ভারতের পশ্চিমবঙ্গে প্রাণঘাতী নিপাহ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব এশিয়ার বিভিন্ন অংশে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তবে দেশটির বাইরে ভাইরাসটির ছড়ানোর ঝুঁকি কম দেখায় ভ্রমণ বা বাণিজ্যে বিধিনিষেধের প্রয়োজন মনে করছে না বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) ভারতীয় কর্তৃপক্ষ দুইজনের শরীরে প্রাণঘাতী ভাইরাসটির উপস্থিতি পাওয়ার কথা জানানোর কয়েকদিন পর বৈশ্বিক এ সংস্থাটি এই কথায় জানায়। রয়টার্সের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, নয়া দিল্লি নিপাহ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কথা জানানোর পর হংকং, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান, ভিয়েতনামসহ এশীয় অনেক কর্তৃপক্ষই তড়িঘড়ি তাদের বিমানবন্দরগুলোতে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় কড়াকড়ি আনার কথা জানিয়েছিল।
তবে ওই দুই রোগী থেকে সংক্রমণ আরও ছড়ানোর ঝুঁকি কম বলে মনে করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এমনকি এ ধরনের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা ভারতের আছে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, এখন পর্যন্ত মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণ বাড়ার কোনো প্রমাণ নেই। ভারতীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।
নিপাহ ভাইরাস কী এবং এর লক্ষণগুলো কী কী?
নিপাহ ভাইরাস শূকর এবং ফলখেকো বাদুড়ের মতো প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে সংক্রমিত হতে পারে। এটি দূষিত খাবারের মাধ্যমে এবং সরাসরি একজন মানুষ থেকে অন্য মানুষের শরীরেও ছড়াতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নিপাহ-কে তাদের শীর্ষ ১০টি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত রোগের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে (কোভিড-১৯ এবং জিকার মতো প্যাথোজেনের সাথে), কারণ এর মহামারি সৃষ্টি করার সম্ভাবনা রয়েছে।
শরীরে ভাইরাস প্রবেশের পর উপসর্গ দেখা দেওয়ার সময়কাল ৪ থেকে ১৪ দিন পর্যন্ত হয়ে থাকে।
যারা এই ভাইরাসে আক্রান্ত হন, তাদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের উপসর্গ দেখা যায়, আবার কখনও কখনও কোনো লক্ষণই প্রকাশ পায় না।
প্রাথমিক লক্ষণগুলোর মধ্যে জ্বর, মাথাব্যথা, পেশিতে ব্যথা, বমি ভাব এবং গলা ব্যথা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এগুলোর পর তন্দ্রাচ্ছন্ন ভাব, চেতনার পরিবর্তন (বিভ্রান্তি) এবং নিউমোনিয়া দেখা দিতে পারে।
গুরুতর ক্ষেত্রে এনসেফালাইটিস দেখা দিতে পারে, যা মস্তিষ্কের প্রদাহ সৃষ্টিকারী একটি সম্ভাব্য প্রাণঘাতী অবস্থা।
এখন পর্যন্ত এই রোগের চিকিৎসার জন্য কোনো ওষুধ বা ভ্যাকসিন অনুমোদিত হয়নি।
ভাইরাসটির সংক্রমণের উৎস এখনও
নিপাহ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অগ্রাধিকার তালিকায় থাকা ভাইরাস। ভারতে, বিশেষ করে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কেরালায় প্রায়ই বিচ্ছিন্নভাবে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। কেরালাকে নিপাহ ভাইরাসের ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
ভাইরাসটি পরিবর্তিত হতে হতে সহজে ছড়াতে পারে এমন ধরনে পরিণত হতে পারে বলে বৈশ্বিক সংস্থাটির আশঙ্কাও আছে।
ডিসেম্বরের শেষদিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে যে দুই স্বাস্থ্য কর্মীর দেহে ভাইরাসটির উপস্থিতি মিলেছিল হাসপাতালে তাদের চিকিৎসা চলছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
এ নিয়ে সপ্তমবার ভারতে ও তৃতীয়বার পশ্চিমবঙ্গে নিপার প্রাদুর্ভাবের খবর মিলল। এর আগে ২০০১ ও ২০০৭ সালে রাজ্যটিতে প্রাণঘাতী এ ভাইরাসের সংক্রমণ উদ্বেগ ছড়িয়েছিল।
সূত্র: ইত্তেফাক