শরীরের কোথাও ব্যথা হলেই অনেকেই তা ‘পেশির টান’ ভেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু সব ব্যথার উৎস এক নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্নায়ুর ব্যথা এবং পেশির ব্যথার মধ্যে পার্থক্য বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—নইলে সময়মতো চিকিৎসা না পেয়ে জটিলতা বাড়তে পারে।
ব্যথার ধরনেই মিলবে ইঙ্গিত
চিকিৎসকদের মতে, ব্যথার প্রকৃতি লক্ষ্য করলেই বোঝা যায় সেটি কোথা থেকে আসছে।
স্নায়ুর ব্যথা
এ ধরনের ব্যথা সাধারণত তীব্র হয় এবং অনেক সময় বৈদ্যুতিক শকের মতো বা জ্বালাপোড়ার অনুভূতি দেয়। শরীরের একটি অংশ থেকে অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়া এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এর সঙ্গে ঝিনঝিন, অবশভাব বা সূচ ফোটার মতো অনুভূতিও থাকতে পারে।
পেশির ব্যথা
পেশির ব্যথা তুলনামূলকভাবে মৃদু ও চাপধরা ধরনের হয়। নড়াচড়া করলে টান লাগে বা খিঁচ ধরার মতো অনুভূতি হয়। সাধারণত এটি একটি নির্দিষ্ট জায়গাতেই সীমাবদ্ধ থাকে এবং স্পর্শ বা নড়াচড়ায় ব্যথা বাড়ে। শরীরচর্চা বা ভারি কাজের পর এমন ব্যথা বেশি দেখা যায়।
কেন হয় এই ব্যথা?
স্নায়ুর ব্যথা সাধারণত ডিস্কের সমস্যা, কার্পাল টানেল সিনড্রোম, ডায়াবেটিস বা স্নায়ুর ওপর চাপের কারণে হয়।
অন্যদিকে, পেশির ব্যথা হয় অতিরিক্ত পরিশ্রম, ভুল ভঙ্গিতে বসা, আঘাত পাওয়া বা শরীরে পানির ঘাটতির ফলে।
কখন সতর্ক হবেন?
নিচের লক্ষণগুলো দেখা গেলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি—
কী করবেন?
পেশির ব্যথা সাধারণত বিশ্রাম, পর্যাপ্ত পানি পান এবং সাধারণ ব্যথানাশকেই ১–২ সপ্তাহের মধ্যে সেরে যায়। তবে ব্যথা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় বা দৈনন্দিন কাজকর্মে বাধা সৃষ্টি করে, তাহলে দ্রুত বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।