ইন্ডিয়া টুডে, ক্যারিলোহা ডটকম বহুমুখী ব্যবহারযোগ্য উদ্ভিদ হিসেবে বাঁশের গুরুত্ব অনেক। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা থেকে শুরু করে মানুষের জীবিকা ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে বাঁশের ভূমিকা অপরিসীম। বাঁশ মাটির ক্ষয় রোধে সহায়তা করে এবং কার্বন শোষণের মাধ্যমে পরিবেশ সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি কৃষক ও কারুশিল্পীদের জন্য এটি আয়ের সুযোগ তৈরি করে। বাঁশের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের মানুষের গভীর সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যগত সম্পর্ক আছে। ঘর-বাড়ি নির্মাণ, বাদ্যযন্ত্র, কারুশিল্প ও নানা আচার-অনুষ্ঠানে এর ব্যবহার রয়েছে। বর্তমানে নির্মাণসামগ্রী, প্যাকেজিং, আসবাব, বস্ত্র এমনকি পরিবেশবান্ধব জ্বালানি তৈরিতেও বাঁশের ব্যবহার বাড়ছে।
বাঁশের ব্যবহার
এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকায় হাজার হাজার বছর ধরে ঘর-বাড়ি নির্মাণ, কারুশিল্প, খাদ্য ও চিকিৎসায় বাঁশ ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিভিন্ন সংস্কৃতির সঙ্গে বাঁশের এই বহুমুখী ব্যবহার গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। বাঁশের বিশেষত্ব ও গুরুত্ব বোঝানোর জন্য সাতটি কারণ তুলে ধরা হলো:
মাটির সুরক্ষা
বাঁশ কোনো ক্ষতিকর রাসায়নিক বা কীটনাশক ছাড়াই প্রাকৃতিক মাটিতে বেড়ে উঠতে পারে। ফলে মাটির স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং মাটি দূষণের ঝুঁকিও কমে।
সমুদ্র ও জলাশয় রক্ষা
সামুদ্রিক পরিবেশের দূষণের বড় একটি অংশ স্থলভাগ থেকে আসে। বৃষ্টির পানির সঙ্গে বিভিন্ন দূষিত পদার্থ নদী, খাল ও সমুদ্রে গিয়ে পড়তে পারে। বাঁশ কাটার পর এর শেকড় মাটিতে থেকে যায় এবং নতুন করে বীজ বপনের প্রয়োজন হয় না। একই সঙ্গে বাঁশ চাষে ক্ষতিকর রাসায়নিক বা আগাছানাশকের প্রয়োজন না থাকায় মাটির স্বাস্থ্য ভালো থাকে। ফলে দূষিত পানি ও রাসায়নিক পদার্থ জলাশয় ও সমুদ্রে প্রবাহিত হওয়ার ঝুঁকি কমে।
বায়ু বিশুদ্ধ রাখতে
বায়ুদূষণ ও বায়ুমণ্ডলে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে। বাঁশ এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। গবেষণায় দেখা যায়, সমপরিমাণ জমিতে বেড়ে ওঠা গাছের তুলনায় বাঁশের ঝাড় প্রায় ৪৫ শতাংশ বেশি কার্বন-ডাই-অক্সাইড শোষণ এবং ৩৫ শতাংশ বেশি অক্সিজেন উৎপাদন করতে পারে।
প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠে
অনেক উদ্ভিদ চাষে ব্যবহৃত সার মানুষের ও পোষা প্রাণীর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। বিশেষ করে সার ও রাসায়নিকের কিছু উপাদান শরীরে প্রবেশ করলে বিষক্রিয়া ঘটতে পারে। বাঁশ বেড়ে ওঠার জন্য সাধারণত সার, কীটনাশক বা ক্ষতিকর রাসায়নিকের প্রয়োজন হয় না। ফলে অন্যান্য রাসায়নিকনির্ভর ফসল বা উপকরণের তুলনায় বাঁশ চাষ পরিবেশের ওপর কম ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। বাঁশ মাটির নাইট্রোজেন ধরে রাখতে সহায়তা করে এবং পরিবেশে অতিরিক্ত রাসায়নিক যোগ করে না।
নিজে থেকেই জন্মায়
বিশ্বের মোট স্থলভাগের প্রায় ৩০ শতাংশ এখনো বনভূমিতে আচ্ছাদিত। তবে বন উজাড় ও বনভূমির অবক্ষয়ের কারণে তা দ্রুত কমছে। বাঁশ কাটার পর এর শেকড় মাটিতে থেকে যায় এবং সেখান থেকেই নতুন বাঁশ জন্মায়। এজন্য নতুন করে বীজ বপন বা ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না। প্রয়োজন শুধু সুস্থ মাটি, সূর্যের আলো ও পানি। এভাবে বাঁশের জীবনচক্র অব্যাহত থাকে। এটি প্রাকৃতিক পরিবেশকে সমৃদ্ধ ও পুনরুজ্জীবিত করতে সহায়তা করে।
মাটির ক্ষয় রোধ
বড় গাছের বন উজাড় করে জমি চাষের জন্য ব্যবহার করলে বৃষ্টির পানিতে ওপরের উর্বর মাটি ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি ধুয়ে যেতে পারে। এতে মাটির ক্ষয় ঘটে। বাঁশ সংগ্রহের পরও এর শেকড় মাটিতে থেকে যায় এবং নতুন বাঁশ জন্মাতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে শেকড় মাটিকে শক্ত করে ধরে রাখে। ফলে মাটির ক্ষয় কমে এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি ধরে রাখা সম্ভব হয়। খরাপ্রবণ ও শুষ্ক এলাকায়ও বাঁশ বেড়ে উঠতে পারে। বাঁশ কাটার পর শেকড় মাটিতে থেকে যাওয়ায় মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখতেও এটি সহায়তা করে।
ত্বকের জন্য আরামদায়ক
বাঁশের ভিসকস বা লায়োসেল দিয়ে তৈরি বিছানার চাদর, তোয়ালে, পোশাকসহ বিভিন্ন পণ্য সাধারণত নরম ও আরামদায়ক। এসব উপকরণে দুর্গন্ধ ও অ্যালার্জি প্রতিরোধের কিছু প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যও থাকতে পারে। বাঁশের তৈরি কাপড় স্পর্শে মসৃণ ও কোমল হওয়ায় অন্যান্য কিছু কাপড়ের কারণে যে ত্বকের অস্বস্তি বা জ্বালাপোড়া হতে পারে, তা কমাতে সহায়তা করতে পারে।
এ ছাড়া বাঁশের তৈরি টেকসই পণ্য ব্যবহারের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন হওয়া জরুরি। বাঁশভিত্তিক পরিবেশবান্ধব পণ্য ব্যবহার করলে ব্যবহারকারীর আরাম নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষায়ও অবদান রাখা সম্ভব। অনুবাদ: জাগোনিউজ