সমকাল: রক্তচাপ একটি পরিবর্তনশীল শারীরিক মান। অনেকেই মনে করেন, রক্তচাপ সব সময় একই থাকার কথা। বাস্তবে এটি দিনে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কারণে পরিবর্তিত হয়। সারাবিশ্বে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন; যা নীরবে হৃৎপিণ্ড, কিডনি ও চোখের গুরুতর ক্ষতি করতে পারে।
রক্তচাপের দুটি অংশ রয়েছে– সিস্টোলিক ও ডায়াস্টোলিক। সাধারণভাবে সিস্টোলিক ১৪০ এবং ডায়াস্টোলিক ৯০ মিলিমিটার পারদের বেশি হলে তাকে উচ্চ রক্তচাপ বলা হয়। তবে একজন মানুষের রক্তচাপ সকাল, দুপুর ও রাতের সময়ে ভিন্ন হতে পারে।
মানসিক চাপ, উদ্বেগ, উত্তেজনা, শারীরিক পরিশ্রম, হাসি, কথা বলা এমনকি যৌনক্রিয়াও রক্তচাপ বাড়াতে পারে। খাবার গ্রহণের আগে ও পরে রক্তচাপে তারতম্য দেখা যায়। অনেক সময় চিকিৎসকের চেম্বারে রক্তচাপ মাপলে তা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি আসে, যাকে হোয়াইট কোট হাইপারটেনশন বলা হয়।
শরীরের অবস্থানও রক্তচাপের ওপর প্রভাব ফেলে। শোয়া অবস্থায় রক্তচাপ তুলনামূলক বেশি থাকে; দাঁড়ালে কিছুটা কমে যায়। আদর্শভাবে বসা অবস্থায়, পিঠ সোজা রেখে, হাত হৃৎপিণ্ডের সমান উচ্চতায় রেখে রক্তচাপ মাপা উচিত।
সঠিক রক্তচাপ পরিমাপের জন্য সকালে ঘুম থেকে উঠে বিশ্রাম নিয়ে চা-কফি বা ওষুধ গ্রহণের আগে রক্তচাপ মাপা উত্তম। পরপর দুবার মেপে গড় হিসাব নেওয়া ভালো। ভুল পদ্ধতিতে রক্তচাপ মাপলে অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা শুরু হতে পারে। তাই নিয়ম জানা অত্যন্ত জরুরি।
লেখক : মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট