গৌতম আদানি ও সাগর আদানিকে সরাসরি ই-মেইলের মাধ্যমে সমন পাঠানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) আদালতের অনুমতি চাওয়ার পর আদানি গ্রুপের শেয়ারগুলোতে ধস নেমেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আদানি গ্রিন, আদানি এন্টারপ্রাইজ, আদানি এনার্জি ও আদানি পোর্টসের শেয়ার সর্বোচ্চ ১৪-১৫ শতাংশ পর্যন্ত পড়ে গেছে। এক দিনের ব্যবধানে এই শিল্পগোষ্ঠীর তালিকাভুক্ত ১০টি কোম্পানির সম্মিলিত বাজার মূলধন ১ দশমিক ৪ লাখ কোটি টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ১২ দশমিক ২ লাখ কোটি টাকায়।
মার্কিন নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসি আদালতকে জানিয়েছে, এর আগে ভারত সরকার দুবার আনুষ্ঠানিক মাধ্যমে সমন পাঠানোর অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে।
এটি যুক্তরাষ্ট্রে কোনো ভারতীয় শিল্পগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে হওয়া সবচেয়ে আলোচিত আইনি পদক্ষেপ। গত বছর থেকে সংস্থাটি আদানি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা গৌতম আদানি ও তাঁর ভাইপো সাগর আদানিকে সমন পাঠানোর চেষ্টা করছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদ্যমান সরকারি মাধ্যমে সমন পাঠানো সম্ভব হবে না মনে করে এসইসি এখন সরাসরি ই-মেইলের মাধ্যমে এই দুই নির্বাহীকে সমন পাঠানোর জন্য আদালতের অনুমোদন চেয়েছে।
আদানি গ্রুপ অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ‘ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেছে। তারা জানিয়েছে, নিজেদের রক্ষায় তারা সব ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেবে।
এসইসির সাম্প্রতিক আবেদনের বিষয়ে গ্রুপটি তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। ভারতের আইন মন্ত্রণালয়ও এ নিয়ে মুখ খোলেনি; তবে এর আগে তারা বিষয়টিকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার আইনি বিষয় হিসেবে অভিহিত করেছিল।
২০২৪ সালের নভেম্বরে প্রকাশিত অভিযোগে বলা হয়, আদানি গ্রিন এনার্জির বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির সুবিধা পাওয়ার জন্য আদানি গ্রুপের নির্বাহীরা ভারতীয় কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার একটি পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
এসইসির অভিযোগে আরও বলা হয়, কোম্পানির দুর্নীতিবিরোধী নীতি সম্পর্কে ভুল তথ্য দিয়ে এই নির্বাহীরা মার্কিন বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করেছেন।
আদালতের নথিতে এসইসি জানিয়েছে, স্বাক্ষর ও সিলসংক্রান্ত কিছু পদ্ধতিগত ত্রুটির অজুহাতে ভারত সমন পাঠানোর অনুরোধগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে।
তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির যুক্তি হলো, হেগ কনভেনশনসহ আন্তসীমান্ত আইনি সেবার আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী এ ধরনের শর্ত প্রযোজ্য নয়। গত ডিসেম্বরে দ্বিতীয়বার প্রত্যাখ্যান করার সময় ভারতের আইন মন্ত্রণালয় সমন পাঠানোর বিষয়ে এসইসির এখতিয়ার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিল।
শেয়ারবাজারের চিত্র অনুযায়ী, বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জে আদানি গ্রিনের শেয়ার ১৪ শতাংশ কমে ৭৭২ টাকায় নেমে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মূল কোম্পানি আদানি এন্টারপ্রাইজের শেয়ার ১১ শতাংশ কমে ১ হাজার ৮৬২ দশমিক ৮ টাকায় দাঁড়িয়েছে।
এ ছাড়া আদানি পোর্টসের শেয়ার ৭ দশমিক ৫ শতাংশ এবং আদানি এনার্জির শেয়ার ১২ শতাংশ কমেছে। আম্বুজা সিমেন্ট, এসিসি ও আদানি টোটাল গ্যাসসহ গ্রুপের অন্য সব শেয়ারই লোকসানে দিন শেষ করেছে। তথ্যসূত্র: দি ইকোনমিক টাইমস