্সোনাল প্রজেক্ট’ বা ব্যক্তিগত প্রকল্প, যেখানে প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি বা আন্তর্জাতিক আইনের চেয়ে প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত ইচ্ছা বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

তিনি কঠোর ভাষায় বলেন, ‘বর্তমানে সবকিছুই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু আমাদের পরিষ্কার হতে হবে—যেকোনো শান্তি উদ্যোগের জন্য আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘের চার্টার বা মূলনীতি মেনে চলা অপরিহার্য।’ গুতেরেস আরও নিশ্চিত করেছেন, মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী ইরানে হামলা শুরু করার পর থেকে ট্রাম্পের সঙ্গে তার কোনো সরাসরি যোগাযোগ হয়নি।

যদিও গুতেরেস ট্রাম্পের একক আধিপত্যের সমালোচনা করেছেন, তবু তিনি জানিয়েছেন, জাতিসংঘ ‘বোর্ড অব পিস’-এর তৈরি করা কিছু কাঠামোর সঙ্গে ‘সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা’ করছে। বিশেষ করে গাজা পুনর্গঠনের লক্ষ্যটি যেহেতু নিরাপত্তা পরিষদ দ্বারা অনুমোদিত, তাই সে ক্ষেত্রে সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। তবে ইরান সংকটের ক্ষেত্রে কোনো সমন্বিত বৈশ্বিক পরিকল্পনা না থাকা এবং ট্রাম্পের ‘একলা চলো’ নীতি আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এক ধরনের অচলাবস্থা তৈরি করেছে বলে মনে করেন তিনি।

এদিকে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকায় দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান এবং বেশ কিছু ইউরোপীয় দেশ সরাসরি তাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছে। সিউল থেকে দেওয়া এক কড়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তারা নৌপথের নিরাপত্তা ও অবাধ চলাচলের অধিকার রক্ষায় আন্তর্জাতিক জোটের সঙ্গে সুর মেলাচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই অচলাবস্থা তাদের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহ চেইনকে সরাসরি আঘাত হানছে, যা অচিরেই বড় ধরনের অর্থনৈতিক মন্দার কারণ হতে পারে।

নৌ-চলাচল সংক্রান্ত পোর্টাল ‘লয়েডস লিস্ট’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, কিছু জাহাজ এখনো অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা করছে। সম্প্রতি একটি গ্রিক মালবাহী জাহাজ এআইএস অন রেখে লারাক দ্বীপের পাশ দিয়ে একটি ‘নিরাপদ করিডর’ ব্যবহারের অনুমতি পেয়েছে। তবে অনেক জাহাজ এখন ‘গোয়িং ডার্ক’ পদ্ধতি (ট্র্যাকিং বন্ধ রাখা) অবলম্বন করছে অথবা নিজেদের ‘চীনা মালিকানাধীন’ পরিচয় দিয়ে পার হওয়ার চেষ্টা করছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, দ্রুত কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক চুক্তি না হলে এই ধরনের অনিয়মিত চলাচল সমুদ্রে বড় ধরনের সামরিক ভুল-বোঝাবুঝি বা ভয়াবহ নৌ দুর্ঘটনার জন্ম দিতে পারে। শেষ পর্যন্ত জাতিসংঘ কি ট্রাম্পের ‘ব্যক্তিগত কর্তৃত্বের’ বলয় ভেঙে একটি সর্বজনগ্রাহ্য শান্তিচুক্তি নিশ্চিত করতে পারবে? বিশ্ব এখন সেই উত্তরের অপেক্ষায়।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়