শিরোনাম
◈ এলপিজির কৃত্রিম সংকট হলে ব্যবস্থা, ডিসিদের জ্বালানিমন্ত্রীর নির্দেশ ◈ নিউইয়র্ক সফরের সাফল্য আড়ালে ‘পরিকল্পিত ঘটনা’: অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিবের ◈ জাতিসংঘে জাইমা রহমানের নিয়োগে সরকারের ন্যূনতম সম্পৃক্ততা নেই: মাহদী আমিন ◈ ফার্নেস অয়েলের দাম বাড়ল লিটারে প্রায় ১২ টাকা, রাত থেকেই কার্যকর ◈ প্রবীণদের আর্থিক নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করবে সরকার : প্রধানমন্ত্রী ◈ সীমান্তের দুই মুখ : এপার থেকে মানুষ পাচারের ফাঁদ, ওপার থেকে ঢুকছে মাদক ◈ সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা: অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল গ্রেপ্তার ◈ চাকরি ও দক্ষ কর্মীর খোঁজ মিলবে এক জায়গায়, উদ্যোগ সরকারের ◈ মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযানে সমন্বয়ের ঘাটতি, তদন্তের নির্দেশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ ৫০৭ কোটি টাকা বিদ্যুৎ বিল আসা গ্রাহককে মন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ, জিএম বরখাস্ত

প্রকাশিত : ২৮ মে, ২০২৬, ০৭:০৭ বিকাল
আপডেট : ২২ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

গরুর মাংস বেশি খেলে যেসব জটিলতা দেখা দিতে পারে

গরুর মাংসের রেজালা, কালা ভুনা কিংবা বিফ চাপ—গরম ভাতের সঙ্গে মেখে এক লোকমা মুখে তুললেই যেন তৃপ্তিতে চোখ বুজে আসে! খাবার টেবিলে গরুর মাংস থাকলে আর কী চাই! সুস্বাদু হওয়ার পাশাপাশি গরুর মাংসে রয়েছে প্রোটিন, ভিটামিন বি-১২, বি-৬ ও আয়রন সহ নানা ধরনের পুষ্টিগুণ।

তবে অতিরিক্ত পরিমাণে গরুর মাংস, বিশেষ করে বেশি চর্বিযুক্ত বা প্রসেসড মাংস খেলে শরীরে বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এটি মৃত্যুঝুঁকির কারণও হতে পারে। এ বিষয়ে আমাদের বিস্তারিত জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফার্মাকোলজি অ্যান্ড থেরাপিউটিক্স বিভাগের চিকিৎসক ডা. মো. সীফাত জাহান শশী।

কোলেস্টেরল বৃদ্ধি ও হৃদরোগের ঝুঁকি: গরুর মাংসে উচ্চমাত্রায় স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকার কারণে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। ফলে হৃদরোগ, যেমন: করোনারি হার্ট ডিজিজ ও স্ট্রোকের ঝুঁকিও অনেক বেড়ে যায়।

এ ছাড়া, শরীরে মাংসের মেটাবোলিজমের বাই প্রোডাক্ট হিসেবে ট্রাইমিথাইলামিন এন-অক্সাইড (টিএমএও) উৎপন্ন হয়, যা হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

advertisement

উচ্চ রক্তচাপের সম্ভাবনা: নিয়মিত ও অতিরিক্ত পরিমাণে মাংস খেলে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়তে পারে। লাল ও প্রক্রিয়াজাত—উভয় ধরনের মাংসেই উচ্চমাত্রায় সোডিয়াম থাকে, যা শরীরের রক্তচাপ বৃদ্ধি করে হাইপারটেনশনের কারণ হতে পারে। অতিরিক্ত সোডিয়াম শরীরে ওয়াটার রিটেনশন করে। ফলে রক্তের ভলিউম বেড়ে যায় এবং ধীরে ধীরে রক্তচাপ বৃদ্ধি পেতে থাকে।

ডায়াবেটিসের ঝুঁকি: প্রতিদিন নিয়মিত ১০০ গ্রাম করে মাংস খেলে সময়ের সঙ্গে টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি প্রায় ১৭ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। মাংস খাওয়ার কারণে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি মূলত নির্ভর করে কী পরিমাণে এবং কত ঘন ঘন মাংস খাওয়া হচ্ছে তার ওপর।

এ ছাড়া, যারা আগে থেকেই কিডনির জটিলতায় ভুগছেন, তাদের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণ কিডনির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

ফুসফুসের জটিলতা: অতিরিক্ত মাংস গ্রহণ ফুসফুসের বিভিন্ন দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা ধূমপান ও অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে অভ্যস্ত, তাদের ক্ষেত্রে প্রতি সপ্তাহে ৫০ গ্রাম পরিমাণ মাংস গ্রহণ করলে ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি প্রায় ৮ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।

কোলোরেকটাল ক্যানসারের সম্ভাবনা: দ্য ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যানসার প্রসেসড লাল মাংসকে ‘কার্সিনোজেনিক টু হিউম্যানস’ এবং আনপ্রসেসড লাল মাংসকে ‘প্রবাবলি কার্সিনোজেনিক’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।
উচ্চ তাপে মাংস রান্না করলে বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিক, যেমন: হেটারোসাইক্লিক অ্যারোমেটিক অ্যামাইনস ও পলিসাইক্লিক অ্যারোমেটিক হাইড্রোকার্বন তৈরি হতে পারে, যা ডিএনএর গঠন ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

অতিরিক্ত মাংস খেলে বৃহদান্ত্র ও মলদ্বারে ক্যানসারের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে। এ ছাড়া ব্রেস্ট ক্যানসার, এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যানসার, ফুসফুসের ক্যানসার এবং হেপাটোসেলুলার কারসিনোমার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

ওজন বৃদ্ধি ও স্থূলতা: অতিরিক্ত মাংস খাওয়ার ফলে এতে থাকা চর্বি ও অতিরিক্ত ক্যালোরির কারণে শরীরের ওজন দ্রুত বাড়তে পারে।

হজমজনিত সমস্যা: বেশি মাংস খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য, অ্যাসিডিটি কিংবা বদহজমের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে খাবারে আঁশের পরিমাণ কম থাকলে।

গাউট বা ইউরিক অ্যাসিড বৃদ্ধি: অধিক পরিমাণে লাল মাংস খেলে শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে, যা জয়েন্টে ব্যথা ও গাউটের ঝুঁকি বাড়ায়।

ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি: দীর্ঘদিন অতিরিক্ত মাংস খাওয়ার ফলে ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বৃদ্ধি পেতে পারে।

আপনি কী ধরনের খাবার খাচ্ছেন, কীভাবে খাচ্ছেন এবং কতটা খাচ্ছেন—এর ওপর শরীরের সুস্থতা অনেকটাই নির্ভর করে। তাই পরিমিত পরিমাণে গরুর মাংস খাওয়া উচিত। কারণ ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্যাভ্যাসই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

এ ছাড়া রান্নার সময় অতিরিক্ত উচ্চ তাপ ব্যবহার না করে মৃদু বা মাঝারি আঁচে রান্না করা ভালো। বেশি তাপে মাংস গ্রিল বা বারবিকিউ করলে পোড়া অংশে বিভিন্ন ধরনের কার্সিনোজেনিক পদার্থ তৈরি হতে পারে। একইভাবে, মাংস ডিপ ফ্রাই করাও এড়িয়ে চলা উচিত। কারণ এতে মাংসে ফ্যাটের পরিমাণ বেড়ে যায়।

সচেতনতাই পারে আমাদের সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবন নিশ্চিত করতে। নিজে সচেতন হই এবং অন্যদেরও সচেতন হতে সহায়তা করি।

 

  • সর্বশেষ