শিরোনাম
◈ মোটরসাইকেল ও গাড়ি চালকদের জন্য পুলিশের বিশেষ বিজ্ঞপ্তি ◈ মাদক-জুয়া ঠেকাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত ◈ ফের ৪ দিনের রিমান্ডে এমপি গাজী নজরুল ◈ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের অর্থায়ন জটিলতা কাটছে, আগ্রহী চীনা ব্যাংক ◈ ঢাকা থেকে সারাদেশে বাসভাড়া কত, দেখুন নতুন তালিকা ◈ মক্কায় দ্বিতীয়বার সতর্কবার্তা, কী ঘটছে সৌদিতে? ◈ ৫১তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, আবেদন শুরু ১ অক্টোবর ◈ ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২ ◈ সুপার এল নিনোয় সত্যিই কি মারা যাবে সাড়ে ৪ লাখ মানুষ? ঝুঁকিতে কোন দেশগুলো  ◈ ফুটপাতে গাড়িচাপায় নির্মাণ শ্রমিক নিহত: মেহেদীর পরিবারকে টাকা দিয়ে মীমাংসা

প্রকাশিত : ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৬:২১ বিকাল
আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৬:২১ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

পুষ্টিকর হলেও কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি বাড়াতে পারে যেসব খাবার

কিডনিতে পাথর হওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে কম পানি পান করার কথা প্রায়ই বলা হয়। তবে শুধু পানি কম খাওয়াই নয়, কিছু পুষ্টিকর খাবারও বিশেষ ক্ষেত্রে কিডনিতে পাথর তৈরির ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বিশেষ করে অক্সালেটসমৃদ্ধ খাবার বেশি খেলে এবং একই সঙ্গে পর্যাপ্ত পানি পান না করলে এ ঝুঁকি বাড়তে পারে।

অক্সালেট একটি প্রাকৃতিক যৌগ, যা বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ খাবারে পাওয়া যায়। অক্সালেটযুক্ত খাবার মানেই যে শরীরের জন্য ক্ষতিকর, তা নয়। পালংশাক, বিট, লালশাক ও বেরি জাতীয় ফলে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফ্ল্যাভোনয়েডসহ নানা পুষ্টি উপাদান রয়েছে। এসব উপাদান শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস ও প্রদাহ থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে।

advertisement

এ ছাড়া বিট, পালংশাক ও ডার্ক চকলেটের মতো কিছু অক্সালেটযুক্ত খাবারে নাইট্রেট ও ম্যাগনেশিয়ামও থাকে। নাইট্রেট রক্তনালি প্রসারিত করতে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে।

তবে সমস্যা তৈরি হতে পারে যখন অক্সালেট শরীরে ক্যালসিয়ামের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ক্যালসিয়াম অক্সালেট তৈরি করে। এটি কিডনিতে জমে ধীরে ধীরে পাথরে পরিণত হতে পারে। বিশেষ করে পর্যাপ্ত পানি পান না করলে প্রস্রাব ঘন হয়ে যায় এবং এসব উপাদান জমাট বাঁধার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

advertisement

যাদের অক্সালেটযুক্ত খাবারে সতর্কতা জরুরি

সবার জন্য অক্সালেটযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলার প্রয়োজন নেই। তবে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এ ধরনের খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন হতে পারে। যেমন—

advertisement
  • যাদের প্রস্রাবে অতিরিক্ত মাত্রায় অক্সালেট পাওয়া যায়;
  • যাদের আগে কিডনিতে পাথর হয়েছে;
  • যাদের অন্ত্র বা পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা রয়েছে;
  • ক্রোনস ডিজিজের মতো রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা।

যেসব খাবারে অক্সালেট বেশি

কিছু খাবারে তুলনামূলক বেশি মাত্রায় অক্সালেট পাওয়া যায়। এর মধ্যে রয়েছে—

  • পালংশাক
  • বিট
  • কাঠবাদাম
  • চিনাবাদাম
  • সয়াবিন ও সয়াদানা থেকে তৈরি খাবার
  • কড়াইশুঁটি

তবে এসব খাবার পুষ্টিকর হওয়ায় সবার জন্য পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা ও কিডনিতে পাথরের ইতিহাস অনুযায়ী খাবারের পরিমাণ নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

কীভাবে কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি কমাবেন

পর্যাপ্ত পানি পান করুন: শরীরে অক্সালেট ও অন্যান্য বর্জ্য জমে না থাকার জন্য পর্যাপ্ত পানি পান গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়াতে সাহায্য করে, ফলে পাথর তৈরির উপাদানগুলো শরীর থেকে বের হয়ে যেতে পারে।

সুষম খাবার খান: শুধু উচ্চ অক্সালেটযুক্ত খাবারের ওপর নির্ভর না করে বিভিন্ন ধরনের ফল, শাকসবজি ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার মিলিয়ে সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন।

লবণ ও অতিরিক্ত চিনি কমান: অতিরিক্ত সোডিয়াম গ্রহণ প্রস্রাবে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ বাড়াতে পারে। এতে কিডনিতে পাথর তৈরির ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই অতিরিক্ত লবণ ও চিনি এড়িয়ে চলা ভালো।

অতিরিক্ত ভিটামিন সি এড়িয়ে চলুন: শরীরে অতিরিক্ত ভিটামিন সি ভেঙে অক্সালেটে পরিণত হতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া প্রয়োজনের অতিরিক্ত ভিটামিন সি বা এর সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ না করাই ভালো।

কিছু শাকসবজি সেদ্ধ করে রান্না করুন: উচ্চ অক্সালেটযুক্ত কিছু শাকসবজি সেদ্ধ বা ভাপিয়ে সেই পানি ফেলে রান্না করলে অক্সালেটের পরিমাণ কিছুটা কমানো সম্ভব হতে পারে।

অক্সালেটযুক্ত খাবার স্বাভাবিকভাবে পুষ্টিকর হলেও কিডনিতে পাথরের ইতিহাস থাকা ব্যক্তিদের খাদ্যাভ্যাসে কিছুটা সতর্কতা প্রয়োজন। তাই নিজের ইচ্ছায় প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাবার পুরোপুরি বাদ না দিয়ে, কিডনিতে পাথরের সমস্যা থাকলে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী খাবারের তালিকা ঠিক করা ভালো।

সূত্র: আনন্দবাজার

  • সর্বশেষ