শিরোনাম

প্রকাশিত : ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ০২:৫২ দুপুর
আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ০২:৫২ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

হারিয়ে যেতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী গরুর গাড়ী

গরুর গাড়ী

মোফাজ্জল হোসেন, দূর্গাপুর (রাজশাহী): স্বপ্ন ছুঁতে যাচ্ছে মানুষ। এককালে যা কল্পনা করে নি তাই এখন পেয়ে যাচ্ছে হাতের নাগালে। ইট পাথরের মতো মানুষও হয়ে পড়ছে যান্ত্রিক। মানুষ তার নিজস্ব ঐতিহ্য হারিয়ে ফেলছে তারই ধারাবাহিকতায় হারিয়ে যাওয়ার পথে এক সময়ের মানুষের যোগাযোগের প্রধান অবলম্বন গরুর গাড়ি।

পায়ে হাঁটা যুগের অবসান হওয়ার পর মানুষ যখন পশুকে যোগাযোগের মাধ্যম হিসাবে ব্যবহার করতে শিখলো তখন গরুর গাড়িই হয়ে উঠেছিল স্থল পথের যোগাযোগ ও পণ্য পরিবহনের প্রধান মাধ্যম। পণ্য পরিবহনের পাশাপাশি বিবাহের বরযাত্রী ও কনে বহনের ক্ষেত্রেও গরুর গাড়ির কোনো বিকল্প ছিল না।

কিন্তু কালের বিবর্তনে এই গরুর গাড়ি আজ হারিয়ে যাওয়ার পথে। স্থানভেদে কিছু কিছু জায়গায় পণ্য পরিবহনের জন্য গরুর গাড়ি ব্যবহার করা হলেও বিবাহের বরযাত্রী ও কনের পরিবহনের জন্য গরুর-গাড়ির কথা যেন আর চিন্তাই করা যায় না।

এক সময় গ্রাম বাংলার কৃষকের বাড়ি বাড়ি শোভা পেত নানা ডিজাইনের গরুর গাড়ি। গরুর গাড়িতে টোপর দিয়ে মানুষ এক স্থান থেকে অন্যস্থানে চলাচল করতো। টোপরবিহীন গরুর গাড়ি ব্যবহার হতো মালামাল পরিবহন, ব্যবসা, ফসল ঘরে তোলা বা বাজারজাতকরণের জন্য।

যান্ত্রিক আবিস্কার ও কৃষকদের মাঝে প্রযুক্তির ছোঁয়া লাগার কারণে গরুর গাড়ির স্থান দখল করে নিয়েছে চার্জারভ্যান, বাস, অটোরিকশা, নছিমন, করিমন, ভটভটি ইত্যাদি। কৃষকসহ সর্ব শ্রেণীর মানুষ এখন যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনের জন্য এ সকল যান্ত্রিক পরিবহনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

এখন আর গ্রামগঞ্জে আগের মতো গরুর গাড়ি চোখে পড়ে না। সারাদেশ থেকে যখন গরুর গাড়ি হারিয়ে যাওয়ার পথে তখনও বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের রাজশাহী জেলার প্রত্যন্ত দূর্গাপুর উপজেলার কিছু কিছু এলাকার কৃষকরা জমি থেকে ধান বাড়ির উঠানে নিয়ে আসার জন্য গরুর গাড়ি ব্যবহার করছেন

সম্প্রতি উপজেলার ঝালুকা ইউনিয়নের হাড়িয়াপাড়া গ্রামের রাস্তা দিয়ে গরুর গাড়ি নিয়ে যাওয়ার সময় কথা হয় একজন গাড়িয়ালের সাথে। তিনি জানান, সব রাস্তাঘাট পাকা হওয়ার কারণে গরুর গাড়ি আর চালানো সম্ভব হয় না।

তবে মাঠ থেকে ধান আনার ক্ষেত্রে বা গ্রামের দুর্গম এলাকায় ও রাস্তা ঘাট ভালো না থাকায় গরুর গাড়ি ছাড়া এখান থেকে জিনিসপত্র আনা নেয়া করা সম্ভব হয় না। এ কারণে গরুর গাড়ির ওপরই তাদের ভরসা করতে হয়।

তবে রাস্তা ঘাটের উন্নয়ন হলে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী এই গরুর গাড়িগুলো আগামি প্রজন্ম হয়তো আর দেখতে পাবে না। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, এমন এক সময় আসবে যখন বাংলাদেশে আর কোনো গরুর গাড়ি প্রচলন থাকবে না। তখন গরুর গাড়ি হবে শুধুই মাত্র ইতিহাস।সম্পাদনা: আল আমিন 

  • সর্বশেষ