সারা রাত পর্যাপ্ত ঘুমানোর পরও যদি সকালে উঠে শরীর ক্লান্ত লাগে, তাহলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। অতিরিক্ত পরিশ্রমের কারণে ক্লান্তি আসতেই পারে, তবে কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই যদি দীর্ঘদিন এমন অবস্থা থাকে, তাহলে এর পেছনে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ কিছু পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি দায়ী হতে পারে।
দিল্লির পুষ্টিবিদ লভনীত বাত্রার মতে, শরীরে কিছু মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা অতি প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজের অভাব হলে শক্তি উৎপাদন ব্যাহত হয়। এর ফলে সারাক্ষণ ক্লান্তি, মনোযোগ কমে যাওয়া এবং শরীরে দুর্বলতা দেখা দিতে পারে।
যে ৪ পুষ্টির ঘাটতিতে বাড়তে পারে ক্লান্তি
১. ভিটামিন বি-এর ঘাটতি
ভিটামিন বি শরীরে কার্বোহাইড্রেট ও চর্বি থেকে শক্তি উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর অভাব হলে শরীর পর্যাপ্ত শক্তি তৈরি করতে পারে না, ফলে সহজেই ক্লান্তি আসে। দুধ, দই, পনির ও বিভিন্ন ধরনের বাদামে ভিটামিন বি পাওয়া যায়।
২. প্রোটিনের অভাব
পেশি শক্তিশালী রাখা এবং সারাদিন কর্মক্ষম থাকার জন্য প্রোটিন অপরিহার্য। দীর্ঘদিন প্রোটিনের ঘাটতি থাকলে শরীর পেশি ভাঙতে শুরু করে, যার ফলে দুর্বলতা ও অতিরিক্ত ক্লান্তি দেখা দেয়। মাছ, মাংস, ডিম, ডাল, দুধ, পনির ও সয়াবিন ভালো প্রোটিনের উৎস।
৩. ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া
পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া বা সোডিয়াম-পটাশিয়ামের ঘাটতি হলে শরীরের ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হয়। এতে ক্লান্তি, অবসাদ ও শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। ডাবের পানি, তরমুজ, শসা ও অন্যান্য রসালো ফল নিয়মিত খাওয়া উপকারী।
৪. ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি
ম্যাগনেশিয়াম ভালো ঘুম, পেশির পুনরুদ্ধার এবং শক্তি উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর অভাব হলে ঘুমের সমস্যা, পেশিতে টান এবং সারাক্ষণ ক্লান্তি অনুভূত হতে পারে। কুমড়োর বীজ, কাঠবাদাম, কাজুবাদাম ও বিভিন্ন শস্যজাতীয় খাবারে ম্যাগনেশিয়াম রয়েছে।
ক্লান্তি দূর করতে কী খাবেন?
পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী, প্রতিদিন খাদ্যতালিকায় এক কাপ টক দই বা প্রায় ১০০ গ্রাম পনির রাখতে পারেন। অঙ্কুরিত ছোলা, মুগ ডাল বা ভাজা ছোলা প্রোটিনের ভালো উৎস। আমিষভোজীরা ডিম, মাছ ও মাংস খেতে পারেন। শরীরে পানির ঘাটতি ও ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে ডাবের পানি বা কলা উপকারী। পাশাপাশি বাদাম, কুমড়োর বীজ ও বাজরার মতো ম্যাগনেশিয়ামসমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত খেলে ক্লান্তি কমাতে সহায়তা করতে পারে।
তবে দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত ঘুমের পরও যদি ক্লান্তি, দুর্বলতা বা অন্য কোনো উপসর্গ থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো উচিত।