শিরোনাম
◈ জ্বালানি তেলের দাম কেন বাড়ল? প্রতিমন্ত্রী জানালেন ৩ কারণ ◈ উজবেকিস্তানের পর এবার ইন্দোনেশিয়ার জালে ১৭ গোল, দুই ম্যাচে ভারতের ৩৬! ◈ মরিয়মের আত্মহত্যায় প্ররোচনা মামলা: এমপি গাজী নজরুল ৪ দিন, প্রথম স্ত্রী ১ দিনের রিমান্ডে ◈ জামায়াতের বহিষ্কারের চিঠি পেলেও নজরুল ইসলামের এমপি পদ নিয়ে ব্যবস্থা নিতে পারবে না ইসি ◈ অপ্রতিম হত্যা: আইফোনের পাশাপাশি ৫ হাজার টাকা ধার নিয়ে বিরোধের তথ্য, হত্যার কারণ নিয়ে মিলছে নতুন সূত্র ◈ জাতীয় গ্রিডে সৌরবিদ্যুৎ সরবরাহে ইউনিয়ন পরিষদকে ‘বড় বরাদ্দ’ ◈ নবম পে-স্কেল: দুই ধাপে বেতন বাড়বে, সরকারের বাড়তি ব্যয় ৩৭ হাজার ৩৭২ কোটি টাকা ◈ অন্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম কম: রুহুল কবির রিজভী ◈ জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় দক্ষিণাঞ্চলের বাসভাড়ায় ৫০ টাকা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত ◈ দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ খাত হতে পারে ব্লু ইকোনমি : শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশিত : ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৬:১২ বিকাল
আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৬:১২ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

আগরবাতি ও মশার কয়েলের ধোঁয়া কি ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়? যা বলছেন চিকিৎসক

আগরবাতি অনেক বাড়িতেই নিত্যদিনের পরিচিত অনুষঙ্গ। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে ঘরে সুগন্ধ ছড়াতেও অনেকে এটি ব্যবহার করেন। আবার মশার উপদ্রব থেকে বাঁচতে বিশেষ করে বর্ষাকালে মশার কয়েলের ব্যবহারও বেড়ে যায়।

উদ্দেশ্য আলাদা হলেও দুটির একটি মিল রয়েছে-পোড়ানোর সময় এগুলো থেকে ধোঁয়া বের হয়। সেই ধোঁয়ার সঙ্গে বিভিন্ন সূক্ষ্ম কণা ও রাসায়নিক উপাদান বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে, যা শ্বাস নেওয়ার সময় শরীরের ভেতরে প্রবেশ করতে পারে। প্রশ্ন হলো, এ ধোঁয়া কি ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়?

advertisement

ভারতীয় ‘এনডিটিভির’র সঙ্গে আলাপকালে এইচওসি বেদান্তের মেডিকেল অনকোলজিস্ট ডা. চিন্তন শাহ বলেন, বাড়িতে মাঝেমধ্যে আগরবাতি বা মশার কয়েল ব্যবহারের কারণে সরাসরি ক্যনসার হয়-এমন দাবির পক্ষে বর্তমানে যথেষ্ট প্রমাণ নেই। তবে এসব পণ্য পোড়ানোর ফলে ঘরের ভেতরের বাতাসের মান খারাপ হতে পারে, বিশেষ করে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা কম থাকলে। 

আগরবাতি জ্বালালে কী ঘটে?

advertisement

আগরবাতি জ্বালানোর ফলে শুধু সুগন্ধ ছড়ায় না, দহনের সময় বাতাসে সূক্ষ্ম কণা ও বিভিন্ন গ্যাসীয় পদার্থও মিশে যায়। এর মধ্যে উদ্বায়ী জৈব যৌগ এবং পলিসাইক্লিক অ্যারোমেটিক হাইড্রোকার্বন-এর মতো উপাদান থাকতে পারে।

তবে এর অর্থ এ নয় যে, মাঝেমধ্যে আগরবাতি জ্বালালেই ক্যানসার হবে। ক্যানসার হওয়ার পেছনে জিনগত কারণ, তামাক, অ্যালকোহল, কিছু সংক্রমণ, স্থূলতা, পরিবেশসহ নানা বিষয়ও ভূমিকা রাখে।

advertisement

মশার কয়েলের ধোঁয়াও কি ক্ষতিকর?

মশার কয়েল ধীরে ধীরে পুড়ে মশা তাড়ানোর উপাদান বাতাসে মিশে ছড়ায়। কিন্তু একই সঙ্গে এর দহনের ফলে ধোঁয়া ও অতি সূক্ষ্ম কণাও তৈরি হয়।

ভারতীয় চিকিৎসক শাহের মতে, একজন মানুষ কতটা ধোঁয়ার সংস্পর্শে আসছেন, তা নির্ভর করতে পারে কয়েলের উপাদান, ব্যবহারের পরিমাণ, ঘরের আকার এবং বাতাস চলাচল ব্যবস্থার ওপর।

তাই বড় বা বাতাস চলাচল করে এমন জায়গার তুলনায় ছোট, বন্ধ শোবার ঘরে মশার কয়েল ব্যবহার করলে ধোঁয়ার সংস্পর্শের মাত্রা বেশি হতে পারে। বিশেষ করে একই ঘরে দীর্ঘ সময় ঘুমালে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ।

ক্যানসারের সঙ্গে কি সরাসরি সম্পর্ক আছে?

বর্তমানে এমন কোনো জোরালো প্রমাণ নেই যে, মাঝেমধ্যে আগরবাতি বা মশার কয়েল ব্যবহারের কারণে সরাসরি ক্যানসার হয়। তবে কিছু গবেষণায় আগরবাতির ধোঁয়া ঘন ঘন সংস্পর্শের সঙ্গে শ্বাসতন্ত্রের ক্যানসারের সম্ভাব্য সম্পর্কের কথা উঠে এসেছে। মশার কয়েলের ধোঁয়া শ্বাসতন্ত্রের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে বলেও কিছু গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

ডা. শাহ বলেন, এসব গবেষণা সম্ভাব্য একটি যোগসূত্রের ইঙ্গিত দিলেও গৃহস্থালির এসব পণ্য ও ক্যানসারের মধ্যে সরাসরি কারণ-ফল সম্পর্ক নিশ্চিত করে না। এ বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বোঝার জন্য আরও গবেষণা প্রয়োজন।

বদ্ধ ঘরে ঝুঁকি কেন বেশি?

ঘরের ভেতরে ধোঁয়া কতটা জমবে, তা অনেকটাই নির্ভর করে বাতাস চলাচলের ওপর। জানালা-দরজা বন্ধ থাকা অবস্থায় আগরবাতি বা কয়েল ব্যবহার করলে ধোঁয়া ও বিভিন্ন কণা সহজে বাইরে বের হতে পার না।

ফলে ঘরের বাতাসে এসব উপাদানের ঘনত্ব বাড়তে পারে। একই সঙ্গে মানুষ যদি ওই ঘরে দীর্ঘ সময় অবস্থান করেন, তাহলে ধোঁয়ার সংস্পর্শে থাকার সময়ও বেড়ে যায়।

কীভাবে ধোঁয়ার সংস্পর্শ কমাবেন?

ডা. শাহের পরামর্শ, ধোঁয়ার সংস্পর্শ যতটা সম্ভব কমিয়ে প্রয়োজনীয়তা বজায় রাখতে হবে। এজন্য-

* বাতাস চলাচলের ভালো ব্যবস্থা আছে এমন জায়গায় আগরবাতি জ্বালান।

* সম্ভব হলে জানালা বা দরজা খুলে রাখুন।

* একসঙ্গে অনেকগুলো আগরবাতি জ্বালানো এড়িয়ে চলুন।

* অপ্রয়োজনে দীর্ঘ সময় আগরবাতি জ্বালিয়ে রাখবেন না।

* দীর্ঘ সময় অবস্থান বা ঘুমানোর বদ্ধ ঘরে আগরবাতি বা কয়েলের ধোঁয়া জমতে দেবেন না।

* মশার কয়েল ব্যবহারের পরিবর্তে মশারি ব্যবহার করতে পারেন।

* প্রয়োজন অনুযায়ী বৈদ্যুতিক মশা তাড়ানোর বিকল্প ব্যবহার করা যেতে পারে।

* প্রয়োজন হলে কম ধোঁয়া উৎপন্ন করে এমন পণ্য বেছে নিন।