যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন যে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি মারা গেছেন। ট্রাম্প নিজের ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, “খামেনি, ইতিহাসের অন্যতম নিকৃষ্ট ব্যক্তিদের একজন, মারা গেছেন।”
প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, খামেনির মৃত্যু ইরানের জনগণের জন্য দেশের পুনরুদ্ধারের একমাত্র বড় সুযোগ। তিনি উল্লেখ করেছেন, ইরানের ভেতরে কিছু মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দায়মুক্তি (ইমিউনিটি) পাওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি সতর্ক করেছেন, “এখন তারা দায়মুক্তি পেতে পারে, পরে তাদের শুধুই মৃত্যু।”
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি অনুযায়ী, খামেনি ও তার ঘনিষ্ঠ নেতারা ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত হামলায় মার্কিন গোয়েন্দা ও অত্যাধুনিক ট্র্যাকিং প্রযুক্তি এড়াতে ব্যর্থ হয়েছেন। এই হামলার পর ইরানিয়ান ইসলামী বিপ্লবী গার্ড (IRGC), সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর অনেকেই যুদ্ধ চালাতে অনিচ্ছুক হয়ে পড়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আশা প্রকাশ করেছেন, ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী ও পুলিশ শান্তিপূর্ণভাবে দেশপ্রেমিকদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে দেশের পুনর্গঠন এবং স্থিতিশীলতার জন্য কাজ করবে। তবে তিনি উল্লেখ করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে ‘ভারী ও নির্ভুল’ বোমাবর্ষণ অব্যাহত থাকবে যতক্ষণ প্রয়োজন, যাতে মধ্যপ্রাচ্য এবং বিশ্বব্যাপী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা যায়।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, খামেনির মৃত্যুর এই দাবি এখনো ইরান কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেনি এবং তারা এটিকে ভুয়া বা প্রোপাগান্ডা হিসেবে উল্লেখ করেছে।
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সম্পর্কের ওপর। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, খামেনির মৃত্যু বা অসুস্থতার যে কোনও খবরই ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক স্থিতিশীলতায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
